এবারের বাছাইটা ছিল একটু কঠিন।বলছিলাম লোকাল গাইড এর ২০০ তম মিটাপ এর কথা। সারা বাংলাদেশ থেকে মাত্র ৩৫ জন নির্বাচিত হবে। টিকতে পারব কি পারব না এ নিয়ে দ্বিধাতে ছিলাম। যাই হোক রেজিস্টেশন করেই ফেলি শেষমেষ। তারপর ২ ডিসেম্বর রাত ১২ টার পরে মেইলে জানতে পারি আমি ২০০ তম মিটাপের জন্য মনোনিত হয়েছি।
এখন উদ্দেশ্য সাতক্ষীরা কারন একটাই ২০০ তম মিটাপে অংশগ্রহন। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার চুন করি নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সমৃদ্ধ বরসা রিসোর্ট।
ভ্রমণ পিয়াসী মানুষ ভ্রমণের ক্ষেত্রে দুটি জিনিসকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। সেটা হচ্ছে প্রকৃতি পরিবেশ এবং আবাসন ব্যবস্থাকে। এ ক্ষেত্রে বরসা রিসোর্ট হতে পারে অবকাশ যাপনের জন্য চমৎকার একটি স্থান। আর এই বরসা রিসোর্টই আমাদের ২০০ তম মিটাপের ভেনু।
আজ আমি মিটাপের ২য় দিনের সুন্দরবন ভ্রমন ও আমাকে সবচেয়ে বেশী আকর্ষন করেছে তা হল বানর। সকাল আটটায় ডিম খিচুড়ী দিয়ে জমপেশ একটা নাস্তা সেড়ে আমরা আগে থেকে ঠিক করা ট্রলারে উঠে গেলাম।
কিছু দুর যেতেই বিমোহিত হতে থাকি সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবন দেখে । পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এ ম্যানগ্রোভ বনে গাঢ় সবুজের সমারোহ দেখে আমি মুগ্ধ হতে থাকি। খেলপতোয়া নদীর উপর বয়ে চলা ট্রলারে চলতি পথে অবলোকন করতে থাকি শুধু সবুজ আর সবুজের মেলা।
হরেক রকমের জীব-জন্তু, পাখ-পাখালি, আর কীট-পতঙ্গ। অপরুপ শোভা দেখতে দেখতে আমরা চলে আসি কলাগাছিয়া ইকোটুরিজ্যম এ । কলাগাছিয়া ইকোটুরিজ্যম এ নামতেই বানরগুলো দলবেঁধে নেমে আসে ট্রলারের দিকে।
তাড়া দিতেই শুরু হয় তাদের স্বভাবসুলভ চাঞ্চল্য, দুষ্টুমি ও নাচ। দূরন্ত এ প্রাণীটি মানুষ দেখলেই খাবারের লোভে ছুটে আসে। বানরের বাঁদরামি আমাকে খুব সহজেই মুগ্ধ করে। তাদের রাজকীয় ভাবভঙ্গি, গাছের মগডালে দোল খেলা, নিজেদের মধ্যে ইটিসপিটিস গুলো সবসময় আমাকে আকর্ষন করে। তাই বানরের সাথে ছবি তুলতে দেরী করিনি।






