আমি আমাদের সিকিম ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি ধারাবাহিকভাবে। আজ তৃতীয় পর্ব।
আজকে গ্যাংটকে আমাদের তৃতীয় দিন। সকালে উঠেই গোসল সেরে। ব্যাগ গুছিয়ে নিলাম। আজকে আমরা গ্যাংটকের হোটেল থেকে চেক আউট করেছি । টিমের সবাইকে আগেই বলে রেখেছিলাম সকাল ৯ টার মধ্যে যাতে নাস্তা খেতে বের হয়ে যায়। আজকে আমরা লাচুং যাবো। সবাই একত্র হয়ে একটি বাঙালি হোটেলে নাস্তা খেয়ে নিলাম পরোটা ও ডিম দিয়ে। বিল দিয়ে বের হয়ে পড়লাম ট্রাভেল এজেন্টের অফিসে যাওয়ার জন্য। আমরা যথা সময়ে উপস্থিত হলে এজেন্ট জানালো আমাদের নাকি পারমিশন এখনো হয় নাই। তবে অভয় দিলো যে হয়ে যাবে। আমরা গতকাল কিছু এডভান্স করে গিয়েছিলাম আজ পুরো বিল পরিশোধ করতে হবে। যাইহোক টাকা দিয়ে আমরা ট্যাক্সি নিয়ে চলে যাবো বজরা জীপ স্ট্যান্ডে সেখান থেকেই আমাদের লাচুং এর জিপ ছেড়ে যাবে। সাড়ে দশটার দিকে আমরা পৌঁছে গেলাম জীপ স্ট্যান্ডে। এখন জিপে উঠার পালা। কিন্তু আমাদের জিপের কোনো দেখা নাই। প্রায় ঘন্টা খানেক অপেক্ষা করার পর আমরা জানতে পারলাম আমাদের জীপ্ কোনটা। গ্যাংটকের এই ট্রাভেল এজেন্টদের সিন্ডিকেট সিস্টেমটা আমার মোটেও ভালো লাগে নাই। এখানে প্রচুর পর্যটক অপেক্ষা করছে সবাই লাচুং যাবে। একে একে গাড়ি স্ট্যান্ড থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমরা অনেক ভিড় ঠেলেঠুলে আমাদের গাড়ির নিকট গিয়ে পৌছালাম। আমাদের লাগেজ, ব্যাগ গুলা উঠতে লাগলো। আমরা সবাই গাড়িতে উঠে পড়লাম। কিন্তু প্রচন্ড জ্যাম লেগে আছে এখানে। একটার দিকে আমাদের গাড়ি রাস্তায় চলা শুরু করলো। আজকে অনেক দেরি হয়ে গেলো। কিন্তু কিছুই করার নাই আমাদের।
গাড়ি অনেক্ষন চলার পর একটি ওয়াটার ফলস এর সামনে এসে থামলো। টপাটপ গাড়ি থেকে আমরা নেমে গেলাম। এটির নাম সেভেন সিস্টার্স ওয়াটার ফলস। বেশ উঁচু থেকে পানি পড়ছে।
ছবিটবি তুলে আবার চলতে শুরু করলো। গাড়ি অনেকক্ষন ধরে চলতে লাগলো পথ ফুরাচ্ছে না। ক্ষুদায় পেট চোঁ চোঁ করছে। পরিশেষে আমাদের একটি হোটেলের কাছে ব্রেক দিলো। এখানেই আমাদের লাঞ্চ করে নিতে হবে। এটি প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। গিয়ে দেখি প্রচন্ড ভিড়। বসা তো দূরের কথা, দাঁড়ানোর যাওয়াটাও নেই। আধাঘন্টা পর আমাদের সিরিয়াল আসলো। ডিম্ কারি, ভাজি, ভর্তা আর ডাল দিয়ে পেটপুরে খেয়েছিলাম।
লাঞ্চ শেষে আবার পথ চলা। চলতে চলতে আমরা নাগা ফলস এর গিয়ে ব্রেক দেই। সন্ধ্যা প্রায় নেমে পড়ছে। কত্ত বড় এবং সুন্দর একটি ফলস কিন্তু ভালো ছবি তুলতে পারলাম না আলোর কারণে।
এখন থেকে সন্ধ্যা নামা শুরু করলো। আমাদের জার্নিটা দেরি করে শুরু করাতে সামনের তিস্তা ড্যাম, বচ্চন ফলস এই দুই জায়গাতে আমরা দাঁড়ায়নি কারণ রাত হয়ে গিয়েছিলো। অবশেষে আমরা রাত সম্ভবত ৮টার দিকে হোটেলে পৌঁছায়। গিয়েই আগে চেক ইন করে রুম বুঝে নেই। তারপর ডিনার করে রুমে ফিরে আসি। রাতে ছিল মুরগি, সবজি, ডাল আর ভাত। রুমের অবস্থা ছিল কোন রকম। মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড এর চেয়েও নিচে। দুটি রুম ভালো দিয়েছিলো আর বাকি দুটি একবারে যা তা। যাইহোক এখন কিসু করার নেই। আমরা দেরি করে আসাতে সব রুম আগেই দখল হয়ে গিয়েছিলো। আজ রাতটা কোন রকম কাটাতে হবে। জীবনে এই প্রথম ৯,৬০০ ফিট উপরে রাত কাটাচ্ছি। বেশ ঠান্ডা !! তাপমাত্রা ২/৩ ডিগ্রি হবে।
চলবে…





