প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট: এক অনন্য হাওর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা

হঠাৎ করে করা প্ল্যান গুলা বেস্ট প্ল্যান হয় সবসময়। তেমনি হঠাৎ করেই প্ল্যান করে সকালে ভোরে ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে রওনা হয়েছিলাম আমরা ২ জন। গন্তব্য কিশোরগঞ্জের বালিখলা ঘাট
ঢাকা থেকে রাজেন্দ্রপুর হয়ে কাপাসিয়া হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর পর্যন্ত প্রায় ১২০–১৩০ কিমি, সময় লাগে প্রায় ৪ ঘণ্টা
কিশোরগঞ্জ শহর পেরিয়ে বালিখলা ঘাটের দূরত্ব আরও প্রায় ১০ কিমি
রাস্তা ভালো, তবে শেষ দিকে কিছু অংশ সরু ও বাঁকানো। আমরা অনলাইনে ফেইসবুকে অষ্টগ্রাম প্রেসিডেন্ট রিসর্টের ২ টি রুম বুক দেই ৫০% ছাড়ে ৮০০০ টাকায়।
গাড়ি পার্কিং ঘাটের পাশেই পাওয়া যায় — পার্কিং চার্জ ৫০–১০০ টাকা। তবে আমাদের জন্য প্রেসিডেন্ট রিসর্টের নির্ধারিত ফ্রি পার্কিং ছিল।

বালিখলা ঘাট থেকে নৌভ্রমণ শুরু
বালিখলা ঘাটে পৌঁছেই হাওরের বাতাসে এক অন্যরকম প্রশান্তি। বিশাল নীল আকাশ, পানিতে ভাসমান নৌকা আর দূরে দূরে গ্রামের ঘরবাড়ি।
সেখান থেকে আমরা ইঞ্জিনচালিত নৌকা (স্পিডবোট নয়) ভাড়া করি ৬০০০ টাকায়।

নৌকা ভাড়া:
ছোট নৌকা (৮–১০ জন): ২,৫০০–৩,০০০ টাকা (একপথে)
বড় নৌকা (ছাউনি ও বিশ্রাম ব্যবস্থা সহ): ৪,০০০–৫,০০০ টাকা
পুরোদিনের ট্যুর (নিকলী–মিঠামইন–অষ্টগ্রাম ঘুরে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট): ৬,০০০–৮,০০০ টাকা।

কখন যাওয়া সবচেয়ে ভালো?

এই রিসর্টটি মূলত হাওরের পরিবেশে অবস্থিত। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি: এই সময় বাংলাদেশে শীত মৌসুম, আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে।

হাওরের পানিও তুলনায় স্থির ও পরিষ্কার হয়, ভ্রমণের জন্য সুবিধাজনক।

রিসোর্ট-বাস্তব পরিবেশ উপভোগ করার জন্য এই সময় সবচেয়ে উপযুক্ত।

বর্ষা সময় (জুলাই-অক্টোবর): হাওর পানি তুলনায় বেশি হয়, বর্ষার আগে এবং পরে কেউ-কেউ যায়। তবে অনেক রাস্তা ও পরিবহন সুবিধা সীমিত হতে পারে। কিন্তু হাওরের পানি দেখতে হলে যেতে হবে এই সময়ে।

নৌকা যখন হাওরের বুকে ভেসে চলে, মনে হয় যেন পানির রাজ্যের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। চারপাশে শুধু পানি আর দূরে সবুজ গাছপালা।
মাঝে মাঝে দেখা মেলে জেলেদের জাল ফেলার দৃশ্য, হাওরের পাখির ডাক, আর হাওরের পাশে নয়নাভিরাম ঘরবাড়ি।

তারপর পথ ধরে মিঠামইন ইকোনমিক জোন ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদের জন্মস্থান পার হয়ে অষ্টগ্রাম।
অষ্টগ্রাম উপজেলা সদর এখন অনেক উন্নত রাস্তা, সেতু আর নদীপথে সৌন্দর্যের মিশেল। বিকেলটা থেকে অষ্টগ্রাম ঘুরাঘুরি করে আবার ইঞ্জিন চালিত নোকায় করে রওনা দেই প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের উদ্দেশ্যে। ভাড়া নেয় ৬০০ টাকা। সন্ধ্যার আগের হাওরের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে করতে চলে যাই প্রেসিডেন্ট রিসোর্টে।

হাওরের মাঝখানে রিসোর্টের অপরুপ দৃশ্য সকল ক্লান্তি দূর করে দেয় এক নিমিষে।

রিসোর্টে ওয়েলকাম ভালো ছিল। রুম পরিপাটি। বর্তমান ম্যানেজমেন্ট একেবারে নতুন এবং প্রোফেশনাল না। তবে তাদের চেষ্টার কমতি ছিল না। রাতের ডিনারে ফ্রেশ আইর মাছ এর দোপেঁয়াজা, সরপুঁটি মাছ এর কারী, ফলি মাছ ভাজি, মুরগি ভুনা ও কলা ভর্তা দিয়ে পরিবেশন করে। ফ্রেশ এবং মজা ছিল। রাতের রিসোর্ট এর ভিউ অসাধারণ ছিল। আমরা হাওরে গোসল করি, মাছ ধরি। সেই মাছ ওরা ভেজে দেয়।

এই ভ্রমণটা যেন প্রকৃতির কোলে ফিরে যাওয়া। শহরের কোলাহল ছেড়ে হাওরের নীরবতা, পানির ঢেউ, আর দূরে বক–চিলের উড়ান – সবকিছু মিলে এক অন্যরকম শান্তি এনে দেয় মনে। সন্ধ্যার পর যখন ফিরে আসি, হাওরের উপর সূর্যাস্তের আলোতে চারপাশ রাঙা হয়ে যায়।

মনে হয়, ভ্রমণের সময় যদি একটু দীর্ঘ হতো! ছুটির দিনের রিফ্রেশমেন্ট এর বেস্ট একটা অপশন হবে এই প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট।

14 Likes

এক পোস্টে সব তথ্য দারুন লিখেছেন কোন সময় গেলে ভাল তাও যুক্ত করে দিতে পারেন @Jahangir

2 Likes

@MahabubMunna

Vhai Thanks… Info added Vhai as per your suggestions…

1 Like

Another great post @Jahangir vai,
Thanks for sharing in ditails.

2 Likes

@Jahangir I have heard many stories about the President Resort but have never been there. Seeing the pictures you provided has increased my desire to visit the President Resort. Thank you very much for sharing the pictures.

1 Like

Hello @Jahangir,

Please be advised that I changed some of the tags of your topic as they were not relevant to your story. Make sure to add tags that best describe what you are sharing. For more information, please read this topic: What are Connect tags and how to use them?

Sone serene Photography has done by the photographer. So cool.

2 Likes

ধন্যবাদ সুন্দর করে পোস্ট লিখার ও আমাদেরকে জানানোর জন্যে @Jahangir ভাই।

Sehr schöne Bilder, die Landschaft ist sehr reizvoll und die Beschreibung gefällt mir gut @Jahangir :folded_hands:

1 Like

অসাধারণ লিখেছেন ভাইজান @Jahangir

1 Like

I learned a lot from reading the post, brother, and saw many things I had never seen before. Thank you very much for writing and informing us in such a beautiful way. :sparkles::sparkles:

1 Like