কান্তজিউ মন্দিরটির অবস্থানঃ
কান্তজিউ মন্দির বা কান্তনগর মন্দির বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের দিনাজপুর জেলা শহর হইতে আনুমানিক (২০ কিলোমিটার বা ১২ মাইল) উত্তর দিকে কাহারোল উপজেলা সদর হতে আনুমানিক প্রায় ৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে সুন্দরপুর ইউনিয়নে জিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ঢেঁপা নদীর তীরবর্তী গ্রামে কান্তনগর নামক স্থানে এই প্রাচীন মন্দিরটি অবস্থিত।
বিশেষ করে এই মন্দিরটি হিন্দু ধর্মের কান্ত বা কৃষ্ণের মন্দির হিসেবে বেশ পরিচিত যা লৌকিক মুখে রাধা-কৃষ্ণের ধর্মীয় প্রথা হিসেবে বাংলায় প্রচলিত। আনুমানিক ধারণা করা হয়, মহারাজা সুমিত হর কান্ত এখানেই জন্ম গ্রহণ করেছিলেন।
মন্দিরের উত্তর দিকের ভিত্তিবেদীর শিলালিপির তথ্য থেকে জানা যায় যে, তৎকালীন দিনাজপুর এলাকার মহারাজা জমিদার প্রাণনাথ রায় তার শেষ বয়সে মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। মহারাজা প্রাণনাথ রায়ের মৃত্যুর পর তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার পোষ্যপুত্র মহারাজা রামনাথ রায় ১৭ শতকে মন্দিরটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন। প্রথম দিকে মন্দিরের চূড়ার উচ্চতা ছিলো আনুমানিক ৭০ ফুট যা ১৮ শতকে মন্দিরটি ভূমিকম্পের কারণে মন্দিরের চূড়াগুলো ভেঙে যায়। পবর্তীতে মহারাজা গিরিজানাথ মন্দিরের ব্যাপক সংস্কার করলেও মন্দিরের চূড়াগুলো আর সংস্কার করা হয়নি।
এই মন্দিরের বাইরের দেয়াল গুলোতে পোড়ামাটির ফলকে লেখা আছে রামায়ণ, মহাভারত এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক কাহিনীগুলো। এই মন্দিরে আনুমানিক প্রায় ১৫,০০০ এর মতো টেরাকোটা টালি রয়েছে, আর উপরের দিকে তিন ধাপে উঠে গেছে মন্দিরটি পরিধি। মন্দিরের চারদিকের সবগুলো জানালা দিয়েই ভেতরের দেবমূর্তি দেখা যায়। মন্দিটির নিচতলার সকল প্রবেশপথে বহু খাঁজযুক্ত জানালা রয়েছে। দুইটা ইটের স্তম্ভ দিয়ে জানালাগুলো আলাদা করা হয়েছে, স্তম্ভ দুটো খুবই সুন্দর এবং সমৃদ্ধ অলংকরণযুক্ত। মন্দিরের পশ্চিম দিকের দ্বিতীয় বারান্দা থেকে সিঁড়ি উপরের দিকে উঠে গেছে। মন্দিরের নিচতলায় ২১টি এবং দ্বিতীয় তলায় ২৭টি দরজা-জানালা রয়েছে, তবে তৃতীয় তলায় রয়েছে মাত্র ৩টি করে জানালা।
২০১৭ সালে কলকাতার বইমেলায় বাংলার নিজস্ব স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন স্বরূপ হিসাবে বাংলাদেশ সরকার প্যাভিলিয়নটি কান্তজিউ মন্দিরের আদলে গড়ে তোলেন।
কান্তজীউ বা কান্তনগর মন্দির**,**
কাহারোল**,** দিনাজপুর বাংলাদেশ।
![]()



