কাপ্তাই এ একদিনঃ প্রশান্তি রেসোর্ট

পুরো পৃথিবী তখন নিস্তব্ধ, চারদিকে এক অদৃশ্য শক্তির ভয় সকলের চোখে মুখে। হ্যা, আমি কোভিড-১৯ এর কথা বলছি। ভ্রমণ প্রিয় মানুষরাও যখন আটকে ছিল চার দেয়ালে। ধীরে ধীরে কাটতে লাগলো ভয়, লড়তে শিখে গেলাম এই অদৃশ্য শক্তির বিপক্ষে। সময় টা জানুয়ারি ৪,২০২১। হ্যা, অনেক দিন হয়েছে। আজ লিখতে বসেছি। বন্ধুরা মিলে ঠিক করলাম অনেক দিন তো ঘরে আর না। চল কোথাও গিয়ে ঘুরে আসি।

যে ভাবা সে কাজ। ঠিক করলাম কাপ্তাই যাই, যেহুতু আমরা সবাই চট্টগ্রামেই, কাপ্তাই থেকে কাছে এমন মনোরম পরিবেশ পাওয়া যাবে না। শীত ভালোই ঝাকিয়ে বসেছিল, ঠিক করেই ফেললাম কাপ্তাই যাচ্ছি। প্রশান্তি রেসোর্টে, তখন এটা নতুন নতুন, এতোটা ট্রেন্ডডিং এ আসে নাই। ৪ জানুয়ারি, সকাল ৭ টায় রওনা দিলাম বাসা থেকে। নিয়ম মাফিক কিছু বন্ধু দেরি করতে থাকলো। সব বাধা বিপত্তি ফেলে অবশেষে সবাই পৌছালাম বি আর টি সি বাস স্ট্যান্ডে। ওখান থেকেই সবাই সকালের নাস্তা টা সেরে নিলাম। রিজনেভল প্রাইসে বেস্ট আউটপুট যেটাকে বলে আরকি। বাসে উঠলাম, গান ধরতে ধরতে চলে এলাম কাপ্তাই এ। পুরো দিন ঘুরতে থাকলাম কাপ্তাই এর এদিক সেদিক। এর ই মধ্যে দুপুরের খাবার টাও সেরে নিলাম। মুরগি, হরেক রকমের ভর্তা আর লেকের মাছ, জম্পেশ হলো।

বিকেলের দিকে চলে এলাম প্রশান্তিতে। আগে থেকেই আমাদের জন্য বুকিং করা ছিল। কত টাকা দিয়েছিলাম মনে নাই। রেসোর্ট এর এদিক ওদিক ঘুরতে লাগলাম, ছোটোদের জন্য খেলার অনেক বিষয় বস্তু ছিল, কিছুক্ষণের জন্য কেন জানি সবাই বাচ্চা হয়ে গেলাম। ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নামলো। লেকের পাশেই তাবু বিছানো হলো, এক তাবুতে ২/ জন করে। শীত বাড়তে লাগলো। পাশের সুন্দর করে বিছানো মাছায় বসে বন্ধুরা মিলে গল্প করতে থাকলাম, কেউ কার্ড খেলতে লাগলো, কেউ বা চাদের সুন্দর ছবি তুলার অপেক্ষায় থাকতে লাগলো। ২ জন আবার মোটামুটি ঝগড়াতে চলে হ্যামোক নিয়ে। এদিকে শুরু হতে লাগলো বার বি কিউ করার প্রস্তুতি। প্রশান্তির লোকেরাই সব করলো। আমরা শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলাম। কেউ আবার একটা ব্রাশ নিয়ে ফেইক ছবি তুলতে থাকলো ইন্সট্রাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়ার জন্য। কেন জানি আমাদের ভালো লাগলো না বার বি কিউ, কারণ হতে পারে আমরা নিজেরা বানাই নাই। যাক, সে তর্ক আজ তুলে রাখলাম। পুরো রাত কাটলো খোশ গল্প, কার্ড আর কতো কি তে। কেউ কেউ আবার ঘুমে চ্যাপ্টা। রাত বাড়লে বিলাপ বাড়ে, অনেকে তাই অনেক আজগুবি কথা বলা শুরু করলো। শেষ রাতে সকলে ঘুম। শুরু হলো সকালে উঠার প্রস্তুতি।

ঘুম থেকে উঠে তাবুর দরজা খুলে এতো সুন্দর দৃশ্য দেখবো, কল্পনাও করতে পারি নাই। পয়সা উসুল, কেল্লফতে। এতো মনোরম সকাল বোধ হয় খুব কম ই দেখেছি।

বন্ধুদের মধ্যে একজন ছিল যে পুরাটা ট্যুর মোবাইল আর ক্যামেরা নিয়েই ছিল। বেচারা কে বোধ হয় এঞ্জয় করতে দেখিই নি, নাকি ওর এঞ্জয়মেন্টঈই ডিভাইস গুলোতে কে জানে।

এরপর শুরু হলো সকালের নাস্তার সময়। প্রশান্তি থেকেই সকালের নাস্তা দিলো। খিচুড়ি, কেন জানি খুব ভালো লাগলো, রাতের বাজে বার বি কিউ এর এই এক্সপেরিয়েন্স টা অসাধারণ। যদিও রাতে তারা জিজ্ঞেস করেছিলো বার বি কিউ করবো নাকি খিচুড়ি খাবেন, রিগ্রেট করলাম একটু। যাই হোক, ব্যাপার না। জীবনে চলার পথে এরকম ধাক্কা খাওয়া লাগে। এবার শহরের যান্ত্রিকতায় ফিরে আসার সময়। একটু খারাপ লাগছিলো, ইচ্ছে করছিলো আরেক টা দিন থেকে যাই। সবসময় ই এরকম মনে হয় আমার। অবশেষে বাসে করে আবার ও চলে আসলাম ইট পাথরের পৃথিবীতে।

19 Likes

Thank you for sharing these beautiful photos. Good to relax in the wild @arafat_b_zafar

2 Likes

@arafat_b_zafar ভালো হয়েছে আপনার লেখা, ছবিগুলো সুন্দর ছিলো। ঢাকা থেকে কাপ্তাই গেলে কেমন খরচ হতে পারে? আর ওখানে হোটেল বা রিসোর্ট এর খরচ কেমন যদি উল্লেখ করতেন আরো ভালো হতো।

3 Likes

নেক্সট টাইম থেকে এই ব্যাপার টা মাথায় রাখবো।

2 Likes