জাতীয় স্মৃতিসৌধ

বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৭১ সালে নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অগণিত প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ। যাদের প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতার সূর্যোদয় হয়েছে, সেইসব শহীদের স্মৃতিতে নিবেদিত স্মারক স্থাপনা জাতীয় স্মৃতিসৌধ। ঢাকার সাভারে অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের অপরিসীম ত্যাগ-তিতিক্ষার এক উজ্জ্বল স্মারক।

রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে সাভার উপজেলায় অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ। অসমান উচ্চতা ও স্বতন্ত্র ভিত্তির ওপর সাতটি ত্রিভুজ আকৃতির প্রাচীর নিয়ে মূল সৌধ গঠিত। সর্বোচ্চ স্তম্ভটি সর্বনিম্ন দৈর্ঘ্যের ভিত্তির ওপর, আর সর্বোচ্চ ভিত্তির ওপর স্থাপিত স্তম্ভটি সবচেয়ে কম উচ্চতার। ১৯৭৯ সালে শুরুর পর ১৯৮২ সালে এই স্মৃতিসৌধের কাজ শেষ হয়। প্রায় ৩৪ হেক্টর (৮৪ একর) জমির ওপর নির্মিত হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভটি।

সাতটি ত্রিভুজ আকৃতির এই মিনারের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের একেকটি ধাপের ভাবব্যঞ্জনা। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যা শুরু হয়ে একে একে চুয়ান্ন, ছাপ্পান্ন, বাষট্টি, ছেষট্টি ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় নিদর্শনের মধ্য দিয়ে সাতটি ত্রিভুজ ক্রমানুযায়ী একটি আরেকটির চেয়ে ছোট থেকে বড় রাখা হয়েছে। স্মৃতিসৌধের সাতটি স্তম্ভ বহন করছে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সাত ধাপের ভাবব্যঞ্জনা ও ভাবগাম্ভীর্য।

৪৫ মিটার উঁচু এই মিনারকে ঘিরে আছে কৃত্রিম হ্রদ ও বাগান।

7 Likes