আমরা চারজন বান্দরবানের মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র আর নীলাচল-এ গিয়েছিলাম হুটহাট একটা প্ল্যান করে। আমাদের ভ্রমণ শুরু হয়েছিলো চট্টগ্রামের নতুন ব্রীজ (শাহ্ আমানত ব্রীজ) থেকে। বান্দরবানের মেঘলা আর নীলাচল ঘুরে আবারও চট্টগ্রামের নতুন ব্রীজ-এ এসে আমাদের ভ্রমণ শেষ হয়। এই ভ্রমণ গল্পে থাকবে সারাদিনের ঘটনাপ্রবাহ আর ছবি।
ছবিঃ নীলাচল, বান্দরবান।
পৌঁছে চা খেয়ে ট্যুরমেটের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। সকাল ৭:০০টার বাসে করে যদিও আমাদের যাওয়ার প্ল্যান ছিলো, কিন্তু ট্যুরমেট একজন দেরী করে আসায়, আমরা ৭:৩০ এর বাসে করে রওনা দিই বান্দরবানের উদ্দেশ্যে। পূর্বাণী পরিবহনের বাসভাড়া ছিলো ১৮০ টাকা করে।
ছবিঃ চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান যাওয়ার রাস্তা।
বান্দরবানের পাহাড়ি উঁচুনিচু আর আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে একটা সময় আমরা পৌঁছে গেলাম বান্দরবান “বাস টার্মিনাল”-এ। আর হ্যাঁ, পথে একবার বাসে পুলিশ চেকিং হয়েছে। যারা পর্যটক ছিলেন, সবাইকে তাদের পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছে। পুলিশ অফিসারের সাথে আর্মি অফিসারও ছিলেন। যদিও তাদের কথাবার্তা ছিল খুবই আন্তরিক।
ছবিঃ কলাপাতা রেস্টুরেন্ট, বান্দরবান।বান্দরবান শহরে পৌঁছে সবার আগে ফেরার টিকিট কেটে নিই। আগে থেকে টিকিট না কাটলে পরে টিকিট পাওয়া নিয়ে সংকটে পড়তে হতে পারে। টিকিট কেটে নেওয়ার পর, “কলাপাতা রেস্টুরেন্ট”- আমরা সকালের নাস্তা সেরে নিই। রেস্টুরেন্টটি রাস্তার সাথেই অবস্থিত, খাবারের মানও বেশ ভালোই।
Google Maps Location: কলাপাতা রেস্টুরেন্ট, বান্দরবান।
ছবিঃ বান্দরবানের পাহাড়ি রাস্তার সৌন্দর্য।
নাস্তা সেরে, বান্দরবানের স্বর্গীয় রাস্তা ধরে আমরা যাই “মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রের” উদ্দেশ্যে। আমরা পুরোটা সময়ই লোকাল CNG ব্যাবহার করেছি। CNG ভাড়া করার আগে অবশ্যই ভাড়া ঠিক করে নিতে হবে।
ছবিঃ নামাজ ঘর, মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র, বান্দরবান।
মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রের মাঝে দেখার মত অনেক কিছুই আছে। কেবল কার, ঝুলন্ত ব্রীজ, মিনি সাফারি পার্ক, চিড়িয়াখানা, পাহাড়ে ট্রেকিং করার ব্যাবস্থা, নামাজের ঘর, পিকনিক স্পট, যাদুঘর, ক্যান্টিন, রেস্ট হাউস, কায়াকিং ও প্যাডেল বোট এর ব্যাবস্থা। এখানে মায়েদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারও আছে। অর্থাৎ, কেউ বান্দরবান এসে সারাদিন মেঘলার ভেতরেই চাইলে ঘুরেফিরে কাটিয়ে দিতে পারবে।
Google Maps Location: মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র, বান্দরবান
ছবিঃ স্ম্ৃতি যাদুঘর, মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র, বান্দরবান।
ছবিঃ মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র, বান্দরবান।
ছবিঃ ক্যাবল কারের টিকেট।
আমরা ডানদিকের ঝুলন্ত ব্রীজ দিয়ে লেক পার হয়ে, চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখে, পাহাড়ের উপর উঠি। সেখানে বিশ্রাম নিয়ে, ছোট দোকান থেকে ফল, পানি আর চা খেয়ে, রেস্ট নিয়ে পাহাড় ঘুরে ক্যাবল কার এর স্পটে পৌঁছাই। সেখানে ক্যাবল কার এ উঠি। অভিজ্ঞতাটা বেশ দারুন। ক্যাবল কার থেকে নেমে, সবাই মিলে পাশের সুন্দর বসার জায়গাগুলোতে বসে আড্ডা দিই। এরপর দ্বিতীয় ঝুলন্ত ব্রীজ পার হয়ে আবার মেঘলার গেটের কাছে চলে আসি।
ছবিঃ মেঘলার পাহাড়চূড়ায়।ছবিঃ সুস্বাদু তরমুজ।
ছবিঃ পাহাড়চূড়ায় ফলের সমাহার।
দুপুরের দিকে আমাদের মেঘলায় মোটামুটি সব দেখা হয়ে যায়। তাই আমরা আবার বান্দরবান শহরের দিকে যাওয়ার চিন্তা করি। যেখানে আমরা দুপুরের খাবার খাব। দুপুরে বান্দরবান শহরে ফিরে এসে, একটা মোটামুটি নতুন রেস্টুরেন্টে আমরা দুপুরের খাবার খেয়ে নিই। সেখান থেকে আবার CNG করে নীলাচলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। বাস স্টেশন থেকে নীলাচল খুব একটা দূরে নয়। তবে রাস্তাটা খুব সুন্দর এবং অবশ্যই দারুন উপভোগ্য!
ছবিঃ নীলাচল যাওয়ার পথে রাস্তার পাশ থেকে স্থানীয়দের কাছ থেকে জুস কিনে খাওয়া।
ছবিঃ বান্দরবানের পাহাড়ের সৌন্দর্য!
ছবিঃ নীলাচল।
নীলাচলে পৌঁছে পুরো জায়গাটা ঘুরে ফিরে সন্ধ্যায় বান্দরবান শহরে ব্যাক করি। আগে থেকে টিকেট কেটে রাখা বাসে করে চট্টগ্রাম শহরে পৌঁছাই।
Google Maps Location: নীলাচল পর্যটন কেন্দ্র, বান্দরবান
ছবিঃ চার মূর্তির এক মূর্তি।
কেমন লাগলো আমার ভ্রমণগল্প? সবাইকে অগ্রীম ধন্যবাদ।
একটা বিষয় লক্ষণীয়; আমরা যেদিন ঘুরতে যাই, তখন বান্দরবান শহরে কুকি-চিন আর্মি নিয়ে ঝামেলা চলছিলো। তাই বান্দরবান শহর মোটামুটি পর্যটক শূন্য ছিলো।
#মেঘলা
#নীলাচল
#চট্টগ্রাম
#বান্দরবান
#হ্যাপিগাইডিং
#ঐতিহাসিক স্থান
#লোকালগাইডবাংলা
#LGBContest
#LGB7thAnniversary














