সুন্দরবন: বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন।১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬,৫১৭ বর্গ কিলোমিটার, ৬৬% রয়েছে বাংলাদেশে এবং বাকি অংশ ৩৪% রয়েছে ভারতের মধ্যে।
খুব সকালে খুলনার জেলখানা ঘাট থেকে আমাদের ভ্রমন শুরু হয়।
ছবি: জেলখানা ঘাট থেকে তোলা ছবি
ছবি: খুলনা জেলখানা ঘাট
ঠিক করে রাখা শীপের ট্রলারে চেপে রূপসার শাখা আঠারোবাঁকি নদীতে নোঙর করে রাখা এম এল কটকায় এক্সপ্রেসে পৌঁছাই।
এবং আমাদের নিয়ে রূপসা নদী দিয়ে শীপ টি রওনা হয় সুন্দরবনের উদ্যেশ্যে রোমাঞ্চকর কিছু ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দিতে।
ছবি: এম এল কটকা এক্সপ্রেস
খান জাহান আলী সেতু ও রূপসা রেল সেতু পার হতে হতেই সেরে নেই সকালের নাস্তা।
প্রথম দিনের গন্তব্য স্পষ্ট আন্ধারমানিক ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র।
ছবি: খান জাহান আলী সেতুছবি: রূপসা রেল সেতু
যাত্রা পথে চোখে পড়ে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, মংলা কোস্টগার্ড টার্মিনাল, মংলা সমুদ্র বন্দর।
ছবি: রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র
ছবি: মংলা সমুদ্র বন্দর
রূপসা নদী ছেড়ে আমাদের শীপ শেলা নদী দিয়ে দুপুরে আন্ধারমানিক জেটির কাছে পৌঁছায়।
শীপ থেকে নেমে ট্রলারে চড়ে আন্ধারমানিক পৌঁছাই।
ছবি: ডলফিন টাওয়ার, আন্ধারমানিক।
আন্দরমানিকে ফুটট্রেইল শেষ করে শিপে ফিরি,
রওনা হই জামতলা সী বিচ ও কটকা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের উদ্দেশ্যে।
শীপ সমানে চালিয়ে পরদিন খুব সকালে পৌঁছাই জামতলা ওয়াচ টাওয়ার বোর্ট টার্মিনালে ।
নদীর মোহনায় শীপ নোঙ্গর করে ট্রলারে চেপে জেটিতে যাই।
নেমে তিন কিলোমিটার হাটা পথ পারি দিয়ে পৌঁছাই জামতলা সী বিচ। সেখানে অসাধারণ সূর্যোদয় অবলোকন করি।
ফেরার পথে খুব কাছেই হরিণের পাল ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।
তিন কিলোমিটার হেঁটে জেটিতে ফিরে ট্রলারেই চেপে পৌঁছাই দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় স্পট কটকা অভয়ারণ্যকেন্দ্র।
কটকা ফুট ট্রেইল, সমুদ্র সৈকতে হাটাহাটি শেষে ফিরে আসি শীপে।
ছবি: জামতলা সী বিচ
ছবি: কটকা অভয়ারণ্যকেন্দ্র
এবার রওনা হই দ্বিতীয় দিনের তৃতীয় স্পট দুবলার চরের উদ্দেশ্যে ।
বিকাল নাগাদ পৌঁছে যাই দুবলার চর।
সেখানে নেমে কেউ কেউ ফুটবল খেলায়,কেউ সমুদ্রে গোসলে,কেউ বা কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
সন্ধ্যায় ফিরে আসি শীপে।
ছবি: দুবলারচর এর পাশে নোঙর করে রাখা শীপ
শীপ চলতে শুরু করে এবার ফিরতি পথে,
তৃতীয় দিন খুব সকালে এসে পৌঁছাই করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে।
ঘুরে দেখি করম জল কুমির উৎপাদন কেন্দ্র, কচ্ছপ উৎপাদন কেন্দ্র,করমজল চিড়িয়াখানা।
এছাড়াও সম্পন্ন করি করম জল ফুট ট্রেইল।
ওয়াচ টাওয়ারে উঠে উপভোগ করি সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্য।
ছবি: করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র ওয়াচ টাওয়ার ভিউ
ছবি: করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র হরিণের আস্তাবল
ঘোরাফেরা শেষে শীপে চড়ে ফিরতে থাকি সেই জেলখানা ঘাটের উদ্দেশ্যে।
বিকাল নাগাদ জেলখানা ঘাটের পাশে নোঙর করে আমাদের শীপটি, ট্রলারে করে ফিরে আসি খুলনার জেলখানা ঘাটে।
শেষ হয় আমাদের সুন্দরবন ভ্রমন।
দৈনন্দিন জীবন থেকে কয়েকটি দিনের ছুটি নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন সুন্দরবন।
নেটওয়ার্কের বাইরে যেয়ে উপভোগ করতে পারবেন অপরুপ প্রকৃতি।
শ্বাস ভরে নিতে পারবেন পরিশুদ্ধ বাতাস।
কাটিয়ে উঠবে দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি।
#lgbcontest #lgb7thanniversary












