বনবিলাস চিড়িয়াখানা
শহরের যান্ত্রিক পরিবেশ ছেড়ে একটু সবুজ শ্যামল পরিবেশে ঘুরতে কার না ভালো লাগে। তাই ছুটির দিনে বেরিয়ে পড়লাম গন্তব্য বনবিলাস চিড়িয়াখানা,জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট,গিলাতলা,খুলনা।বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত চিড়িয়াখানা দেখার শখ অনেকদিন ধরে।যেই কথা সেই কাজ। বেরিয়ে পড়লাম সকাল সকাল। আমার সঙ্গী মটরবাইক নিয়ে।ঝালকাঠি থেকে সকাল আটটায় রওয়ানা হলাম, ১০ টায় খুলনা শহরে পৌছালাম, খুলনা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত বনবিলাস চিড়িয়াখানা। আমি আজকে শেয়ার করব আমার মজার অভিজ্ঞতা।
বনবিলাস চিড়িয়াখানা,জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট,খুলনা।বনবিলাস চিড়িয়াখানার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
জাহানাবাদ সেনানিবাসের পশ্চিম প্রান্তে ছায়া সুনিবিড় শান্ত পরিবেশে মোট ১৪০০ বর্গমিটার এলাকা নিয়ে বনবিলাস চিড়িয়াখানার অবস্থান। ১৯৮৪ সালে এএসসি সেন্টার এবং স্কুলের কমান্ড্যান্ট কর্ণেল মোহাম্মদ আঃ রব, পিএসসি এর তত্ত্বাবধানে ০১টি মেছো বাঘ, ০৪টি রেসাস বানর, ০২টি হনুমান, ০১টি কুমির ছানা, ০১টি সারস পাখি, ০১ জোড়া রাজহাঁস এবং ০১ জোড়া চীনা হাঁস নিয়ে চিড়িয়াখানাটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠা লাভের পর ১৯৮৬ সালের ০৮ই নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এর শুভ উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনী প্রধান লেঃ জেনারেল মোঃ আতিকুর রহমান, জি+। প্রতিষ্ঠাকালে চিড়িয়াখানার প্রবেশ পথটি এর দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে একটি সংযোগ সেতুর মাধ্যমে বনবিলামের মূল পথের সাথে সংযুক্ত ছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে উক্ত স্থান হতে সেতু ও চিড়িয়াখানার প্রবেশ পথ স্থানান্তর করে বর্তমান অবস্থানে আনয়ন করেন এএসসি সেন্টার এবং স্কুলের কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেন নূরুজ্জামান খান, এনডিইডি, পিএসসি। ২২ অক্টোবর ১৯৯৮ তারিখে নবনির্মিত সেতুটির শুভ উদ্বোধন করেন মেজর জেনারেল জামিল ডি আহসান, বিবি, পিএসসি, এরিয়া কমান্ডার, যশোর। কালের পরিক্রমায় এই চিড়িয়াখানার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে এবং নতুন নতুন প্রাণির সংযোজনের মাধ্যমে চিড়িয়াখানার কলেবর ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে। বনবিলাস চিড়িয়াখানার অন্যতম প্রধান সংযোজন পাখিদের নিরাপদ বিচরণ ক্ষেত্রে “পাখি বিলাস” স্থাপিত হয় ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে যার শুভ উদ্বোধন করেন বেগম শারমিন জামান চৌধুরী ০৭ অক্টোবর ২০১৬। চিড়িয়াখানার সার্বিক মান উন্নয়ন কার্যক্রম এর অংশ হিসেবে একটি হাতি ও একটি জিরাফ এর ভাস্কর্য স্থাপন সহ এর মূল ফটকটি নবনির্মাণ করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম নূরুজ্জামান চৌধুরী, পিএসসি, কমান্ড্যান্ট, এএসসি সেন্টার এবং স্কুল যার শুভ উদ্বোধন করা হয় ১১ নভেম্বর ২০১৬।
চিড়িয়াখানার ভিতরে
কিভাবে আসবেন এবং খরচ কেমনঃ বাংলাদেশ যে কোন প্রান্ত থেকে খুলনা শহরে এসে অটো রিক্সা যোগে আসতে পারবেন ভাড়া ৩০-৫০ টাকা জনপ্রতি। এই চিড়িয়াখানায় প্রবেশের টিকিট মূল্য ৪০ টাকা।
সম্পুর্ন চিড়িয়াখানার ভিডিও(মোবাইলে ধারনকৃত)
যদি একথায় বলি তাহলে বলব অসাধারন একটি চিড়িয়াখান, না দেখলে বিশ্বাস হবেনা। তবে এখানের পরিবেশ এত সুন্দর চোখে পড়ার মত। সারাদিন থাকলে ও আপনি বিরক্ত হবেন না। ক্লান্ত হবেন না অনেক বড় এরিয়া জুরে এই চিড়িয়াখানা।
ভ্রমন করুন দেশকে জানুন।




