Elmina Lakeside Mall–মালয়েশিয়াতে এক রিল্যাক্সড ফটোওয়াক ও ডিনার ডে পার করলাম।
২১ ডিসেম্বর হঠাৎ করেই একটি প্ল্যান হলো—২২ ডিসেম্বর সবাই মিলে কোথাও ঘুরতে যাবো। জায়গা হিসেবে ঠিক হলো Elmina Lakeside Mall, কারণ সেখানে একসাথে অনেক কিছু উপভোগ করার সুযোগ আছে—লেক, হাঁটার জায়গা, ফটোওয়াক, আর ভালো রেস্টুরেন্ট।
আমরা ১২জন ২২ডিসেম্বর ২০২৫- বিকেল ৫টায় বাসা থেকে বের হই। আগে এক জায়গায় মিলিত হয়ে তারপর একসাথে দুইটি গাড়িতে করে রওনা দিই। কুয়ালালামপুর থেকে গাড়িতে মাত্র ৩৫ মিনিটের পথ। সেদিনের আবহাওয়া ছিল বৃষ্টিভেজা—সারাদিন বৃষ্টি আর মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছিল। যাওয়ার পথে দুই পাশের সবুজ পাহাড় আর গাছের ফাঁকে ফাঁকে মেঘের নাচ সত্যিই মন ছুঁয়ে গিয়েছিল।
Elmina Lakeside Mall আর Central Park খুব কাছাকাছি। সেখানে পৌঁছে প্রথমেই চারপাশে হেঁটে দেখলাম। পার্কিং যথেষ্ট আছে, এমনকি OKU (Accessibility) parking ও অ্যাক্সেসিবল ওয়াকিং স্পেসও রয়েছে—যেটা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে কিছু রেস্টুরেন্টে এখনও পুরোপুরি অ্যাক্সেসিবল প্রবেশপথ নেই—এটার কাজ চলছে।
পার্কের মাঝখানে লেকের উপর ফোয়ারা, আর একটি সুন্দর লাল রঙের ব্রিজ পুরো জায়গাটাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। আমরা সবাই হেঁটে হেঁটে সেই জায়গাগুলো ঘুরে দেখলাম। যেহেতু ডিসেম্বর ও ক্রিসমাসের সময়, তাই চারপাশ লাল-সবুজ আলো ও সাজে ভরা ছিল। ২৪–২৭ ডিসেম্বর ঘিরে বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটিও চলছিল, যা পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছিল।
চারপাশে অনেক হালাল রেস্টুরেন্ট চখে পরলো, আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম ইন্দোনেশিয়ান খাবার খাবো। তাই ডিনারের জন্য গেলাম Ole Ole Bali-তে। রেস্টুরেন্টের এন্ট্রান্স আর ডেকোরেশন ছিল অসাধারণ—মনে হচ্ছিল সত্যিই যেন বালিতে চলে এসেছি। কাঠের পুরনো দরজা, নরম লাইটিং—সব মিলিয়ে ভিন্ন এক সৌন্দর্য ।
সবাই নিজের মোবাইলে ছবি তুললাম, আপলোড করলাম। মনে হচ্ছিল—সারাদিন ফটোওয়াক করতে পারলে আরও ভালো হতো! সবাই ভীষণ ক্ষুধার্ত ছিল, তাই মন খুলে অর্ডার করা হলো। রাইস ও চিকেনের একটি ডিশ আমার বিশেষভাবে খুব ভালো লেগেছে। খাবারের স্বাদ, পরিবেশনা, এমনকি ওয়েটারদের ব্যবহার—সবকিছুই ছিল প্রশংসার যোগ্য। মজার বিষয়, সেখানে আমরা একজন বাংলাদেশিকেও পেয়েছিলাম।
খাবার শেষে অবশ্যই একটি গ্রুপ ফটো
। তারপর চললো গল্প—কিভাবে আমরা Google Maps-এ কনট্রিবিউট করি, কেন এই কাজটা আমাদের ভালো লাগে—এসব নিয়েই দীর্ঘ আড্ডা।
সবশেষে সবাই যার যার গন্তব্যে ফিরে এলাম। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১২টা বেজে গিয়েছিল। অনেকদিন পর এমন একটি দিন—ভীষণ রিল্যাক্সিং, মনটা একদম ফ্রেশ হয়ে গেল। ![]()
এমন হঠাৎ প্ল্যানই কখনো কখনো সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকে। জানুয়ারি ২০২৬- এ এই জায়গায় আমার আবার মিটাআপ আয়োজন করার পরিকল্পনা আছে ।সেই সময়ে আরো বিস্তারিত শেয়ার করবো।








