নাগলিঙ্গম কোনো সাপ নয়, বরং এটি হচ্ছে এক প্রকার বৃক্ষ ও এর ফুল। ইংরেজি তে এর নাম “Cannonball Tree”. এই গাছের আদি নিবাস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চল। তবে দু তিন হাজার বছর ধরে ভারতেও এ বৃক্ষটি জন্মাচ্ছে। ফুলটির পরাগচক্র দেখতে অনেকটা সাপের ফণার মতো, এজন্যই হয়তো এর নাম নাগলিঙ্গম। নাগলিঙ্গমের ফল হাতির প্রিয় খাবার, এজন্য কোথাও কোথাও এটি ‘হাতির জোলাপ’ নামেও পরিচিত।
নাগলিঙ্গম গাছে ফুল।
নাগলিঙ্গম গাছে ফুল ও ফল। (ছবিটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)
নাগলিঙ্গমের ফুল গাছের গুড়ি ফুড়ে বের হওয়া দড়ির মতো দন্ডের মঞ্জুরিতে ফোটে। এই ফুলগুলো আকারে বেশ বড় হয়। ফুলের পাপড়ি মোটা এবং ফুলে রয়েছে লাল, গোলাপি ও হলুদ রঙের সংমিশ্রণ। মার্চ মাসে ফুল ফোটা শুরু হয় এবং জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত থাকে। এই ফুল সৌরভের জন্যও বিখ্যাত। গাছের কাছে গেলেই তীব্র সুগন্ধ মাতাল করে তোলে। বিরল প্রজাতির ফুলটির সৌরভে রয়েছে গোলাপ আর পদ্মের সংমিশ্রণ।
নাগলিঙ্গম ফুল।
পৃথিবীর অনেক দেশে এই গাছ পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে খুব কম দেখা যায়। বাংলাদেশের যেসব জায়গায় নাগলিঙ্গম গাছ আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, রমনা পার্ক, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, নটরডেম কলেজ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ওসমানী মিলানায়তন, বরিশালের বিএম কলেজ, গফরগাও সরকারি কলেজ, গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। এছাড়াও আরও অনেক জায়গায় এই নাগলিঙ্গম গাছ রয়েছে।
দেখতে সাপের ফণার মতো!
নাগলিঙ্গম গাছের কাঠ দিয়ে দক্ষিণ আমেরিকায় আসবাবপত্র তৈরি করা হয়। এই গাছের পাতার রস বিভিন্ন রোগ যেমন- পেটের পীড়া, ডায়রিয়া উপশমে সহায়ক, ব্রণের সমস্যা দূর করতেও অনেকে নাগলিঙ্গম পাতার রস ব্যবহার করে। নাগলিঙ্গম যেমন অর্থনৈতিক গুরুত্ব, ঔষুধী গুণাগুন বহন করে তেমনি এটি সুগন্ধী ছড়ানোর মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধনেও সহায়ক।
যেহেতু নাগলিঙ্গম একটি বিরল প্রজাতির বৃক্ষ, আমাদের উচিত এই গাছের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং গাছ লাগানোর মাধ্যমে সংখ্যা বৃদ্ধি করা যেহেতু এর ঔষুধী গুণাগুন ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।
বিঃদ্রঃ উপরের তথ্যগুলো ইন্টারনেট ব্যবহার নেওয়া হয়েছে।





