কোরবানির ঈদ ও বিশাল অর্থনৈতিক কার্যক্রম:
ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ বাংলাদেশে অন্যতম বৃহত্তম উৎসব। এই দিনে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও ত্যাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশে এই সময় শুধু কোরবানির পশু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়।
শুধু পশুর দামই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয় মসলার বাজার, যাতায়াত ও পরিবহন খরচ, কামারদের পারিশ্রমিক, চামড়া ব্যবসা এবং ইমাম ও কসাইদের পারিশ্রমিক। সব খাত মিলিয়ে কোরবানির ঈদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক আকার প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। এই টাকার বড় একটি অংশ সরাসরি গ্রামীণ অর্থনীতি ও খামারিদের কাছে চলে যায়।
সারা দেশে আনুমানিক ৩,৬০০ টিরও বেশি বৈধ ও অস্থায়ী পশুর হাট বসে। এ বছর শুধু রাজধানী ঢাকাতেই দুই সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ২৭ টি বড় আকারের অস্থায়ী ও স্থায়ী পশুর হাট বসেছে। এছাড়া অনলাইনেও এখন কোরবানির পশু কেনাবেচা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বছর ঈদুল আজহায় বাংলাদেশে প্রায় ১০ মিলিয়ন পশু কুরবানি করা হবে।
জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভ্রাম্যমাণ পশুখাদ্যের বাজার:
শহর এলাকার মানুষ সাধারণত ঈদের ২/৩ দিন আগে পশু কিনে থাকে। পশু লালন-পালন এবং মাংস প্রসেস করার সরঞ্জাম বিক্রির জন্য শহরে অস্থায়ী কিছু পশুখাদ্যের বাজার বসে, যেখানে পশুর খাদ্য যেমন সবুজ ঘাস, গাছের পাতা ও ভুসি পাওয়া যায়। এছাড়া মাংস প্রসেস করার জন্য চাটাই, পলিথিন, পলিব্যাগ, গার্বেজ ব্যাগ এবং মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম বিক্রি হয়। সিটি কর্পোরেশনের প্রায় সব বাজারের পাশে, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে এই ধরণের বাজার বসে।
কোরবানির পশুর হাট প্রধান আকর্ষণ হলেও এই ভ্রাম্যমাণ পশুখাদ্যের বাজারগুলো এখন বেশ জনপ্রিয় ও কর্মচঞ্চল। কারণ শহর এলাকায় পশু লালন-পালন করা এবং মাংস প্রসেস করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ বাজারের কারণে এখন পশু কেনার পর লালন-পালন করা অনেক সহজ হয়েছে। গ্রাম থেকে ঘাস এনে, গাছের পাতা সংগ্রহ করে মানুষ এগুলো বিক্রি করে। ঈদের আগের দিন, এমনকি চাঁদ রাত পর্যন্তও এসব বাজার চালু থাকে।
মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় ফটোওয়াক:
আমি আজ ঢাকার মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকার একটি পশুখাদ্যের বাজার ভিজিট করেছি এবং ফটোওয়াক করেছি। সেখান থেকে কিছু ছবি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম। কিছু ছবি আমি গুগল ম্যাপসেও আপলোড করেছি। এখানে একটি কোরবানির হাট ও বসেছে, যেখানে ছাগল এবং ভেড়া কেনাবেচা হচ্ছে। অনেকেই পরিবার নিয়ে এসেছেন পশু কেনার জন্য।
সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা। অগ্রিম ঈদ মোবারক।











