আমার কাশ্মীর ভ্রমণ পর্ব - ৪ (পেহেলগাম ভ্রমন)

০১-০৯-২০২২,কাশ্মীর ভ্রমণের ষষ্ঠ দিনে আমরা সকাল সকাল নাশতা করে বেড়িয়ে পড়ি নতুন অভিযানে । আমাদের এই দিনের ভ্রমণ টি অন্যান্য দিনের চেয়ে একটু ভিন্ন ছিল । পূর্বের সব ভ্রমনে আমরা স্থানীয় যানবাহনে স্থানীয়দের সাথে যাতায়াত করে ঘুরে বেড়িয়েছি। কিন্তু শুধু আজকের জন্য আমরা পূর্বেই গাড়ী রিজার্ভ করে নিয়েছিলাম। সারাদিনের জন্য গাড়ী ভাড়া নিয়েছিলো ৩০০০ রূপি।আমি আমার খালাতো ভাই সহ আরও দুজন বংলাদেশী ছিল সাথে। তাড়া স্বামী- স্ত্রী ছিল ( আমরা যে হোটেল এ ছিলাম তাড়াও ওখানে ছিল )। আমাদের পেহেলগাম যাবার কথা শুনে তাড়া আমাদের সাথে গিয়েছিলো। গাড়ী ভাড়া উভয়পক্ষ ভাগ করে দিয়েছিলাম। আমরা আড়াই ঘণ্টায় পেহেলগাম পৌঁছেছিলাম।

ওখানে পৌঁছে দেখি, গাড়ীর স্ট্যান্ড এর কাছেই ঘোড়ার সমারোহ। এখাণ থেকে ,আমরা কোন কোন স্থানে যাব ,এবং ভাড়া ঠীক করে ঘোড়া নিলাম। জনপ্রতি ১৫০০ রূপি করে ভাড়া পড়েছিলো।

আমরা এখানে যে যায়গা গুলো ঘুরেছি,সবগুলো যায়গা থেকে বাইসারান ভ্যালী সবথেকে ভালো লেগেছে। বাইসারান ভ্যালী তে ঢুকতে ২০ রূপি করে টিকেট লাগে। এখানকার সৌন্দর্য বলে বা লিখে বোঝানো সম্ভব নয় । নিজ চোখে দেখে অনুভব করা যায়।

বাইসারান ভ্যালীতে যাওয়া আসা করার রাস্তা গুলো কিছু যায়গায় খূব কঠিন। ঘোড়ার পা একটূ এদিক সেদিক হলেই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। কিন্তু ঘোড়া গুলো ওখানে যাতায়াত করে অভ্যস্ত। তাই সমস্যা হয়না। যাওয়ার সময়কার রাস্তার কষ্ট/ভয় সবই তুচ্ছ মনে হবে, যখন ভ্যালীতে পৌছে যাবে।আমরা ভ্যালীতে চার পাঁচটি স্পট ঘুরে পেহেলগাম শহরে নেমে আসি। এখানে স্থানীয়দের অনেক দোকান পাট রয়েছে। এগুলোতে শাল,সোয়েটার, মাফলার, মশলা, ফল, আরও অনেক প্রকার পণ্য সামগ্রী বিক্রি করে। এখানকার রাস্তাঘাট খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।শহর ঘুরে আমরা ফেরার সময় আপেল বাগান দেখার পরিকল্পনা ছিল । সেই অনুযায়ী আমরা ফেরার সময় পেহেলগামের একটি আপেল বাগানে নামলাম। বাগান ঘুরে দেখার পাশাপাশি আমরা টাটকা আপেল, গাছ থেকে ছিঁড়ে খেলাম। সেই আপেল খাওয়ার স্বাদই আলাদা।প্রচুর রসালো। এখানে বাগানের নিজস্ব একটি দোকান রয়েছে। দোকানে আপেলের আচাড়,জেলী, জ্যাম ছাড়াও আপেলের আরও অনেক পদের খাবার বিক্রি হয়। এখানকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, বাগানের টাটকা আপেল এর জুস বানিয়ে বিক্রি করা হয়। প্রতি গ্লাস ৫০ রূপি করে আমরা জুস খেলাম।

আর এভাবেই আমাদের পেহেলগাম ভ্রমণ সম্পন্ন করে আবার শ্রীনগর শহরে ফিরে এলাম । ফেরার পথে আমরা কিছু সময় জাফরান খেতের সামনে নেমেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য সেসময় জাফরান চাষ শুরু হয়নি। আমরা যখন ওখানে ছিলাম তার কিছুদিন পরেই চাষ শুরু হবার কথা। তবুও আপনাদের দেখার জন্য ছবি দিলাম জাফরান খেতের । এখানে পুরানো শুকনো জাফরান গাছ দেখতে পাবেন।

আমার ভ্রমণের ভিডিও লিংক।

13 Likes

@mdjhfc ধন্যবাদ ভাই আপনার সুন্দর ও আনন্দময় ভ্রমন বিবরণী আমাদের সংগে ভাগ করার জন্য। আপনার লেখা পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম।

অসাধারণ ভাই @mdjhfc

@Anonymous_b94cf02d9eeadbc2e4ca1e27a5054b05 ধন্যবাদ ভাই আমার লেখা পড়ার জন্য। আমার আরও অনেক ভ্রমণ আছে যেগুলো সময়ের অভাবে লেখা হয়নি। ইনশাল্লাহ ধীরে ধীরে লেখার চেষ্টা করবো।

@MohammadPalash ভাই ধন্যবাদ ।

1 Like