শীতকাল বাঙালীর পিঠা উৎসব, যা সংস্কৃতির বাহক

পিঠা বাংলার চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অংশ, শীত আর পিঠা যেন একে অপরের পরিপূরক। হালকা শীতল আমেজ নিয়ে আসা বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় এখন পিঠা বিক্রির ধুম জমে উঠেছে রাস্তার পাশে পিঠা বেচাকেনার দোকানগুলোতে।

বাংলাদেশ এর জেলা শহর রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট পিঠার দোকান সাজিয়ে কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বিক্রেতারাও। বিক্রেতাদের সঙ্গেও আলাপ করে জানা গেল, বেচা-বিক্রি বেশ ভালোই, রানীবাজার মোড়ে পিঠা বিক্রেতা আব্দুল সামাদ বলেন, নতুন চালের গুড়ো ও নতুন খেজুরের গুড় এবং নারিকেল দিয়ে খুব যত্ন সহকারে তৈরি করা হয় ভাপা পিঠা, কোথাও এ পিঠা ধুপি পিঠা বা ধুকি পিঠা নামে পরিচিত। এসব পিঠা প্রতি পিস ১০-২০ টাকা‌ করে (আকার ভেদে) বিক্রি করা হয়। তিনি প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ পিচ পিঠা তৈরি করে থাকেন।

ভাপা পিঠা তৈরি সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান যে, আমরা মূলত নতুন স্বণা চাউল, ৮৫ কেজির বস্তার দাম ৪ হাজার দামে সংগ্রহ করে থাকি, প্রতিদিন এর প্রয়োজন অনুযায়ী চাউল প্রতিদিন রাতে ভিজিয়ে নেওয়া হয়, এর পর মিল-মেশিনে নিয়ে গিয়ে ভাঙ্গিয়ে আদা-ময়টায় রুপান্তর করা হয়, এরপর ঠান্ডা পানি, পরিমাণ মত লবণ মাখিয়ে নিয়ে, পাতিল এর ফুটন্ত পানির ঢাকনা উপর ২৫/৩০ সেকেন্ড রাখা অর্থাৎ বাষ্পে সিদ্ধ করা হয় বলে এই পিঠার নাম ভাপা পিঠা। যিনি প্রত্যহ বিকাল ৪ টা থেকে রাত্রি ১০ টা অবধি পিঠা ক্রয়-বিক্রয় করে থাকেন। মূলত আমাদের দেশে শীতকাল মৌসুমে পুরো আমেজে শহর থেকে গ্রামে পিঠা বিক্রি যা আমাদের উৎসবে পরিণত হয়।

শুধু তাই নয়, এমন সময়ে জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে আয়োজন করা হয় পিঠা উৎসব, এমনটিও লক্ষ্যণীয় ছিল রাজশাহী নিউ মার্কেট সংলগ্ন অভিজাত মার্কেট থিম ওমর প্লাজা’য় পিঠা উৎসব-২০২২। যেখানে দেখা মিললো চিতই পিঠা, দুধচিতই, ছিট পিঠা, দুধকুলি, ক্ষীরকুলি, তিলকুলি, পাটিসাপটা, ফুলঝুড়ি, ধুপি পিঠা, নকশি পিঠা, মালাই পিঠা, ঝাল পিঠা ইত্যাদি।

বাংলাদেশে প্রতি বছর বিভিন্ন উৎসবে পিঠাপুলির আয়োজন দেখা গেলেও পিঠা খাওয়ার মৌসুম কিন্তু শীতকালেই। নতুন চাল, খেজুরের রসের নতুন গুড়ে টইটম্বুর পিঠা বাঙালির শীত উদ্‌যাপনকে করে তোলে রঙিন। যা বাংলা পৌষ মাসে (ডিসেম্বর–জানুয়ারি) নতুন চালের গুঁড়োয় পিঠা তৈরির যে উৎসব হয়, তাকে পৌষ পার্বণ বলে। পিঠা বাংলার লোকসংস্কৃতির অনুষঙ্গ।

এজন্য ই হয়তো বঙ্গীয় শব্দকোষ-এ হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “পিঠা হলো চালের গুঁড়া, ডাল বাটা, গুড়, নারিকেল ইত্যাদির মিশ্রণে তৈরি মিষ্টান্নবিশেষ”। যেহেতু বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধান, তাই চালের গুঁড়া পিঠা তৈরির মূল উপকরণ হিসেবে ব্যবহার হয়। এছাড়া পিঠা তৈরির উপাদানের মধ্যে আছে ময়দা, নারিকেল, খেজুরের রস, খেজুরের গুড়, আখের গুড়, দুধ, তেল ইত্যাদি। কখনও কখনও সবজি ও মাংসও পিঠা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

পিঠা বাংলাদেশের সব অঞ্চলের ধনী-দরিদ্র সবার কাছে পরিচিত ও প্রিয়। আমাদের শহরের অলিগলিতেও দেখা যায় এমন সব সংস্কৃতির গল্প, যা আমাদের জীবন গল্প ধারাকে ফুটিয়ে তুলছে প্রতিনিয়ত। ধন্যবাদ।

24 Likes

পিঠা বাংলার চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অংশ, শীত আর পিঠা যেন একে অপরের পরিপূরক। হালকা শীতল আমেজ নিয়ে আসা বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় এখন পিঠা বিক্রির ধুম জমে উঠেছে রাস্তার পাশে পিঠা বেচাকেনার দোকানগুলোতে।

বাংলাদেশ এর জেলা শহর রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট পিঠার দোকান সাজিয়ে কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বিক্রেতারাও। বিক্রেতাদের সঙ্গেও আলাপ করে জানা গেল, বেচা-বিক্রি বেশ ভালোই, রানীবাজার মোড়ে পিঠা বিক্রেতা আব্দুল সামাদ বলেন, নতুন চালের গুড়ো ও নতুন খেজুরের গুড় এবং নারিকেল দিয়ে খুব যত্ন সহকারে তৈরি করা হয় ভাপা পিঠা, কোথাও এ পিঠা ধুপি পিঠা বা ধুকি পিঠা নামে পরিচিত। এসব পিঠা প্রতি পিস ১০-২০ টাকা‌ করে (আকার ভেদে) বিক্রি করা হয়। তিনি প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ পিচ পিঠা তৈরি করে থাকেন।

ভাপা পিঠা তৈরি সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান যে, মূলত নতুন স্বর্ণা চাউল যা ৮৫ কেজির বস্তা ৪ হাজার টাকা মূল্যে সংগ্রহ করে থাকি, প্রত্যহ চাউলের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিদিন রাতে ভিজিয়ে নেওয়া হয়, এর পর মিল-মেশিনে ভাঙ্গিয়ে আদা-ময়টায় রুপান্তর করা হয়, এরপর ঠান্ডা পানি, পরিমাণ মত লবণ মাখিয়ে নিয়ে, পাতিলের ফুটন্ত পানির ঢাকনার উপর ২৫/৩০ সেকেন্ড রাখা অর্থাৎ বাষ্পে সিদ্ধ করা হয় বলে এই পিঠার নাম ভাপা পিঠা। তিনি প্রত্যহ বিকাল ৪টা থেকে রাত্রি ১০টা অবধি পিঠা ক্রয়-বিক্রয় করে থাকেন। মূলত আমাদের দেশে শীতকাল মৌসুমে পুরো আমেজে শহর থেকে গ্রাম পিঠা বিক্রি যা উৎসবে পরিণত হয়।

শুধু তাই নয়, এমন সময়ে জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে আয়োজন করা হয় পিঠা উৎসব, এমনটিও লক্ষ্যণীয় ছিল রাজশাহী নিউ মার্কেট সংলগ্ন অভিজাত মার্কেট থিম ওমর প্লাজা’য় পিঠা উৎসবে। যেখানে দেখা মিললো চিতই পিঠা, দুধচিতই, ছিট পিঠা, দুধকুলি, ক্ষীরকুলি, তিলকুলি, পাটিসাপটা, ফুলঝুড়ি, ধুপি পিঠা, নকশি পিঠা, মালাই পিঠা, ঝাল পিঠা ইত্যাদি।

বাংলাদেশে প্রতি বছর বিভিন্ন উৎসবে পিঠাপুলির আয়োজন দেখা গেলেও পিঠা খাওয়ার মৌসুম কিন্তু শীতকালেই। নতুন চাল, খেজুরের রসের নতুন গুড়ে টইটম্বুর পিঠা বাঙালির শীত উদ্‌যাপনকে করে তোলে রঙিন। যা বাংলা পৌষ মাসে (ডিসেম্বর–জানুয়ারি) নতুন চালের গুঁড়োয় পিঠা তৈরির যে উৎসব হয়, তাকে পৌষ পার্বণ বলে। পিঠা বাংলার লোকসংস্কৃতির অনুষঙ্গ।

এজন্যই হয়তো বঙ্গীয় শব্দকোষ-এ হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “পিঠা হলো চালের গুঁড়া, ডাল বাটা, গুড়, নারিকেল ইত্যাদির মিশ্রণে তৈরি মিষ্টান্নবিশেষ”। যেহেতু বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধান, তাই চালের গুঁড়া পিঠা তৈরির মূল উপকরণ হিসেবে ব্যবহার হয়। এছাড়া পিঠা তৈরির উপাদানের মধ্যে আছে ময়দা, নারিকেল, খেজুরের রস, খেজুরের গুড়, আখের গুড়, দুধ, তেল ইত্যাদি। কখনও কখনও সবজি ও মাংসও পিঠা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

পিঠা বাংলাদেশের সব অঞ্চলের ধনী-দরিদ্র সবার কাছে পরিচিত ও প্রিয়। আমাদের শহরের অলিগলিতেও দেখা যায় এমন সব সংস্কৃতির গল্প, যা আমাদের জীবন গল্প ধারাকে ফুটিয়ে তুলছে প্রতিনিয়ত। ধন্যবাদ সবাইকে।

1 Like

hello @shahinurime thanks for sharing. they look pretty local and nice. but it looks like you shared the same post twice. the contents are the same. have you noticed that?

1 Like

Hi @shahinurime ,

Thank you for sharing your post about Pitha Festival with us. Which kind of pitha is your favorite?

Keep in mind that I merged your posts, as the content is similar, to keep Connect more organized.

1 Like

@shahinurime thanks for sharing this post about winter cakes. Photos are all mouth watering! Keep sharing!

Happy Guiding!

1 Like