প্রতি বৎসর শীতের মৌসুমে আমাদের দেশে মৌমাছির আনাগোনা একটু বেশি দেখা যায়।
মৌমাছির বাসা
কারন এই সময়টায় বিভিন্ন শস্য / ফসলের যেমন - সরিষা, কালোজিরা, কলই, মসুর ইত্যাদি রবী শস্যের ফুল ফোটে এবং মধু সংগ্রহের মূল উপাদান হলো ফুল৷
সরিষা ফুল থেকে মৌমাছি মধু আহরণ করছে।
তাই এ সময়টায় মৌমাছিরা গ্রামের দিকে পাড়ি জমিয়ে বিভিন্ন গাছের ডালে বাসা বানিয়ে থাকে৷
এবং বাসার নির্দিষ্ট একটি যায়গায় মধু সংগ্রহ করে এনে জমিয়ে রাখে৷
আমাদের গ্রম্য লোকদের মতে / নিজ অভিজ্ঞতায় -
মৌমাছির বাসা থেকে দুইবার মধু সংগ্রহ করা যায়৷
চন্দ্র মাস / আরবী মাসের শুরুর দিকে বিভিন্ন ফুল থেকে মধু আহরণ করতে থাকে এর থেকে কিছুটা ওরা খায় এবং বাকিটা বাসায় জমিয়ে রাখে, এভাবে জমাতে জমাতে পূর্ণিমা রাতের আগের রাত পর্যন্ত জমা করে এবং পূর্নিমার রাতে জমানো মধু পাহাড়া দেয় আবার তার পরের রাত থেকে বেশিরভাগ মধু খেয়ে কিছুটা রেখে দেয়৷ এরপর আবার পাঁচ-ছয় দিন পরে আবার জমানো শুরু করে অমাবস্যা রাতের আগের রাত পর্যন্ত জমা করে এবং অমাবস্যার রাতে জমানো মধু পাহাড়া দেয়৷
এবং লোকেরা এই দুইটা সময় কাজে লাগিয়ে মৌমাছির বাসা থেকে দুইবার / যে কোন একবার মধু সংগ্রহ করে।
গ্রামে থাকায় অনেকের দেখাদেখি আমারও ইচ্ছা জাগলো মৌমাছির বাসা থেকে মধু সংগ্রহ করার তারপর পরিচিত একজন কাকার সাথে ২০১৮ এবং ২০১৯ ইং এ চার বার চারটি মৌমাছির বাসা থেকে মধু সংগ্রহ করি তখন আমি তার পেছনে থাকতাম দেখতাম সে কিভাবে মধু সংগ্রহ করে।
এরপর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে নিজেই একজন সহযোগীকে নিয়ে গাছে উঠে যাই মধু সংগ্রহ করার জন্য।
এবং সফলভাবে দুই মাসে তিনবার মধু সংগ্রহ করি।
প্রতিবারে
- ১ম - ১.৮৫০ কিলোগ্রাম
২য় - ০.৭০০ কিলোগ্রাম এবং
৩য় বার - ১.২০০ কিলোগ্রাম মধু সংগ্রহ করি।
আমরা সাধারণত রাতের বেলায় মধু সংগ্রহ করতে যাই কারন - মৌমাছি রাতের বেলায় চোখে দেখতে পায় না।
যা যা ব্যাবহার করি - ![]()
৩/৪ টুকরো বড় কাচা সুপাড়ি পাতা
০.৫০০ কিঃগ্রাঃ খড় / কুটা
একটা মোটামুটি ধারালো কাঁচি
একটা দিয়েশলাই / ম্যাচ
একটা পরিস্কার বালতি
খর/কুটা গুলো সুপারি পাতা দিয়ে আবৃত করে শক্ত করে বেধে নিতে হবে।গ্রাম্য ভাষায় এটাকে( দুম্বা) বলি আমরা।
খড়-কুটা ও সুপাড়ি পাতা দিয়ে আবৃত করে দুম্বা তৈরি করছি।
কাচি ও দুম্বা হাতে নিয়ে মধু সংগ্রহ করার জন্য প্রস্তুত হয়ছি।
সংগ্রহ প্রক্রিয়া ![]()
একা এতোকিছু বহন করে গাছে ওঠা সম্ভব না তাই সহযোগী একজন নিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে গাছে উঠে মৌমাছির বাসার উপরের ডালে / পিছনের অংশে খুব সাবধানে গিয়ে বসি।
মৌমাছির বাসার উপর শক্ত একটা ডালে বসেছিলাম বাসা থেকে মধু সংগ্রহ করার ঠিক আগ মূহুর্তে।
ছবিটি তুলেছিলো ভাতিজা Naiem Khan
এরপর দুম্বায় (খর/ কুটা আবৃত সুপাড়ি পাতা) ম্যাচ দিয়ে আগুন জ্বালাই কাচা পাতার কারনে আগুন জ্বলে প্রচুর ধোয়া হয় এবং ওই ধোয়া মৌমাছির বাসার কাছে নিলেই বাসা থেকে উরে গিয়ে উপরে উরতে থাকে সব মৌমাছি উরে যাওয়ার পরে মধু জমানো অংশ ( চাক) কেটে বালতিতে নিয়ে আসি।
বালতি করে চাকসহ মধু নিচে নিয়ে আসার পরে।
চাকের সাথে কিছু পোকাও ছিলো।
এসময়টা খুব সাবধানে চুপ করে থাকতে হয়
কারন - নড়াচড়া করলে মৌমাছির কামড় দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে আবার গাছের উপরে থাকা ![]()
বিষয়টা খুব ঝুকিপূর্ণ৷
এরপর খুব সাবধানে গাছ থেকে নেমে আসি এবং মধু খাই ![]()
পোকাগুলো ছাড়িয়ে দেওয়ার পর বাটির মধ্যে পরিস্কার খাটি মধু ![]()
এবার মধু খাওয়ার পালা।
কারো অভিজ্ঞতা থাকলে এই মূহুর্তের আনন্দ উপলব্ধি করতে পারবেন।
মৌমাছির হুল ফোটানো যায়গা ফুলে যায় সাথে ব্যাথা অনুভব হয়।
মধু খুবই উপকারী জিনিস, কোথাও কোাও এমনও বলা হয়েছে মৃত্যু ব্যাতীত সকল রোগের উপকারী উপাদান হলো মধু৷
পরিবেশগত সমস্যার কারণে দেশ থেকে মৌমাছি বিলুপ্ত হওয়ার পথে৷ এখন আার আগের মতো মৌমাছির বাসা দেখা যায়না ![]()
এর পেছনে দ্বায়ী আমরাই,
এখান থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে কেউ কাজে লাগাতে যাবেন না৷ হতে পারে এর থেকেই বড় একটি দূর্ঘটনার সৃষ্টি!
পোস্টি পড়ে কেমন লাগলো কমেন্টে জানিয়ে দিতো পারেন ধন্যবাদ ![]()
#bdlg #bangladeshlocalguides #7yearsofbangladeshlocalguides #7yearsofbdlg nature








