বাংলাদেশের দ্বীপজেলা ভোলার একটি বিখ্যাত খাবার হলো মহিষের দুধের টক দই। ইলিশ এবং মহিষের টক দই ভোলার ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত। মহিষের দুধের কাঁচা দধি ভোলার প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে।
টক দই এর গুরুত্ব
ভোলায় পারিবারিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক যেকোনো অনুষ্ঠানে দই থাকবেই। দই না থাকলে অনুষ্ঠান অপূর্ণ। স্থানীয়রা খাবারের শেষে ভাতের সঙ্গে এই দই খায়। টক দই এর সাথে গুড়, মিষ্টি অথবা চিনি মিশিয়ে খেতে হয়। এই দইয়ে আছে প্রচুর ঔষধি গুণ। এটি হজমে সহায়তা করে। স্বাস্থ্যবিদদের মতে, দইয়ে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিনসহ অন্যান্য উপদান থাকে, যা আমাদের দেহের জন্য খুবই উপকারি।
টক দই কিভাবে তৈরী করা হয়
ভোলার চারপাশে মেঘনা এবং তেতুলিয়া নদীতে অনেক চর আছে। বিস্তীর্ণ এসব চরাঞ্চলে শত শত মহিষ লালন করা হয়। সকালে মণে মণে দুধ আসে থানা শহরের বাজার গুলোতে। ওখান থেকে গোয়ালরা তাদের প্রয়োজন মতো দুধ কিনে নেয়। টক দই তৈরী করা খুবই সহজ কাজ। এই দই সাধারণত মাটির পাত্রে বসানো হয়। প্রথমে মাটির পাত্র গুলো ভালো ভাবে পরিষ্কার করে নেয়া হয়। এরপর কাঁচা দুধ ভালোভাবে ছেকে মাটির পাত্রে সমান জায়গায় রেখে দিতে হয়। সাধারণত গরমের দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা এবং শীতের দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগে দই তৈরী হতে।
টক দই এর দাম কেমন
দইয়ের কোয়ালিটির উপর দাম নির্ভর করে। এই দই লিটার হিসাবে বিক্রি করা হয়। প্রতি লিটার দইয়ের দাম ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা।
