আমার এবারের ভারত সফর এর উদ্দ্যেশ্য ছিলো উপমহাদেশের বিখ্যাত সূফী অলী আউলিয়াদের দরগাহ জিয়ারত ইতিহাস, স্থাপনা এর উপর । এবং পুরো সফরে আমি মুলত একাই ছিলাম। পরিকল্পনা মাফিক দিল্লি,পাঞ্জাব,হরিয়ানা,রাজস্থান আজমীর শরীফ সফর করি। তবে আজকে বলবো বিখ্যাত আউলিয়া হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়ার দরগাহ নিয়ে।
আমি মোহাম্মদ পলাশ বাংলাদেশ লোকাল গাইড কমিউনিটির একজন সদস্য। পেশায় ব্যাবসায়ী নেশায় একজন ভ্রমন প্রিয় মানুষ। সময় পেলেই দেশের আনাচেকানাচে ঘুরতে বের হই তবে দেশের বাহিরে খুব একটা ভ্রমন হয়নি।
নিউ দিল্লিতে আমি পাহাড়গঞ্জ একটি হোটেলে উঠেছিলাম পরিকল্পনা মাফিক ভোরে ১২০ রুপি ভাড়ায় সি এন জি তে করে চলে যাই নিজামুদ্দিন আউলিয়ার দরগাহ তে। মাজারে মুল প্রবেশ পথ টা খুব রহস্যময় খুব সরু এবং ডানে বায়ে অনেক অলিগলি তবে স্থানীয় দের সাহায্য অল্প কিছুখনের মধ্যেই মুল দরগাহতে পৌছে যাই। মাজার এরিয়ার আশেপাশে প্রচুর ফুল, ফুলের তোড়া, ফুলের মালা, ফুলের থালার পসরা সাজিয়ে বিভিন্ন দোকানি বসে আছেন। এমনই এক দোকান থেকে ফুল কিনে নেই এবং নিজের জুতো জোড়া সেখানেই রেখে আসি। এখানে সবাই খুব হেল্পফুল খুব আল্লাহভীরু তবে মনে রাখবেন এটা একটা ধর্মীয় স্থাপনা তাই অবশ্যই আদবের খেলাফ হয় এমন কিছু করবেন নাহ।
বেশ খানিকটা সময় মাজারে থাকি পাশাপাশি নিজামুদ্দিন আউলিয়া রহঃ শিষ্য হযরত আমীর খসরু রহঃ এর মাজার ও জিয়ারত করি যা কিনা পাশেই অবস্থিত ছিলো। পাশেই ছিলো পুরনো স্থাপনা মসজিদ। মুল মাজারের কারুকার্য গুলো ছিলো দেখার মত একদম আপনাকে বিমোহিত করে দিবে। এখানে প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে কাওয়ালী গানের আসর বসে তবে রাতে যাওয়া হয়নি বিধায় সেই অভিজ্ঞতা নিতে পারিনি।
হযরত শায়খ খাজা সৈয়দ মুহাম্মদ নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রাঃ) এর সংক্ষিপ্ত পরিচয়↙️
তিনি হযরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া নামে পরিচিত, তিনি ভারতীয় উপমহাদেশ এর মধ্যে চিশতিয়া তরিকার একজন বিখ্যাত সূফী সাধক এবং আউলিয়া ছিলেন। হযরতের পূর্বসুরীদের মধ্যে হজরত ফরিদ গাঞ্জশাকার রহঃ হজরত বখতিয়ার কাকী রহঃ এবং গরীবে নেওয়াজ হজরত খাজা মঈনউদ্দীন চিশতী (রঃ) ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের চিশতিয়া তরিকায় আধ্যাত্মিক বুজুর্গগন। এবারের সফরের পরবর্তীতে লিখা গুলোতে আমি পর্যায়ক্রমে হযরত বখতিয়ার কাকী রহঃ ইমামে রব্বানী মুজাদ্দেদ আলফেসানী রহঃ সহ অন্যান্য আউলিয়াদের মাজার,দরগাহ জিয়ারত এর অভিজ্ঞতা তুলে ধরবো।
হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রঃ), তার পূর্বসুরীদের মত, ঈশ্বর কে বুঝতে ভালোবাসার জোর এবং তার জন্য ঈশ্বরের প্রেম মানে মানবতার প্রেম এ বিশ্বাসে বিশ্বাসী ছিলেন। তার ধর্ম – নিরপেক্ষতা ও উদারতা এবং অত্যন্ত প্রসূত জ্ঞানের জন্য দিল্লি মুসলমানদের উপর তার প্রভাব আর উপলব্ধ প্রবলভাবে বিস্তার হয়েছিল। ১৪ তম শতাব্দীর ইতিহাস লেখক জিয়াউদ্দিন বারানি দাবি করেন, যে দিল্লি মুসলমানদের উপর তার প্রভাব এবং উপলব্ধীর কারনে তাদের পার্থিব বিষয়ের দৃষ্টিভঙ্গীর ব্যাপক পরিবর্তন হয়।
হজরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া গিয়াসপুর খানকা শরিফ করার আগে দিল্লির বিভিন্ন শহরে বসবাস করেন।শহর জীবনের গোলমাল এবং তাড়াহুড়া র জন্য তিনি এখানে খানকা শরিফ করেন। তিনি ১৩২৫ সালের ৩ই এপ্রিল সকালে পর্দা গ্রহন করেন। তার দরগাহ দিল্লিতে অবস্তিত, উনার দরগা বর্তমান কাঠামো ১৫৬২ সালে নির্মাণ করা হয়। তার পর্দা গ্রহনের দিন প্রতি বছর এখানে ওরশ হয় এবং লাখ লাখ ভক্ত আশেকগান তার দরগাহ জিয়ারত করতে আসেন। এ ছাড়াও সারাবিশ্ব থেকে সারাবছর ভক্ত আশেকগানের সমাগম হয়ে থাকে।
আমি যেদিন দিল্লিতে পৌছাই তার পরদিন থেকেই শুরু হয় হাল্কা কুয়াশা। এই লিংকে গিয়ে পড়তে পারেন দিল্লিতে আমার প্রথম দিনের ভ্রমন↙️
https://www.localguidesconnect.com/t/the-delhi-stories-new-delhi-palashinendlessdestinations/470159?u=mohammadpalash
#bdlg #localguidesbd #Banglareshlocalguide #Delhi #localguideconnect #letsguide













