হ্যালো লোকাল গাইডস! আশা করি সবাই ভালো আছেন। ব্যাস্ততার জন্য কানেক্ট ফোরামে তেমন লেখালেখি করতে পারিনা। আজ অনেক মাস পরে আসলাম, আপনাদের সাথে নতুন একটি স্থান সম্পর্কে জানানোর জন্য। আশা করি সবার ভালো লাগবে। নতুন কোন সুন্দর স্থান সম্পর্কে জানার মজাই অন্যরকম!
ক্যাটকিন ড্রিম রেষ্টুরেন্টঃ
নতুন কোন জায়গায় ঘুরতে কার না ভালো লাগে, সেটা হোক কোন রেষ্টুরেন্ট, নতুন পার্ক কোন শপিংমল, অথবা সুন্দর কোন রিসোর্ট। তেমনি একটি সুন্দর রেষ্টুরেন্টের নাম হচ্ছে ক্যাটকিন ড্রিম রেষ্টুরেন্ট। এটি হবিগঞ্জ শহর কয়েক কিলোমিটার দূরে পশ্চিমে হবিগঞ্জ বানিয়াচং রোডে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে নতুন গড়ে উঠেছে। আমার যেমন নতুন অচেনা কোন স্থান এক্সপ্লোর করার বা ঘুরে বেড়ানোর নেশা তেমনি আমার সহধর্মিনী লোকাল গাইড @TajkiyaNijami আমার মতই ঘুরে বেড়ানোর নেশা। সুযোগ পেলেই আমরা দুজন ছুটে চলি নতুন কোন জায়গার সন্ধানে। এরকম নতুন জায়গায় হুট করেই বেশিরভাগ সময় আমরা কোন সেখানে গিয়েছি কোনরকম পরিকল্পনা ছাড়াই। অবশ্য দূরে কোথাও গেলে একটু গোছগাছ পরিকল্পনা করেই যেতে হয় আর কাছে কোথাও যেতে হলে হুট করেই চলে যাই।
এই ক্যাটকিন ড্রিম রেষ্টুরেন্টে গিয়েছিলাম আরো এক বছর আগে, কিন্তু সময় আর সুযোগের অভাবে সেটা নিয়ে আর লেখা হয়নি। ইতোমধ্যে আরো একবার গিয়েছি এক বছর পর। প্রথমবার যখন গিয়েছিলাম সেখানে অনেক কিছুই আন্ডার কন্সট্রাকশনে ছিল। তবে এবার গিয়ে দেখেছি অনেক কিছুই নতুন সংযুক্ত করেছে। সেখানের একজনের সাথে কথা বলে জেনেছি ওদের আরো অনেক নতুন পরিকল্পনা রয়েছে। এলাকাটি এমনিতেও শহর থেকে খানিক দূরে, সবুজ গাছপালা আর ঘাস আর কাশবনে ঘেরা চারপাশ। সেখানে রয়েছে গোছানো সারিবন্ধ বাঁশ দিয়ে ডেকোরেশন করা ঘর, ভেতরে চেয়ার টেবিল বসে খাবার খাওয়া বা আড্ডা দেবার জন্য। বাচ্চাদের জন্য রয়েছে উন্মুক্ত স্থানে দোলনা। ছবি তোলার জন্য রয়েছে ফটোবুথ।
আমরা প্রথমবার যখন গিয়েছিলাম তখন ছিলো শরৎকাল আর সে কারণেই কাশবনে সাদা ফুলে ফুলে পুরো এলাকাটি সফেদ হয়ে গিয়েছিলো, চারপাশে একটা চমৎকার মনোরম পরিবেশ তৈরী হয়েছিল তখন। আকাশেও ছিলো সাদা সাদা মেঘের ভেলা। প্রাকৃতিক পরিবেশে রেষ্টুরেন্ট হলো একটি এমন একটি স্থান যেখানে মানুষরা আসে এবং খাবার ও চারপাশের পরিবেশকে উপভোগ করে আর ছবি তোলে। এটাও তার ব্যাতিক্রম নয়, এই রেষ্টুরেন্টটিতে প্রকৃতির উপস্থিতি এবং বাগান, পুকুর, গাছপালা, খোলামেলা পরিবেশ ছিলো। পরিচ্ছন্ন এবং শান্তিপূর্ণ একটি পরিবেশ ছিলো।
পেছনের পুকুরে ছিলো কিছু ছোট ছোট নৌকা, যেগুলো ভাড়ায় পাওয়া যায় কিছুক্ষণ প্যাডেলে চালিয়ে উপভোগ করার জন্য। অনেক মানুষ তাদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে সেসব নৌকা চালানো উপভোগ করছিলো। তবে ইদানিং পুকুরের এক পাশে একটা বাশের লম্বা ব্রীজ তৈরি করেছে দেখলাম। সাদা রং দিয়ে সেটির সৌন্দর্য্য বাড়িয়েছে। তাছাড়া পুকুরের অন্য পাড়ে রয়েছে আরো কিছু পিড়ামিড আকৃতির কুড়েঘর, তার পাশেই রয়েছে বিস্তৃত সবুজ ধান ক্ষেত, তবে বর্ষা মৌসুমে সেখানে পানি হাওরের পানি আসে।
যাবার উপায়ঃ
হবিগঞ্জ শহর থেকে খুব সহজে এবং অল্প খরচে সেখানে গিয়ে সুন্দর একটা বিকেল কাঠিয়ে আসা যায় পরিবার পরিজন কিংবা বন্ধু বান্ধব নিয়ে। আমরা প্রথমে আটো রিক্সা দিয়ে চলে আসি বানিয়াচং যাবার সিএনজি স্টেশনে, সেখান থেকে সিএনজি কিংবা অটো রিক্সা রিজার্ভ করা বা লোকাল ভাড়া দিয়ে ২৫/৩০ মিনিটের মধ্যেই আসা যায়। লোকাল ভাড়া ৩০/৪০ টাকা আর রিজার্ভ নিয়ে আসলে ৩০০/- টাকা লাগতে পারে। চাইলে শহর থেকে প্রাইভেটকার দিয়েও আসা যায়। ক্যাটকিন ড্রিম রেষ্টুরেন্ট এর ম্যাপ লোকেশন ।
রেষ্টুরেন্টে কি খাবেন?
ক্যাটকিন ড্রিম রেষ্টুরেন্টে আসলে অন্য সকল ফাস্ট ফুড আইটেম রেষ্টুরেন্টের মতই বেশ কিছু খাবারের আইটেম পাওয়া যায়। দামও হাতের নাগালে। আমাদের তেমন খিদে ছিলোনা তার পরও খাবারের মান যাচাই করার জন্য কিছু চিকেন উইংস আর চিকেন ফ্রাই, আর কোল্ড ড্রিংক্স খেয়েছিলাম। নতুন হিসেবে আহামরি স্বাদ ছিলোনা। সেখানে, চা, কফি, ক্লোল্ড কফিও পাওয়া যায়। তাছাড়া, বার্গার, স্যান্ডউইচ ইত্যাদি পাওয়া যায়।
পরিশেষেঃ
সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই আমরা আবার শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হই, বেশি দেড়ি করলে আবার সেখান থেকে শহরে আসার যানবাহন কম পাওয়া যায়, তাছাড়া সন্ধ্যার পর ভাড়া বেশি চায়। নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সন্ধ্যার মধ্যেই চলে আসা উচিত। যদিও সন্ধ্যার পর আলোক সজ্জার কারনে জায়গাটি আরো বেশি মোহনীয় এবং উপভোগ্য হয়ে উঠে। একটা চমৎকার বিকেল কাটিয়েছিলাম আমরা। নাগরিক জীবনের ব্যাস্ততা আর একগেয়েমী কাটাতে আপনিও যেতে পারেন প্রিয়জনকে নিয়ে দূরে কিংবা কাছে কোথাও। আর আপনার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন আমাদের মাঝে। হ্যাপি ট্রাভেলিং!




