দুধরাজ / সাহেব বুলবুল / Indian Paradise Flycatcher
পাখিটির বাংলা নাম: ‘দুধরাজ’। অঞ্চলভেদে সুলতান বুলবুল, হোসনি বুলবুল, নন্দনপাখি ইত্যাদি নামে পরিচিত। ইংরেজি নাম: ‘এশিয়ান প্যারাডাইস ফ্লাইক্যাচার’ (Asian paradise flycatcher)। বৈজ্ঞানিক নাম: ‘টেপসিফোন প্যারাডিসি’ (Terpsiphone paradisi)
পাখিটি বেশ লম্বা। লেজ সহ প্রায় ৩৩ সেমি লম্বা এবং লেজ ছাড়া ১৯-২২ সেমি। শরীরের গঠন চিকনই বলা চলে। ওজন ২০ গ্রাম। মাথায় কালো ঝুটি। ঝুটির চুল পালিশ করা কালো, কপালটাও কালো। ঠোঁট ও চোখ নীল। পায়ের রঙ হালকা লাল। পিছনের পালকগুলির বেশিরভাগই ফ্যাকাশে রূপালি সাদা।ডানা এবং লেজের পালক সাদা। লম্বা লেজে দুটি পালক থাকে, চুলের ফিতার মতো। সুদৃশ্য লম্বা লেজ দুটি এদের শরীরের তুলনায় চার–পাঁচ গুণ বড়। বাতাসে এই সুদৃশ্য লেজ-ফিতা যখন দোলে, তখন নান্দনিক সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়। পুরুষ দুধরাজ এমন।
কিন্তু স্ত্রী দুধরাজ দেখতে পুরুষ দুধরাজের চাইতে সম্পূর্ণ বিপরীত। তাদের লম্বা লেজ নেই। মাথায় কালো ঝুটি আছে, তবে পুরুষের মতো অসাধারণ নয়। পিঠের রঙ হালকা বাদামী, পেটে ধূসর এবং সাদার মিশ্রণ।
এই দুধরাজ খুবই কর্কশ সুরে ডাকে। যা যে কারো কানে লাগার মত। কিন্তু প্রজনন মৌসুমে বেশ নরম সুরে ডাকাডাকি করে তাদের সঙ্গী খুঁজে। দুধরাজের প্রিয় খাবার কীটপতঙ্গ। প্রজনন সময় ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাস।
গাছের সর্বোচ্চ ডালে ঘাস, লতাপাতা, মাকড়সার জাল দিয়ে পেয়ালা আকৃতির বাসা বানায়। ডিম পাড়ে ৩-৫টি। ডিম ফোটে ১৮-২০ দিনে। সব ডিম ফোটে না, সব শাবক বাঁচেও না।
সবচাইতে মজার বিষয় হল পুরুষ ছানারা দু-তিন বছর পর্যন্ত লালচে বা লালচে-বাদামি থাকে, তারপরে একেবারে দুধসাদা রঙের হয়ে যায়।
মেয়ে পাখিটি সারা জীবনই লালচে-বাদামি পাখি থাকে, তার লেজে ফিতাপালক থাকে না। পুরুষটি বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর পাখি।
© @mratulphotography









