আমি একই জায়গায় বারবার যেতে খুব একটা আগ্রহী নই। তবে কাপ্তাই হ্রদ দেখতে কয়েকবারই যাওয়া হয়েছে। কোন বারই পুরাতন মনে হয়নি। প্রত্যেকবারই এই হ্রদ সংলগ্ন এলাকাগুলো আমাকে মুগ্ধ করেছে।
প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি রাঙ্গামাটি জলার অন্তর্ভূক্ত এই হ্রদটি মানুষসৃষ্ট হলেও তা প্রকৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। এটি তৈরি করা হয়েছিল কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য। বর্তমানে মিঠাপানির মাছের অন্যতম উৎস। প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক কর্ণফুলী নদীর সাথে সংযুক্ত এই হ্রদের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে আসেন। পাহাড়, জলারাশি, আকাশের অদ্ভুত সমন্বয়।
১৯৬০ সালে জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে কর্ণফুলী হ্রদের সৃষ্টি হয়। কৃত্রিম এ হ্রদের আয়তন ৭৫৬ বর্গ কিলোমিটার।
পর্যটকরা নৌপথে ঘুরতে পারেন হ্রদের বিভিন্ন প্রান্তে। নদীপথে ভ্রমণকালীন প্রকৃতির অপরূপ রূপ যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। বর্তমানে লেকে ভ্রমণ এর জন্য হাউজ বোট চালু করা হয়েছে।
এমনকি সড়কপথে ভ্রমণ করলেও হ্রদের সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায় দূর থেকে। নির্মল বাতাস, সচ্ছ পানি আর সুনীল আকাশ শারিরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
কাপ্তাই হ্রদ এর ঝুলন্ত ব্রীজটি সর্বজনবিদিত। এমনকি যারা কাপ্তাই যাননি তারাও বিভিন্ন জায়গায় রাঙ্গামাটির জেলার পরিচিতি লিফলেট বা অন্যান্য প্রচারণার জন্য ব্রীজটি চিনেন। এর মাঝখানে কোন পিলার নেই।
বর্তমানে কাপ্তাই লেক ও রাঙ্গামাটি থাকাখাওয়ার জন্য ভাল ভাল কিছু রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট হয়েছে। শীত মওসুমে রিসোর্টগুলোতে থাকার জন্য অনেক আগে থেকেই বুকিং দিতে হয়।
নিঃসন্দেহে কাপ্তাই হ্রদ ও রাঙ্গামাটে জেলা দেশের সেরা দর্শনীয় স্থানগুলোর অন্যতম।
হ্রদের দুপাশে পাহাড় কেন্দ্র করে Cable Car বা Ropeway এর ব্যবস্থা থাকলে আরো আকর্ষনীয় হতো এই অঞ্চলে ভ্রমণ।
কাপ্তাই লেকের ভিউ সম্পর্কে অসাধারণ পোস্ট করেছেন @IshtiakAhmed দাদা, যদিও বা বাংলাদেশ লোকাল গাইড কমিউনিটি সৌজন্যে একবার কাপ্তাই লেকে আমার যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল । এই জায়গাটি এত সুন্দর যে অন্যরকম ভালোলাগার অনুভূতি পেয়েছি।