সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে যে দৃশ্য দেখলাম টা মনে রাখার মনে রাখার মত।
আজ সেই কাঙ্খিত দিন। আজকে আমরা সিকিমের সবচেয়ে আকর্ষনীয় জায়গা লাচুং জিরো পয়েন্ট এবং ইয়ামথাং ভ্যালি ঘুরতে যাবো। যার জন্য এতো কষ্ট করে এখানে আসলাম। ভোরে ঘুম থেকে উঠে পড়লাম। ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়লাম বুট ভাড়া নেয়ার জন্য। কারণ বরফে হাটতে গেলে বুট ছাড়া সম্ভব না। জ্যাকেটও ভাড়ায় পাওয়া যায়। তবে আমার লাগবেনা। বুট ভাড়া নিয়ে বাকি সবাইকে তারা করলাম তাড়াতাড়ি করার জন্য। এবার রওয়ানা দেবার পালা।
জিরো পয়েন্ট যাওয়ার রাস্তাটি অনেক সুন্দর। উঁচু উঁচু পাহাড় দু পাশে পাহাড় গুলা সাদা বরফে ঢাকা। পাইন গাছগুলো বরফে ঢেকে আছে। পাথুরে রাস্তা দিয়ে গাড়ি এগিয়ে চলছে। রাস্তার সৌন্দর্য দেখে আমরা গাড়ি থেকে নামার সিদ্ধান্ত নিলাম।
নেমেই সবাই এই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে লাগলাম। আর ছবি তোলা চলছে। দেদারসে !
আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আগে জিরো পয়েন্ট দেখে আসি তারপর ইয়ামথাং ভ্যালি দেখবো। গাড়িচলছে জিরো পয়েন্টের দিকে। পথে পথে নেমে আমরা ছবি তুললাম। অবশেষে ১৫,৩০০ ফিট উপরে আমাদের কাঙ্খিত জিরো পয়েন্ট !!! ওয়াও !!
একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে ৮০০০ ফিট উপরে হাই আল্টিটিউড ধরা হয়। আপনি যত উপরে উঠবেন তত অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকবে এবং শ্বাস প্রশ্বাস নিতে অসুবিধা হবে। তাই আপনাকে খুব সাবধানে চলা ফেরা করতে হবে। হুড়াহুড়ি করলে বমি, শাসকষ্ট হতে পারে। আমাদের টিমের একজনের বমি হয়েছিল। জায়গাটা অসাধারণ সুন্দর চারিদিকে শুভ্র বরফের ছড়াছড়ি। ছবিতে দেখুন।
আমরা আধা ঘন্টার মতো ছিলাম। তাপমাত্রা -৫ থেকে -১০ ডিগ্রি হবে। তাই এতো ঠান্ডায় আমরা বেশিক্ষন টিকতে পারিনি। এবার নিচে নেমে যাচ্ছি। গন্তব্য ইয়ামথাং ভ্যালি। উচ্চতা প্রায় ১১,৫০০ ফিট। এখানে আমরা পেলাম আমার জীবনের প্রথম স্নোফল। সেই অনুভূতি। বলে বোঝানো যাবেনা। অনেক্ষন স্নোফল উপভোগ করে আমরা হোটেলে ফিরে আসি।
হোটেলে ফিরে আসার সময় দেখতে পাই বৃষ্টিতে পাইন গাছগুলোর বরফ ঝরে গেসে। যাওয়ার পথে ছবি না তুললে ধরা খেতাম। হোটেলে গিয়ে দুপুরের খাবার খেয়েই রওয়ানা দেই গ্যাংটকের দিকে। এর মধ্যেই প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হয় তাই পথে কোথাও দাঁড়াতে পারিনি। সোজা গ্যাংটক ফিরি। গ্যাংটকে ফিরতে ফিরতে আমাদের রাত ৯ টা বেজে যায়। হোটেল আগে থেকেই বুকিং করা ছিল বিধায় সোজা গিয়ে হোটেলে উঠি। আজ আর না, কাল সকালে আবার কথা হবে।
চলবে…












