সাধারণত কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হয় ধানকাটা ও মাড়াইয়ের কাজ।এ সময়ে গ্রাম বাংলার কৃষাণ কৃষাণী ব্যস্ত ধানকাটা নিয়ে।
মাঠে মাঠে সোনালী ধানের সমারোহ, বাতাসে দোল খাচ্ছে কৃষাণের স্বপ্ন।
নতুন আমন ধানের মৌ মৌ ঘ্রাণ।গ্রামের এমন দৃশ্য মনভোলানো। চলছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ধুম।এসময় কৃষান হাজারও স্বপ্ন নিয়ে কাচি হাতে ধানকাটার কাজে ব্যস্ত থাকেন। ফলন যেমনই হোক, কৃষাণের মুখে ধানকাটার গান মনে করিয়ে দেয় নবান্ন উৎসবের কথা।
নবান্ন উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। নতুন ধান কাটা আর সেই ধানের প্রথম অন্ন খাওয়াকে কেন্দ্র করে পালিত হয় নবান্ন উৎসব। প্রাচীন কালে
মাঠ ভরা ধানে সোনালী ছোঁয়া লাগলেই গ্রাম-বাংলায় বোঝা যেত যে নবান্ন আসছে।কিন্তু দিন দিন যেনো হারিয়ে যাচ্ছে এসব উৎসব কার্তিকের শেষ সপ্তাহ থেকেই শুরু হয়ে যেত ধান মাড়াইয়ের কাজ, চলত বাড়িঘর, ঢেঁকিঘর নিকানোর কাজ। নতুন ধান থেকে চাল ছাঁটা হত ঢেঁকিতে। তৈরি করা হতো চালের গুঁড়া, । চালের গুঁড়া দিয়ে পিঠে তৈরি হত নবান্নে। কৃষাণীরা ব্যস্ত থাকতেন চিঁড়ে, মোয়া, নাড়ু এসব তৈরিতে। এক সময় নবান্ন উৎসব উপলক্ষে চলতো পালাগানের আসর, বসত মেলাও। নবান্নে পাকা ধান দেখে চাষী আনন্দে গেয়ে উঠত গান। হেমন্ত এলেই দিগন্তজোড়া প্রকৃতি ছেয়ে যায় সোনালি ধানের ক্ষেত। পাকা ধানের সোনালি রঙ দেখে কৃষাণের মন ভরে যায় আনন্দে। কারণ, কৃষাণের গোলা ভরে উঠবে ধানে। সেই ধান দিয়ে তাদের সারা বছরের খোরাক ও হাটবাজার এর টাকা জোগার হয়।
স্মরণাতীত কাল থেকে বাঙালির জীবনে পয়লা অগ্রহায়ণকে বলা হয়ে থাকে বার্ষিক সুদিন। এ দিনকে বলা হয় নবান্ন। কিন্ত তা এখন যেনো হারিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনও গ্রাম বাংলায় অগ্রহায়ণের প্রথমদিনে আয়োজন করা হয় নবান্ন উৎসব। কিন্তু শহুরে জীবনে যে নবান্ন উৎসব করা হয়, সেটা তো প্রতীকী।
‘নবান্ন’ শব্দের অর্থ ‘নতুন অন্ন’। নবান্ন ঋতু কেন্দ্রিক একটি উৎসব। নবান্ন বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী উৎসব। নতুন ধান ঘরে তোলার সময় এই উৎসব পালন করা হয়। এই উৎসব পালিত হয় অগ্রহায়ণ মাসে।নতুন আমন ধান ঘরে তোলার আনন্দে সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিনে এই ‘নবান্ন’ উৎসব পালিত হয়।
‘নবান্ন’ উপলক্ষে নতুন চালের তৈরি পায়েশ-পোলাও, পিঠা-পুলিসহ রকমারি খাদ্য-সামগ্রী পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো হয়।
নবান্ন উপলক্ষে আয়োজিত পিঠা।
১। তেলের পিঠা
২। ভাপা পিঠা
৩। পায়েস, পোলাও, ক্ষীর, খেজুর রসের পিঠা, ম্যারা পিঠা, জাল মসলালা পিঠা, ইত্যাদি
মুসলিম কৃষিজীবী সমাজে নতুন ফসল ঘরে ওঠার জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্য মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, মসজিদে শিরনির আযোজন করা হয়। বর্তমানে
গ্রামীণ জনপদে দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ আছে কিন্তু আগের মতো কৃষাণের ঘরে নেই নবান্নের আমেজ। গ্রামবাংলার সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে গ্রামবাংলার জনজীবনে নবান্ন উৎসব এখন শুধুই স্মৃতি।।




