আমার দেখা শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কা দেখার সখ অনেক দিনের। সহসা যাওয়া হয়ে উঠছিল না। কিন্তু ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার দেউলিয়া হওয়ার কথা সোনার পর মনে হলো আর যাওয়া হলো না। হঠাৎ করে দিল্লী যাওয়ার প্লান হলো। (দিল্লী ট্যুর নিয়ে আলাদা একটি পর্বে রয়েছে)। দিল্লী যাওয়ার পথে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্স এর ফ্লাইট দুই দিন ট্রানজিট নিল। আর আমার শ্রীলঙ্কা দেখার সৌভাগ্যের দার খুলে গেল। ঢাকা থেকে ফ্লাইট ছাড়ল নির্দিষ্ট সময়ের ১ ঘন্টা পরে অর্থাৎ সকাল ১০ টার ফ্লাইট ১১ টায় ষ্টার্ট করে। আগেই বলে রাখি বাংলাদেশ থেকে শ্রীলঙ্কার সময়ের আধাঘন্টা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকা থেকে শ্রীলঙ্কা ৩ ঘন্টা ৩০ মিনিটের দুরত্ব। সেই হিসেবে বিকাল ৩ টায় বন্দরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এ পৌছাই। সেখানে পৌছে ভিসার জন্য অনলাইন আবেদন করি এবং ভিসা পেয়ে যাই। ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দুই একটি প্রশ্ন করে আমার পাসপোর্টে ভ্রমন স্টাটাস দেখে সাথে সাথেই সিল দিতে দেরি করলো না। এর মধ্যে ঢাকা এয়ারপেোর্টে থাকাকালীন অনলাইনে শ্রীলঙ্কান হোটেল বুক করে নিয়েছিলাম। হোটেলে যাওয়ার জন্য এয়ারপোর্ট ট্যাক্সি রিজার্ভ করলাম। ট্যাক্সি রিজার্ভ করতে গিয়ে পরিচয় হয় কলোম্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী অধ্যাপক এর সাথে। তিনি লন্ডন থেকে পিএইচডি করে দেশে ফিরছিলেন। তার বাসা শ্রীলঙ্কায় যেখানে আমি হোটেল বুক করেছি তার নিকটে। তিনিও ট্যাক্সি বুক করছিলেন। পরিচয় হওয়ার পর আমিই প্রস্তাব দিলাম আমার সাথে ট্যাক্সিতে যাওয়ার জন্য। তিনি রাজি হয়ে গেলেন। একই ট্যাক্সিতে রওয়ানা হলাম। এয়ারপোর্টেই মানি একচেন্জ থেকে ডলার শ্রীলঙ্কান রুপিতে কনভার্ট করে নিলাম এবং মোবাইল সিম নিয়ে নিলাম। হোটেলে পৌছানো পরযন্ত অনেক কথা হলো। শ্রীলঙ্কার বর্তমান অবস্থা ও ভ্রমন সংক্রান্ত অনেক ধারনা দিল সে। খুব ভাল লাগলো কারন এটা আমাকে শ্রীলঙ্কা ভ্রমন সহজ করে দিল। উনি ট্যাক্সির ভাড়া শেয়ার করতে চাইলেন, আমি উনাকে আর দিতে দিলাম না। উনি কথা বলতে বলতে উনার ফোন নম্বর দিয়ে দিলেন এবং আগামীদিন সকালে আমার সাথে দেখা করবেন বললেন। আমার হোটেলের কাছেই উনি নামলেন। আমিও আমার হোটেলে পৌছালাম। হোটেলটা বেশ ভালই ছিল। হোটেলে গিয়ে ফ্রেস হতে হতে সন্ধা হয়ে গেল। বেশ খিদে লেগে গিয়েছিল ভাবলাম একটু পায়ে হাটার পথ ঘোরাঘুরি করে কিছু খেয়ে নিব। হোটেল থেকে বের হয়ে দেখতে দেখতে হাটতে শুরু করলাম। হোটেলের সামনে থেকেই এক লোক আমর সাথে হাটতে শুরু করলো এবং স্বাগতম জানিয়ে কথা বলতে শুরু করলো। আমি প্রথমে একটু অপ্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলাম এবং উনাকে পাশ কাটিয়ে আলাদা হয়ে যেতে চাইলাম। আমি একটু জোরে হেটে সামনে দাড়িয়ে এক দোকানদারকে খাবার হোটেলের সন্ধান জানতে চাইলাম এবং এর মধ্যেই উনি উপস্তিত হয়ে আমাকে অভয় দিলেন আর বিভিন্ন মানের ৫/৬ টা খাবার হোটেলের সন্ধান দিলেন। ঐ মুহুর্তে আমার মোবাইল ফোনের গুগল ম্যাপ ভালো কাজ করছিল না। তাই সাহস করে উনার সাথে নিয়েই হাটা শুরু করলাম এবং কথা বলতে বলতে উনার পরিচয় নিলাম। জানতে পারলাম উনি একটি অভিজাত কফি সপে জব করেন। উনারও ডিউটি শেষ হয়েছে তাই সন্ধায় নাস্তা করতে হোটেলে যাবেন। একসাথে হাটতে হাটতে উনি আমানে সামনে যে সকল দর্শনীয় স্থান পড়ল তা দেখালেন এবং সে সম্পর্কে বেশ ভালো ব্যাখ্যা দিলেন। কিছুটা ভয় কাটলো এবং খাবার হোটেলে গেলাম। খেতে বসলাম অনেক প্রকারের খাবার দেখালো। আমার ইছে মত একটি খাবার দোকানে প্রবেশ করে আমি আমার পছন্দের থাকার অর্ডার করলাম। উনিও উনার পছন্দের খাবার খেলো। খাবার শেষে বিল পরিশোধের সময় উনি শুধু উনার বিল পরিশোধ করতে চাইলো। কিন্তু আমি উনার বিল পরিশোধ করতে চাইলাম, উনি রাজি হচ্ছিনেন না। আমি জোর করেই দিলাম। এরপর আর একটু আস্থা আসলো উনার উপর। খাবার পরে উনাকে নিয়েই বের হলাম হাটা পথের কয়েকটি দর্শনীয় স্থান দেখা শেষ করলাম। পরে রেল স্টেশনে নিয়ে গেল আমাকে সেখানে কিছুখন ঘোরাঘুরির পর বের হলাম। এবার একটু দুরে দর্শনীয় স্থান লোটাস টাওয়ার যাওয়ার জন্য টুকটুক (আমাদের দেশের অটো রিক্সা) ভাড়া করলাম। সেখানে পৌছে কিছুক্ষন ঘুরলাম। টুকটুক রেখে দিলাম আর কয়েকটি জায়গায় জাওয়ার কথা বলে। প্রথমবার টুকটুকের ভাড়া ঠিককরলেও পরে আর ঠিক করে নিলাম না টুকটুকের ভাড়া। এরপর একে একে ওল্ড টাউন হল বিল্ডিং, ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জামিউল আলফার মসজিদ, নিউ টাউন হল, নাইট মার্কেট, কলোম্ব পোর্ট, ব্যাংক অফ সিলন, মহাদেবী পার্ক, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এর সম্মুখ ভাগ, সংসদ ভবন এলাকা ও কয়েকেটি টেম্পল ঘুরে কলোম্বর নাইট লাইফ দেখে অবশেষে রাত ২.৩০ মিনিটে হোটেলের দিকে ফিরে আসি। অবশ্য পুরো সময়টা জুরেই উনি ছিলেন আমার সাথে, উনার নাম ছিল সুমিত এবং সংগে ছিল টুকটুক গাড়িটি। ফিরে আসার পরে চিন্তিত মনে টুকটুক গাড়ির ভাড়া জিজ্ঞেস করার পরে দশ হাসার রুপি চাইলো। একটু সস্তি লাগলো কারণ তুলানামুলক ভাড়া কমই আসছে। আমার হোটেলের নিকটেই সুমিতের বাসা ছিল। সে আমাকে হোটেলে পৌছে দিয়ে গেল। হোটেলে এসে পরবর্তী দিনের ভ্রমন পরিকল্পনা করে ঘুমাতে গেলাম।

বাকী অংশ পর্ব-২ এ সংগে থাকুন…

বন্দরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর

জনপ্রীয় শ্রীলঙ্কান খাবার

9 Likes