একটা সময় আমাদের গ্রমের মসজিদগুলো ছিল একদম মাটির তৈরি। মাটির দেয়াল, টিন কিংবা খড়ের ছাউনি। ভেতরে ঢুকলেই মাটির একটা আলাদা গন্ধ নাকে আসত, মনটা কেমন যেন শান্ত হয়ে যেত। ছোটবেলার কত স্মৃতি যে জড়িয়ে আছে সেই মসজিদগুলোর সাথে। পুকুরের পানি দিয়ে অজু করা, মাদুর পেতে একসাথে নামাজ পড়া। রাতের বেলা মুমবাতির আলোতে নামাজ পড়া। সবকিছুতেই ছিল অন্যরক এক সুখ।
এখন সময় বদলেছে। সেই মাটির মসজিদ ভেঙে জায়গা নিয়েছে দালানকোঠা, টাইলস বসানো সুন্দর পরিপাটি ভবন। ফ্যান আছে, লাইট আছে, মাইক আছে। সবকিছুই অনেক আধুনিক আর সুবিধাজনক। দেখতে ভালো লাগে, গর্বও হয়। তবুও মনে হয়, আগের সেই মাটির মসজিদের ভেতর একটা অন্যরকম শান্তি ছিল। খুব সাদামাটা, কিন্তু খুব আপন।
তবে একটা জিনিস এখনো একদম আগের মতোই আছে। শুক্রবারের জুমা, জুমার দিন হলেই পুরো গ্রাম যেন একসাথে হয়ে যায়। সাদা পাঞ্জাবি সাদা টুপি পরে ছোট থেকে বড় সবাই যখন মসজিদের দিকে যায়। তখন দৃশ্যটা দেখলেই মন ভরে যায়। মসজিদ তখন শুধু নামাজের জায়গা থাকে না, হয়ে ওঠে মিলনমেলা। কুশল বিনিময়, খোঁজখবর নেওয়া, একসাথে দাঁড়িয়ে দোয়া করা। সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত অনূভুতি।





