২০২০ সাল, তখন আমাদের বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে কভিড ১৯ করোনা ভাইরাসে সকলেই আতঙ্কিত, দোকান শপিংমল সব বন্ধ, শুধু বেশি প্রয়োজনীয় গুলো ছাড়া, আমি যেহেতু মোবাইল এক্সসরিস দোকান করি
আমারটাও বন্ধ ছিলো, তখনই শুরু করি অনলাইন পার্টটাইম ডেলিভারি নিজের সাইকেল দিয়ে, আলহামদুলিল্লাহ চট্টগ্রাম শহরে প্রায় শতাধিক মানুষের ডেলিভারি করেছি, নিয়মিত ৮ থেকে ২৪ পর্যন্ত ডেলিভারি করতাম।
ডেলিভারি সার্ভিস করার সময় সকাল দুপুর ও রাতের খাবার আমি নিজেও বিভিন্ন অনলাইন হোমমেইড খাবার নিতাম, নিজে পিক করে বাসায় এসে খেয়ে নিতাম।
কাজ করতে করতে অনেক ভাই -বোন দের সাথে ভালো একটা সুসম্পর্ক তৈরি হয় আলহামদুলিল্লাহ।
একদিন এক অনলাইন উদ্যোক্তা বলেন আজকে আপনার জন্য রাতের খাবার আমি দিবো আপনি কোন স্থানে অর্ডার করিয়েন না, ঠিক অর্ডার অফ করে উনার খাবার আনলাম। বাসায় গিয়ে বক্স খুলে আমি অবাক, একটা বাক্সে ৬ পিস মুরগী ধ্বংস ঝোলসহ, মাছ ৬ পিস, ডিম ৬ পিস, গরুর মাংস এক বাটি, চিংড়ি মাছ ৬ পিস, মুরগী ফালুদা এক বক্স ও দুই রকমের ভাত।
আমি একা একজন মানুষ তাও আবার রাতের এগারোটা প্লাস বাসায় আসলাম, করোনা সময়ে, আমার কোন ফ্রিজ ও নেই, খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম, যিনি দিয়েছেন উনাকে ধন্যবাদ দেওয়ার পরিবর্তে একটু মেজাজ গরম করে কথা বললাম কেনো এতো খাবার পাঠালো, খেতে বসে কয়েকপিস খেয়ে বাকি সব খাবার কি করবো চিন্তা করতে করতে মনে পড়লো আরও এক উদ্যেক্তার কথা উনি আমার বাসা থেকে ৫/১০ মিনিট হাঁটা দূরত্বে বসাবাস করেন, উনাদের বাসায় রাত ১২ টা ত্রিশ মিনিটে গিয়ে কল করলাম, উনারা ভয় পেয়ে ছেলে মেয়ে সব বাইরে চলে আসে এত রাতে কি জন্য আসলাম, তারপর উনাদের বললাম এ খাবার গুলো রাখেন আগামীকাল দুপুরে আপনাদের বাসায় দাওয়াত খাবো, বিস্তারিত কিছু না বলে চলে আসার সময় উনি সেই সময় একটা ব্রান্ডের স্প্রে উপহার দেন উনার বাসা থেকে, টেনশন মুক্ত হয়ে বাসায় এসে ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরেরদিন সকালে সেই উদ্যেক্তা বোন কল দিলেন দুপুরে আসার জন্য, যোহরের নামাজের পর চলে গেলাম আমাদের চন্দনাইশের বিখ্যাত পেয়ারা নিয়ে, বোন খাবার গুলো ছাড়াও রান্না করলেন ইলিশ পোলাও কয়েক রকমের ভর্তা, কালাভুনা। বোন ও উনাদের ফ্যামিলী সহ একসাথে খেয়ে, খাবার শেষে চা খেয়ে আমার বাসায় চলে আসলাম, এই এক বছরের অনলাইন খাবার ক্রয়ে প্রায় দুই শতাদিক অনলাইন উদ্যেক্তাদের সহোযোগি হয়েছিলাম, প্রায় সকলের বাসায় গিয়ে খাবার পিক করলেও প্রথমবার ঘটনাক্রমে কোন একজন অনলাইন উদ্যেক্তাতার বাড়িতে খাবার গ্রহণ করলাম।
বর্তমানে আমাদের পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোভাবে চলার জন্য বিভিন্ন রকমের খাবার নিয়ে ও আরও অনেক প্রডাক্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদের সকলের উচিত, এই ছোট ছোট উদ্যেক্তাদের নিজেদের সাধ্যমতো ক্রয় করে উনাদের পাশে থাকার চর্চা করি।একজন অন্যজনের সহোযোগি হয়ে এগিয়ে চলি, সকলকে ধন্যবাদ।





