আমাদের সীতাকুন্ড ভ্রমনে হঠাৎ করে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার পরিকল্পপনা করা হয়। এতে অবশ্য ভ্রমণে অনেকটা সতেজতা ফিরে এসেছিলো সাথে মজাদার রাতের আড্ডা আর ঘুরাঘুরি। আমাদের নিজস্ব প্রাইভেট কার ভাড়া থাকায় সেই ভ্রমন অনেকটা সহজ হয়ে গিয়েছিলো। বিকাল শেষে সীতাকুন্ড থেকে বের হয়ে সন্ধ্যা কিছুটা পর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে পৌছা।
যারা চট্টগ্রাম শহরে বা আশপাশে থাকেন, তাদের জন্য তো এক বিশাল সৌন্দর্য পুরস্কার পাওয়া। কারন পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত অসাধরণ। আর দিনের পতেঙ্গা থেকে রাতের পতেঙ্গার সোন্দর্য তুলনা করার মত। তাই আমাদের সময় আর সুযোগ দুটিই রাতের পতেঙ্গা দেখার রাস্তা করে দিয়েছিল।
বাধানো-গোছানো সমুদ্র পাড়, আলোকসজ্জা, স্ট্রিট ফুড, আড্ডা দেওয়ার এক বিশাল আয়োজন সেখানে। সেটা সব বয়সী এবং সকল রুচির মানুষের সাথে মিলে যায়। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ, দূরের সারি সারি নোঙর করে রাখা জাহাজের আলো, সাথে সতেজ করা বাতাস আমাকে মুগ্ধ করেছে।সেই সময়ে মনে হইয়েছিলো যেনো এখানে থেকে যাওয়ার জন্যই এসেছি আর মিশে যাই এই সমুদ্রে, আর সতেজ করা বাতাসে।
সেখানে দেখা মিলে হরেক রকমের স্ট্রিট ফুডের। ঝাল মুড়ি, হরেক রকম ভাজা পুড়া, চটপটি, ফুচকা থেকে শুরু করে চা- নাস্তা সবই পাওয়া যায়। তবে সেখানে আলাদা নজর কারতে সক্ষম হয় নানা রকম রেসিপি আর উপাদানে তৈরী করা কাঁকড়া ভাজা।ওখানকার খাবারের প্রধান আকর্ষণ হলো এই সামুদ্রিক কাঁকড়া। যদিও কাছাকাছি বিভিন্ন রেস্তোরাতেও এগুলো পাবেন তবে এখানে সমুদ্রের পারে সদ্য ভাজা কাকড়ার স্বাদ নেওয়া অনুভুতিটা একটু অন্যরকম।
রেসিপি বা প্রস্তুত প্রনালী এবং উপাদানের মান অনুসারে প্লেট প্রতি এর মূল্য হচ্ছে ৮০-১৫০ টাকার মতো। যা আমার কাছে কিছুটা সহজলভ্যই মনে হয়েছে।
শুনেছি রাত বাড়ার সাথে সাথে উখানকার পর্যটন সংখ্যা নাকি বাড়তে থাকে। তবে সেটার নিজে চোখে দেখা বা অভিজ্ঞতা নেওয়া সময় আমাদের ছিলো না। আমাদের আবার হোটেলে ফিরার তাড়া সাথে রাতের খাবার এবং সীতাকুন্ডে পৌছানো। রাত ১০ টার দিকে তাই আমাদের সেখানকার ভ্রমণের সমাপ্তি ঘটে।বরাবরের মতো লোকাল গাইড @Mohammadalauddin এবং সবাইকে ধন্যবাদ এমন একটা ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজানোর জন্য।
আমার সীতাকুন্ড ভ্রমনের প্রথম পর্বটা দেখে আসতে পারেন - A journey to the Sitakunda - Khoiyachora Waterfalls
হ্যাপী গাইডিং!




