এক ছুটির বিকেলে হঠাৎ মনে হলো, একটু পুরনো ঢাকায় ঘুরতে আসি। হেঁটে হেঁটে ঘুরে দেখলাম পুরনো ঢাকার পুরনো সেই চেনা পথ, তোলা হয়েছে কিছু ছবি। সেই ছবি গল্পই শেয়ার করবো আপনাদের সাথে।
বিউটি বোর্ডিং
(বিউটি বোর্ডিং প্রবেশ পথ)
( বিউটি বোর্ডিং)
(বিউটি বোর্ডিং এর ভিতরের ছবি)
১নং শ্রীশদাশ লেন, বাংলাবাজার, ঢাকা।
কবি-সাহিত্যিকদেরকাছে পুরনো ঢাকার আড্ডার কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৪৯ সালে প্রহ্লাদচন্দ্র সাহা বিউটি বোর্ডিং প্রতিষ্ঠা করেন। বিউটির আড্ডার প্রাণ পুরুষ কবি শহীদ কাদরী। তাকে সঙ্গ দিতেন কবি শামসুর রহমান, সৈয়দ শামসুল হক, কবি বেলাল চৌধুরী। তাদের আড্ডায় তৈরি হয় সৃষ্টিশীল কর্মকান্ড। এখানে বসেই আব্দুল জব্বার খান প্রথম স্ববাক চলচ্চিত্র “মুখ ও মুখোশ” এর পান্ডুলিপি রচনা করেন। বিউটির আড্ডাবাজদের ডাকা হয় “বিউটিশিয়ান” নামে। এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বসে সভা করছেন, দিয়েছেন দিক নির্দেশনা। নেতাজী সুভাসচন্দ্র বসুও একবার বিউটি বোর্ডিং এ এসেছিলেন। ১৯৭১ সালে ২৮শে মার্চ বিউটি বোর্ডিং এর প্রতিষ্ঠাতার প্রহ্লাদচন্দ্র সাহা সহ ১৭ জন পাক হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর প্রহ্লাদচন্দ্র সাহার স্ত্রী প্রতিভা রানী সাহা পুনরায় বিউটি বোর্ডিং চালু করেন। বর্তমানে ট্রাষ্টি বোর্ডের মাধ্যমে বিউটি বোর্ডিং পরিচালিত হয়।
বিউটি বোর্ডিং এ ২৫টি কক্ষ রয়েছে। প্রতিদিন সুস্বাদু খাঁটি বাংলা খাবারের মেনু রান্নাহয়। নতুনদের কবি-সাহিত্যিক, পর্যটকদের আনাগোনায় এখনো মুখরিত থাকে বিউটি বোর্ডিং।
রূপলাল হাউজ
(রূপলাল হাউজ)
(রূপলাল হাউজ)
বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তরপাশে ফরাসগঞ্জে দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলির এই বাড়িটি অবস্থিত। ঊনবিংশ শতকে ব্যবসায়ী রূপলাল দাস ও রঘুনাথ দাস দুই ভাই মিলে ৯১.৪৪ মিটকর দৈর্ঘের দ্বিতল ভবন তৈরি করেন। ১৯৪৭ সালে রূপলালের উত্তরাধিকারগন ঢাকা ত্যাগ করে পশ্চিম বঙ্গে চলে যান। বর্তমানে ভবনটি বাংলাদেশ পুরাতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
ক্যাফে কর্নার
(ক্যাফে কর্নার)
(ক্যাফে কর্নারের ভিতরের ছবি)
(ক্যাফে কর্নারের আলুর চপ)
পুরনো ঢাকার বাংলাবাজারের নর্থ ব্রুক হলে দোকানটি। ভোরের লুচি-সবজি, দুপুরে চিকেন বিড়িয়ানি, বিকেলে আলুর চপ,কাকলেট, ক্রামচপ, মোগলাই পরাটা, চিকেন ফ্রাই, চিংড়ি ফ্রাই ইত্যাদি পাওয়া যায়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোজনপ্রিয় মানুষের আনাগোনা থাকে। আমি সেই শৈশব থেকে ক্যাফে কর্নারে আসি, এখনো তাদের খাবারের পুরনো সেই স্বাদ এখনো ধরে রেখেছে।
কেরানিগঞ্জ ঢক ইয়ার্ড
(ডক ইয়ার্ডে জাহাজের মেরামত)
(ডক ইয়ার্ডের পাশে নৌকা ঘাট)
(নৌকা থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল)
বুড়িগঙ্গা নদীর দক্ষিনতীরে চরকালিগঞ্জ, বড়ইতলা এলাকায় এই ডক ইয়ার্ডের অবস্থান। পুরনো জাহাজ, শিপ মেরামত, ইঞ্জিন মেরামত, নতুন জাহাজ তৈরিতে কর্মব্যস্থ থাকে এই এলাকা।
ধন্যবাদ!
#Bangladesh
#BangladeshLocalGuides
#BDLG









