মিটাপ টাইটেল: “Mountain edge to sea shore map editing & cycling expedition meetup”
BDLG মিটআপ নং: ২৭৬
উপস্থিত সদস্য: ৩ জন।
সর্বমোট সাইক্লিং: ২০৫± কি.মি।
জেলা ভ্রমন: ২ টি
স্থান যুক্ত করা: ৮ টি
স্থান ইডিট: ৪ টি
স্প্যাম রিমুভ: ৪৩ টি
রিভিউ: ১৪ টি
পেন্ডিং: ৬ টি
ফটো এড: ৫২ টি ভিন্ন প্লেসের ৯৬ টি ছবি
মিটাপ ও ভ্রমনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
প্রথম দিন: সোনারগাঁ থেকে বান্দরবান এর বাসে উঠে যাত্রা শুরু করি। সকালে নেমে সাইকেল ফিটিং করে যাত্রা শুরু করি। এইদিন আমাদের রুট ছিলো: বান্দরবান - চিম্বুক- নীলগিরি - নীল দিগন্ত হিল রিসোর্ট।
পাহাড়ি রাস্তায় আপহিল ও ডাউনহিলের কষ্টকর ভ্রমণ একদিকে যেমন ক্লান্তি আনে অন্যদিকে সবুজের সমারোহ ও পাহাড়ি রাস্তা নিমিষেই মনকে উৎফুল্ল করে তোলে।
এদিন ক্যাম্পিং করে থাকার ইচ্ছে ছিলো, কিন্তু প্রচন্ড ক্লান্ত ও ক্ষুদার্ত থাকার কারনে লোকাল একটা ঘরে থাকা ও খাওয়ার ব্যাবস্থা করি। মিলিয়ন মিলিয়ন তারা ছিলো আকাশ জুড়ে, আর পাহাড় এর উঁচুতে থাকায় অসাধারণ এক রাত অতিবাহিত করেছিলাম।
দ্বিতীয় দিন: ভোর সকালে উঠে উপর থেকে কুয়াশার বিছানা দেখে অভিভূত হয়ে শুরু করি যাত্রা। সেদিন লক্ষ্য ছিলো থানচি হয়ে ডিম পাহাড় পার হয়ে আবারো উচুতে রাত্রিযাপন করার। রুট ছিলো বলিপাড়া ঢাল- বলিপাড়া বিজিবি ক্যাম্প- থানচি- ডিম পাহাড়- ১৭ কিলো পাড়া।
একদম প্রত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা নয় কারন, প্রচুর টুরিস্ট এই পথে চলে। তবুও বেশীরভাগ দোকান এর সাইনবোর্ড বা নেমপ্লেট নেই, বিশেষ করে পাহাড়ি উপজাতি যারা ব্যাবসা করে তাদের। তাই অনেক ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান ম্যাপে এড করা সম্ভব হয়নি।
সকালের পর থানচি এবং দুপুরের পর ডিম পাহাড় পৌঁছতে পেরেছিলাম। অবশেষে সন্ধ্যার আগে ১৭ কিলো পাড়ায় পৌঁছে সেখানে আশ্রয় চাই। এরপর একটা পাহাড়ি মাচাং ঘরে থাকা ও খাওয়ার ব্যাবস্থা হলো। রাতে রান্না করে খেয়েই স্লিপিং ব্যাগে ঢুকে ঘুমিয়ে পড়ি।
তৃতীয় দিন: ভোরে বের হয়ে পাড়ার কৌতুহলী ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের সাথে চকলেট ও ভালোবাসা বিনিময় করে ওদেরকে বিদায় দিয়ে আলীকদম হয়ে কক্সবাজার পৌঁছানোর টার্গেট। পথটা বেশ কষ্টের ও লম্বা। রাত প্রায় ৮ টার দিকে পৌঁছে যাই কক্সবাজার হয়ে মেরিন ড্রাইভ রোডে ইনানী পার হয়ে ক্যাম্পিং করে তাবুতে থাকি।
এই দিন রুট ছিলো: ১৭ কিলো পাড়া- আলীকদম - হাসেরদীঘি বাজার- কক্সবাজার- ইনানী
চতুর্থ দিন: ভোরে উঠে সমুদ্র দেখে তাবু গুছিয়ে নাস্তা সেরে রওনা হই টেকনাফ এর দিকে। রাস্তার মেরামত কাজ হচ্ছে বিধায় জ্যাম ও ভাঙা রাস্তা। একপাশে পাহাড় ও একপাশে সমুদ্রের মাঝে সাইক্লিং করতে যে আনন্দ তা ছবি বা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। হেলে দুলে সমুদ্র উপভোগ করে সাইকেল চালিয়ে চালিয়ে সন্ধ্যার আগে টেকনাফ পৌঁছে যাই।
রূট ছিলো: ইনানী- শামলাপুর- টেকনাফ।
মন্তব্য: এই পাহাড়ি অঞ্চলে গুগল ম্যাপ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। বিশেষ করে আমাদের প্রতিদিনের রুট সিলেক্ট, দুরত্ব পরিমাপ ও রেষ্টুরেন্ট, হোটেল বা পাহাড়ি গ্রাম খুজে পেতে সাহায্য করেছে। তবে এই প্রত্যন্ত এলাকায় স্প্যাম ও ভুল লোকেশন এর পরিমাণ ও অনেক। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি স্প্যাম মুক্ত করার ও প্লেস এর ভুল সংশোধন করে ছবি যুক্ত করার।
আশাকরি সামনে ও এমন ম্যাপ এডিটিং সাইক্লিং মিটাপ এর আয়োজন করবো এবং সারা পৃথিবী জুড়ে এটা চালু হয়ে জনপ্রিয় হবে। কারন সাইক্লিং করে ভ্রমণ করলে যেখানে সেখানে ইচ্ছেমতো দাড়ানো যায়। লোকাল মানুষদের সাথে মিশে তাদের ম্যাপ সম্পর্কিত সমস্যা জানা ও সমাধান করা যায়।
যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি বাস্তবে:
- পাহাড়ে অসংখ্য ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে দোকান এর নাম, সাইনবোর্ড বা ব্যানার না পাওয়ায় প্লেস এড করতে না পারা।
- বেশ কিছু পাহাড়ি জায়গায় নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ না পাওয়ায় সেখানে উপস্থিত থাকা অবস্থায় ম্যাপ ইডিট করতে না পারা।
#Explorehilltosea #Bikepacking #Meetup #bdlg #bangladeshlocalguides
































