টাঙ্গাইল জেলার দর্শনীয় স্থানের মধ্যে বাসাইল উপজেলার বাসুলিয়ার চাপরা বিল খুবই মনোরম ও সুন্দর। বাসুলিয়া চাপরা বিলে সাধারণত বর্ষা মৌসুমে দর্শনার্থীরা ভিড় জমান।শতাধিক বর্ষীয় ঐতিহ্যবাহী হিজল গাছটি “চাপড়া বিল” এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সবচেয়ে বড় আকর্ষন।চাপড়া বিলের জন্ম ইতিহাস কয়শত বছরের পুরোনো তা এলাকার কেউই বলতে পারে না। তবে নির্জন বিলের মাঝখানে আশ্রিত হিজল গাছটির বয়স দেড়শত বছরেরও অধিক বলে অনুমান করা হয়। গাছটির জন্ম ইতিহাস এবং গাছকে নিয়ে এলাকায় অনেক ধরনের কল্পকাহিনী প্রচলিত আছে।
এরকম জনশ্রুতিও আছে, কোন এক বর্ষার মৌসুমে ভাসতে ভাসতে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে কালের স্বাক্ষী এই গাছটি। তারপর থেকে শতাধিক বছর ধরে বণ্যা, ঘুর্ণিঝড়, সাইক্লোন, টর্নেডোসহ নানা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সাথে প্রানপণ লড়াই করে আজো ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে মাথা তুলে দাড়িয়ে আছে গাছটি। গাছটি আমাদের ইতিহাস, আমাদের ঐতিহ্য।
দর্শনার্থীদের লাফালাফিতে প্রতিবছর যে হারে গাছটির ডাল-পালা ভেঙ্গে পড়ছে তাতে গাছটির অস্তিত্ব নিয়ে এলাকাবাসী শঙ্কিত। বিভিন্ন কারনে গাছটি বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলছে যার প্রভাব এই গাছের উপরেই পড়ে বেশি কর।
বর্ষা মৌসুমে বিশেষ করে বছরের দুই ঈদে এখানে দর্শনার্থীদের উপড়ে পড়া ভিড় থাকে। নৌকা মোটরসাইকেল সিএমসি প্রাইভেট কার যে যেভাবে পারে এখানে ভ্রমণ করতে আসে।
বাসুলিয়ার চাপরা বিলে দর্শনার্থীরা ভ্রমণ করতে এসে সাধারণত ছোট ছোট নৌকা নিয়ে হিজল গাছের আশেপাশ দিয়ে ভ্রমণ করে এবং ভিজল কাজ এবং বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন।
অনেক দর্শনার্থীদের ভিড়ের কারণে কিছু বিরূপ প্রভাব এই গাছের উপর পরে। যেমন:
এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের নিকট গাছটি পূজনীয়। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে (মাঘ মাসের প্রথম দিন) সিদ্ধেশ্বরী পূজার আসর বসে ঐ গাছের নিচে। গাছটির উপর এরকম নির্যাতন তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতিতে আঘাত হানার শামিল। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গাছটির উপর এরকম নির্যাতন বন্ধ করা উচিত।
চাপড়া বিল” এর অনাবিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষন এই গাছ। গাছটি বেঁচে না থাকলে “চাপড়া বিল” এর সৌন্দর্য্য ও দর্শনার্থীদের আকর্ষন বহুলাংশে ক্ষুন্ন হবে।
শুষ্ক মৌসুমে চাপড়া বিলের ফসলের মাঠে কাজ করে পরিশ্রান্ত কৃষকেরা ঐ গাছের সুশীতল ছায়াতলে বিশ্রাম নিয়ে কর্মস্পৃহা লাভ করে।
শতাধিক বছরের ইতিহাসের স্বাক্ষী ঐ গাছটি। ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা বিবেচনা করলেও গাছটিকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সকলেরই দায়িত্ব।
কিভাবে আসবেন এখানে…
কেউ যদি ঢাকা থেকে আসতে চান তাহলে তাকে ঢাকা থেকে মির্জাপুর উপজেলার গোড়ায় বাস স্ট্যান্ডে নামতে হবে তারপর সেখান থেকে পাহাড় সখিপুর রোডের নলুয়া নেমে সেখান থেকে বাশাল উপজেলার বাশফুলিয়া চাপড়া দিলে সিএনজি করে সহজে যেতে পারবেন।
আর কেউ যদি টাংগাইল শহর থেকে আসতে চান তাহলে তাকে টাঙ্গাইল থেকে সিএনজি করেন বাসাইল উপজেলা আসতে হবে সেখান থেকে বাসুলিয়া চাপড়া বিলে আসতে পারবেন খুব সহজেই।




