একটি দিঘী ও স্মৃতিচারণ !

[শীতকাল,কিন্তু দিঘীর পাড় যেনও সবুজ গালিচা!]

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ভাষায়,

"বহু দিন ধ’রে বহু ক্রোশ দূরে
বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে
দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,
দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শিষের উপরে
একটি শিশিরবিন্দু!"

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার এই লাইনগুলোতে প্রকৃতিকে খুঁজে পাওয়ার মন্ত্র পাওয়া যায়।একসময় ভাবতাম অনেক দূর দেশে গিয়ে বা দূরে ভ্রমণ করেই মনকে প্রফুল্ল করা যায়।যদিও এটা অনেকাংশেই সত্যি। কিন্তু সময় সুযোগ তো সবসময় হয়না দূরে যাওয়ার।

[শরৎ কালের মেঘের বেলা ও দিঘী]

তাই,প্রকৃতিকে খুঁজে নিয়ে নিজের মনকে প্রশান্তি দেওয়ার জন্য এই কবিতা থেকেই অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়।

[প্রতিদিনই মানুষ জড়ো হয়,কাটায় প্রিয়জনদের সাথে কিছু ভালো মুহুর্ত]

ঠিক এই হিসেবে, আমি শতবার সেই ছোট বেলা থেকে আমার জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র "বিজয় সিংহ" দিঘী কে দেখে আসছি।

[ছোট টিলা থেকে আমার দেখা সূর্যাস্তগুলি]

এমন কোন দিন নেই যখন সময় পেলে যাই না সেখানে।একসময় একরকম লাগে এই দিঘীটিকে।দিঘীর পাশের প্রকৃতিকে একেক ঋতুতে একের রকম দেখায়।শুধু চোখ জুড়িয়ে দেখি আর অবাক হই সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি কত সুন্দর!

[টিলা থেকে তোলা দিঘীর জলরাশির ছবি]

বলছিলাম, বিজয় সিংহ দিঘীর কথা,

ফেনী শহরের একপাশে এই বিজয় সিংহ দিঘীটি।ঢাকা-চট্রগ্রাম হাইওয়ের মহিপাল থেকে প্রায় ১ কিলো মত দূরত্বে ফেনী সার্কিট হাউজের সামনে বিজয় সিংহ দিঘীটি অবস্থিত।বিখ্যাত সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেনের এক অমর কীর্তি এই দিঘীটি।দিঘীটি বেশ বড়। চারপাশের পাড় বাঁধানো।আর এখন হাঁটার সুবিধার্থে দিঘীর চারপাশে পাঁকা রাস্তা করা হয়েছে।দিঘীটির আয়তন প্রায় ৩৭.৫৭ একর।

[বর্ষাকালে এভাবেই ফুলেল হয়ে ওঠে চারপাশ]

দিঘীর সৌন্দর্যের কথা বললে প্রথমেই আসে এর পাড়ের কথা।এর চারপাশের পাড় বেশ বড় করে বাঁধানো।দেখে মনে হয় ছোট ছোট টিলা।ছোটবেলায় যখন দেখেছি তখন টিলা বেশ বড়ই মনে হত।যদিও যত দিন যাচ্ছে এই টিলা মত পাড় গুলো ছোট হয়ে যাচ্ছে গাছ কাটা,ও সড়ক বানানোর কারণে।

[টিলার ওপর পায়ে হাঁটা মেঠো পথ]

দিঘীটি বেশ বড় হওয়ায় কোনো ঋতুতেই একবারে পানি শুকিয়ে যায় না।বর্ষাকালে পানি চারপাশে কানায় কানায় যখন ভরতি থাকে তখন বাতাস বইলে মনে হয় দিঘীর পাশগুলোতে ডেউ হচ্ছে।আর শীতকালে যখন শুকায় তখন দিঘীটির মাঝেই চারপাশে ঘাস বিচানো হাঁটার রাস্তা হয়ে যায়।যা দেখতে মনোমুগ্ধকর আর হাঁটতে নিঃসন্দেহে স্বর্গীয়।আর যদি তখন সকালবেলা হয়!অবর্ণণীয়!

[চারপাশের ছোট সবুজ গুল্ম, বনজ উদ্ভিদ ]

এখন জেলা প্রশাসক, দিঘীর মান উন্নয়নে দিঘীর চারপাশের রাস্তা করে ওখানে পুরো হাঁটার রাস্তায় কিছু দূরত্বে ল্যাম্পপোস্ট বসিয়ে দেয়।দিঘীর সার্কিট হাউজ প্রান্তে বড় পরিসরে ফুল বাগান,হাঁটার রাস্তা ও দিঘীর পাশে বেশ কয়েকধাপ সিঁড়ি বানিয়েছে বসার জন্য।এতে করে বিকেল বেলা গুলোদে শহরের মানুষগুলো আসে এখানে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে।
পাশাপাশি স্ট্রিট ফুড ও পাওয়া যায় বর্তমান সময়ে।

[এভাবে অনেক মানুষ জড়ো হয় প্রতিদিন]

আমার সবসময়ের আকর্ষণ ছিলো দিঘীর টিলা মত পাড় গুলো।এখনও পাড়গুলোতে হাঁটা যায়।গাছ যদিও অনেক কমেছে।কিন্তু অনেক ছোট ছোট গুল্ম ও সবুজ গাছের মাঝে বসে যখন সময় কাটাই আর দিঘীটিকে দেখি তখন মনে এক অদ্ভুত ভালোলাগা কাজ করে।

[দিঘীর পাড়ে থাকা বিদুৎ সঞ্চালন লাইন]

বর্ষাকালে দিঘীর পাড়ে বসে দিঘীতে পা দিয়ে সময় কাটানোর মজা এক অন্যরকম।আর যদি বৃষ্টি আসে তাহলে তো সোনায় সোহাগা।বড় দিঘীতে বৃষ্টির পানি যে আন্দোলন তুলে তাতে একজন মানুষ হারিয়ে যেতে বাধ্য!

এদিকে,রাতের দিঘীকে নিয়ে যতবলি ততই কম হয়ে যাবে!

[রাতের দিঘী,অপূর্ব ]

রাতে যখনই যাই দিঘীর খোলা জায়গার বাতাসে জাস্ট মন টা শান্ত হয়ে যায়।যত কষ্টই থাকুক না কেনও মনে তখন ওই পরিবেশ টা জাস্ট স্বর্গীয়।বসে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দিতে একটুও মনে হবে না ঘন্টা চলে গেলো!

[শুনশান নিরবতায় দিঘী]

[চোখ জুড়িয়ে দেওয়া রাত্রির সৌন্দর্য ]

অনেকের চোখে ভালো নাও লাগতে পারে।কিন্তু আমার কাছে এই দিঘীটি শৈশব,এই দিঘীটি কৈশরের সময়,ইবেন এখন ওখানে গিয়ে খুঁজে আগের সেই দিঘীটিকে।যদিও অনেক পরিবর্তন হয়েছে।কিন্তু ভালোলাগাটা আজও বিদ্যামান।

ছবিগুলো নিয়ে কিছু তথ্য-

উপরে আপলোড করা সবগুলো ছবিই ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে তোলা হয়েছে।

যে ডিভাইসগুলো ব্যবহার হয়েছে সেগুলো মোবাইল,
Huawei P40 Pro
এবং iPhone 11 দিয়ে তোলা হয়েছে ছবি গুলো।কিছু ছবিতে কোনো কাজ করা হয়নি।কিছু ছবিতে vivid মোড দিয়ে তোলা হয়েছে।ছবিগুলোর মূল ফাইল আমার কাছে সংরক্ষণ করা আছে।এখানকার বেশ কয়েকটি ছবি গুগল ম্যাপে আমার আইডি থেকে আপলোড করা হয়েছে।.

শাহাদাত হোসেন

১৬.১২.২০২২

#bdlgwritingcontest #bdlg200 #200meetup

18 Likes

ছবিগুলো অনেক সুন্দর হয়েছে , তবে ছবিগুলোর সাইজ বড় করেদিলে আরও ভালো হতো @shahadat99

1 Like