কিছুদিন আগে আমি চট্টগ্রামের দোহাজারিতে মামার শ্বশুর বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে শুনতে পাই, ট্রেকিং এর জন্য একটা ভালো জায়গা আছে। বিগত দুইমাস এক্সাম দিতে দিতে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। তাই এই সুযোগটাকে লুফে নিলাম। যদিও সাথে ট্রেকিং এর জিনিসজিনিসপত্র ছিলো না। তারপরেও যেই চিন্তা সেই কাজ। মামা-ভাগ্নে মিলে স্থানীয় একজনকে নিয়ে দুপুরের খাবারের পর চলে যাই ট্রেকিং করতে।
আমরা যখন ট্রেকিং করা শুরু করি তখন আকাশে মেঘ জমতে শুরু করে। বুঝতে পেরেছিলাম ট্রেকিং এর মাঝপথেই আমাদের বৃষ্টির সাথে সাক্ষাৎ হবে। ট্রেকিং করতে করতে স্থানীয় ছেলেটার থেকে জেনে নিলাম জায়গাটাকে স্থানীয়রা “গলা চিপা” বলে।
ট্রেকিং এর শুরুর দিকে বেশকিছু সবজির জমি সামনে পড়ে৷ যেখানে স্থানীয়রা লাউ, ঝিঙে, বরবটিসহ বিভিন্ন সবজির চাষ করে। এর আগে লাউ এর গাছ দেখলেও এই প্রথম আমি বরবটি গাছ দেখি। তখন মনে হলো শহরে থাকার দরুন কতগুলো সবজি আমরা খাওয়ার পরেও সেগুলো কীভাবে আসে সেটা আমরা জানিনা।
ট্রেকিং এর মাঝপথে বৃষ্টি চলে এলে আমরা বৃষ্টিতে ভিজেই ট্রেকিং করতে শুরু করি। যতই ভেতরে যাচ্ছি ততই সবুজের মধ্যে বিমোহিত হচ্ছিলাম। পথের দুইপাশে কখনো মাঠ, কখনো টিলা, কখনো জঙ্গল আবার কখনো ঝোপঝাড়ের মধ্য দিয়ে পথ।
পথের মধ্যে যে জিনিসটা বেশি আনন্দ দেয় সেটা হচ্ছে লেবু গাছ আর পেয়ারা গাছ। গাছগুলোতে থোকা থোকা পেয়ারা ও লেবু ধরেছে। লোভ সামলাতে না পেরে গাছ থেকে নিয়ে দেশি পেয়ারা খেতে শুরু করে দিয়েছিলাম। গাছ থেকে পেড়ে খাওয়ার আনন্দটা অনেক ভিন্ন। ছোটবেলার কথা মনে করিয়ে দেয়৷ এছাড়াও কিছু পেয়ারা আর লেবু পকেটে নিতেও ভুলিনি।
এই ট্রেকিং এ যে জিনিসটা বেশি সমস্যা করে সেটা হচ্ছে কাঁটা। পথের মধ্যে এতো বেশি কাঁটা ছিলো, খালি পায়ে থাকায় কিছুক্ষণ পর পর পায়ে কাঁটা ফুটছিলাম। এছাড়াও একটা জোঁক তো আমার পায়ে ধরে রক্ত বের করে দিয়েছিলো।
আমরা যেহেতু দুপুরের পর ট্রেকিং শুরু করেছিলাম তাই দেখতে দেখতেই সন্ধ্যে নামতে শুরু করে। সেজন্য সময় দেখে আবার উলটোপথ ধরতে হয়েছিল। এছাড়াও সন্ধ্যার পর এরকম একটা জায়গায় থাকা তেমন একটা নিরাপদও মনে হয়নি। অবশেষে আমরা আড়াই ঘন্টায় প্রায় ৭কিলোমিটার ট্রেকিং করে আমাদের এবারের যাত্রা শেষ করি।







