প্লেটে হরেক রকমের ভর্তার ও পুটিমাছ ভাজা দিয়ে সাজানো খাবার - কাজীর ভাত।
দেখতে সাধারণ ভাতের মতো দেখা গেলেও এর স্বাদ-গন্ধ সাধারণ ভাতের থেকে সম্পুর্ন আলাদা।
এ ভাতের মূল আকর্ষণ হলো নানান রকমের ভর্তা ও কড়া ভাজা ইলিশ / পুটিমাছের সাথে পরিবেশন।
বিশেষ এক পদ্ধতিতে রান্না করা হয় এ ভাত যার কারনে স্বাদ-ঘ্রান ব্যাতিক্রম।
গ্রামের মানুষ সাধারন রান্না ঘরের চুলার কাছে একটা মাটির হাঁড়ি পানিভর্তি করে রাখে এবং প্রতিদিন ভাত রান্না করার সময় চাল যখন হালকা সেদ্ধ হয় তখন সেখান থেকে এক/দুই মুঠ পরিমান চাল উঠিয়ে হাঁড়ির মধ্যে জমা করে রাখে।
এভাবে প্রতিদিন এক/দুই মুঠ করে জমা করতে করতে যখন একবার রান্না করার পরিমান হয়ে যায় তখন সেটা রান্না করা স্পেশাল রেসিপি হিসেবে সবাই মিলে পরিবেশন করে।
একবার রান্না করার পরিমান চাল হতে প্রায় ৭-১০ দিন সময়ের প্রয়োজন হয় সাথে এ ভাতের আলাদা স্বাদ তৈরি করতেও ৭-১০ দিন সময় চাল ভিজিয়ে রাখতে হয়। এ দুই দিক বিবেচনা করে চাল জমানোর প্রক্রিয়া এমনভাবে তৈরি করে নিয়েছে গ্রামের সাধারণ মানুষ।
চাল যখন রান্না করার উপযোগী হয় তখন, অনেক রকমের ভর্তার আয়োজন করে সাথে ইলিশ,পুঁটি / যে কোন মাছ কড়া করে ভেজে সাথে কাজীর ভাত রান্না করে।
কাজীর ভাতের স্বাদ হালকা টক এবং এর ঘ্রানটা একদম আনকমন।
অনেকেই খুব শখ করে এ স্পেশাল খাবার খেয়ে থাকে।
আর এ খাবারটি বিশেষ করে বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের কাছে বেশি পরিচিত /প্রিয়।
এ খাবারে অনেক ধরনের পুষ্টিগুনও রয়েছে।
দেশের অনেক জেলার মানুষ এই বিশেষ ভাত সম্পর্কে একদম অজ্ঞ।
যেহেতু এটি একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার সেহেতু সবাই ট্রাই করে দেখতে পারেন।
ছবিটি দুই বৎসর আগে আমার বোন তুলেছিলো।
তখন লেখালেখির আইডিয়া না থাকায় বাড়তি কোন ছবি তোলা হয়নি এবং আপনাদের দেখাতে পারলাম না।
এজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
পোস্টটি পড়ার জন্য সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
সাথে কমেন্ট করে আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানিয়ে দিবেন।
ধন্যবাদান্তে:-বাংলাদেশ লোকালগাইডস’র সদস্য @KhanSayfullah
