কিন্তু কাজের ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা আর অলসতা আমাকে সবসময় আটকে রেখেছে। আমরা যারা রাত জেগে কাজ করি, মানসিক চাপ আর ক্লান্তি আমাদের নিত্যসঙ্গী। অনেক অনুভূতি থাকে যা কারও সঙ্গে ভাগ করা যায় না, হয়তো কেউ বুঝতেও পারে না।
তবুও একদিন ঠিক করলাম—আজকের সকালটা নিজের জন্য রাখব।
আমাদের এক ভাই আছে, সেও অনলাইনে কাজ করে, কিন্তু তার জীবন একেবারেই অন্যরকম। সে হাসিখুশি, রিল্যাক্সড, আর জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে জানে। তার কাছ থেকে আমি শিখেছি, জীবনে রুটিন থাকা দরকার। জীবন যদি সাজানো না থাকে, আমরা নিজেদেরই হারিয়ে ফেলি।
সেদিন সকালে শহরের কোলাহল থেকে বেরিয়ে রাজশাহীর বিখ্যাত টি-বাঁধে গেলাম। চারপাশটা ছিল যেন স্বর্গের মতো—পাখির কিচিরমিচির, বাতাসে নদীর শীতল গন্ধ, আর নদীর ঢেউয়ের মৃদু শব্দ। রাস্তার ধারে হাঁটতে হাঁটতে দেখি অচেনা কিছু মানুষ, যাদের মুখে ক্লান্তি আছে, কিন্তু তাদের জীবন নিয়ে গল্পে ভরপুর। তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বললাম। অচেনা মানুষের অভিজ্ঞতা শোনা কখনও কখনও বইয়ের মতোই শিক্ষা দেয়।
হাঁটাহাঁটি শেষে বসে খেলাম এক প্লেট গরম খিচুড়ি আর ভাজা ডিম। সহজ এই খাবারটাই যেন মনে শান্তি এনে দিল। সেই মুহূর্তে মনে হলো, সুখ আসলে অনেক ছোট ছোট মুহূর্তের ভেতর লুকিয়ে আছে।




