শ্রীমঙ্গল : সারি সারি টিলায় সবুজে সজ্জিত চা বাগান আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর যন সবুজ অরণ্যের অপরূপ সৌন্দর্য। হ্যা, আমি শ্রীমঙ্গলের কথা বলছি। এ নয়নাভিরাম প্র্র্রাকৃতিক দৃশ্য আর সৌন্দর্যের লীলাভুমিতে থেকে যেতে ইচ্ছে করে সারাটা জীবন। প্রকৃতির মায়ায় যে কেউ এখানে হারিয়ে যাবে। এখানে আরও হাওর, বিল আর বনভুমি।
শ্রীমঙ্গল শহরের প্রবেশমুখ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে রয়েছে চা-কন্যা ভাস্কর্য ‘চায়ের দেশে স্বাগতম’। দৃষ্টিনন্দন এই ভাস্কর্যটি শ্রীমঙ্গলে আগত পর্যটকদের প্রবেশপথেই চায়ের শহরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।
শ্রীমঙ্গলের দর্শনীয় স্থান:
১. লাউয়াছড়া সংরক্ষিত উদ্যান
২. মাধবপুর লেক
৩.পদ্ম লেক
৪. চা বাগান
৫. বাইক্কা বিল
৬. চা রিসোর্ট ও জাদুঘর
৭. হামহাম ঝর্ণা
৮. নীলকন্ঠের সাত রঙের চা
৯. লাসুবন গিরিখাদ
১০. সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা
১১.বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ
১২. রাবার বাগান
১৩. স্বর্ণালী ছড়া।
যেভাবে যাবেন: দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে ট্রেন, বাস অথবা গাড়ি যোগে আসতে হবে শ্রীমঙ্গলে। ঢাকা থেকে চারটি আন্তঃনগর ট্রেন এবং ঢাকার ফকিরাপুল, সায়দাবাদ ও মহাখালি থেকে বিভিন্ন বাস সারাদিনই ছেড়ে যাচ্ছে শ্রীমঙ্গলের দিকে।
ট্রেনসমূহ : পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেস,উপবন এক্সপ্রেস।
বাস: হানিফ, শ্যামলী, এনা,ইত্যাদি পরিবহনের নন-এসি ও এসি।
কোথায় থাকবেন :শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য রয়েছে বেশ কিছু সুন্দর মনোরম রিসোর্ট। লাউয়াছড়ার খুব কাছে গ্রান্ড সুলতান গলফ রিসোর্ট নামে পাঁচ তারকা মানের রিসোর্ট রয়েছে। আছে চা বাগান ঘেঁষা অনেক কটেজ ও সরকারি -বেসরকারি গেস্ট হাউজ। এছাড়াও শহরে রয়েছে বিভিন্ন মানের হোটেল।
আমাদের ভ্রমণ: আমাদের ভ্রমণ ছিলো একদিনের ভ্রমণ। সাপ্তাহিক এক ছুটির দিনে খুব ভোর বেলা ঢাকা থেকে ভাড়া করা গাড়িতে করে আমরা রওনা হই চা এর দেশে। ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলের দুরত্ব ১৮৭ কি: মি: । খুব ভোরে বের হওয়ায় আমরা সকাল ১০ টার মধ্যে শ্রীমঙ্গল পৌঁছে যাই। পথিমধ্যে একটি রেস্টুরেন্ট থেকে আমরা আমাদের সকালে নাস্তা করি।শ্রীমঙ্গল পৌঁছে আমরা প্রথম চলে যাই লাউয়াছড়া উদ্যান দেখতে।শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে লাউয়াছড়ার অবস্থান। লাউয়াছড়া যাওয়ার পথে চোখে পড়বে বধ্যভূমি-৭১, নয়নাভিরাম চা বাগান, টি রিসোর্ট প্রভৃতি। লাউয়াছড়ার প্রবেশ পথে শুনতে পাবেন ঝিঁ-ঝিঁ পোকার অবিরাম শব্দ এবং গাছে গাছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির। পৃথিবীর যে চারটি দেশে বিপন্ন প্রজাতির উল্লুক দেখা যায়, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এ উল্লুকের বৃহত্তম আবাসস্থল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। পাখি দেখার জন্যও এটি যেন এক স্বর্গোদ্যান। এখানে প্রকৃতি তার সৌন্দর্য ভান্ডার অকৃপন ভাবে বিতরণ করেছে। বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, বিচিত্র রকমের বন্য প্রানী এখানে রয়েছে। গ্রীষ্মমন্ডলীয় চিরহরিৎ ও মিশ্রচিরহরিৎ বন এটি যার আয়তন ১২৫০ হেক্টর। উদ্যানের পাশেই রয়েছে দুটি খাসিয়া পুঞ্জি। তাদের আবাসস্থল টিলার ওপর এবং জীবিকা পান চাষ। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ করতে প্রাপ্তবয়স্কদের ২০ টাকা, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও ছাত্রছাত্রীদের ১০ টাকা, পিকনিক স্পটে প্রতিজন ১০ টাকা এবং বিদেশিদের ৫ ডলার পরিশোধ করতে হয়। প্রবেশ পথে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
এরপর আমরা চলে যায় মাধবপুর লেক ও চা বাগান দেখতে। চারিদিকে সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত মাধবপুর লেকটি সত্যি অপূর্ব। শ্রীমঙ্গল থেকে ১০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। লেকের ঝলমল পানি, ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ, শাপলা শালুকের উপস্থিতি আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলে। আস্তে আস্তে যতই সামনের দিকে এগুতে থাকবেন ততই ভাল লাগবে। মাধবপুর লেকে গিয়ে পৌঁছতেই সবুজ পাতার গন্ধ যে কারো মনকে চাঙ্গা করে তুলবে। চারদিকে সবুজ পাহাড়। পাশাপাশি উঁচু উঁচু টিলা। সমতল চা বাগানে গাছের সারি। পাত্রখলা চা বাগানে মাধবপুর লেকটির অবস্থান ।চা-বাগান কর্তৃপক্ষ চা-বাগানের টিলার নিচে লেকের পাড় ঘেঁষে হাঁটার জন্য সরু পথ করে দিয়েছে। মাধবপুর লেক একসঙ্গে জল, পাহাড়, চা-বাগানের সংমিশ্রন।
তারপর আমরা শ্রীমঙ্গল শহরে চলে আসি । সেখানে একটা রেস্টুরেনে্ট আমরা আমদের দুপুরের খাবার খাই। এর পর কিছুক্ষন বিরত দিয়ে আমরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হই। আমরা ঢাকা পৌঁছায় রাত ৯ টার সময় । অবশেষে আমরা একটা সুন্দর দিন উপভোগ করতে পারলাম।





