বর্ষায় বিশাল জলরাশির বুকে বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট গ্রাম যেন একেকটা ছোট ছোট দ্বীপ। হাওরজুড়ে গলা ডুবিয়ে থাকা হিজল গাছের সারি বা পানির নিচ থেকে জেগে ওঠা করচের বন। হেমন্তে বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠের মাঝে কৃষকের ফসল উৎপাদনের ধুম, আর সারা বছর জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য এমনই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওর।
প্ল্যানিংঃ
একদিন অথবা দুইদিনের জন্য ট্যুর প্ল্যানিং করা যাবে নিকলি হাওর ঘুরে আসার জন্য।
একদিনের প্ল্যান করলে সকাল ৭ টাই ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ এর ট্রেনে গিয়ে সেখান থেকে সিএঞ্জি তে নিকলি ঘুরে মিঠামাইন অষ্টগ্রাম ঘুরে সন্ধায় ব্যাক করতে পারবেন।
দুইদিন এর জন্য গেলে প্রথম দিন সারাদিন নিকলি ঘুরার পর, বিকেলে মিঠামাইন গিয়ে রাতে হাওড়ে খাওয়াদাওয়া করে পরের দিন সারাদিন মিঠামাইন, অষ্টগ্রাম ও আসেপাশে ঘুরে তার পর ব্যাক করতে পারবেন।
হাওরের বিস্তৃতিঃ কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও ইটনা উপজেলার প্রায় সবটুকু এলাকাজুড়ে বিস্তৃত নিকলী হাওর।
যা যা উপভোগ করবেনঃ দ্বীপের মতো ভেসে থাকা ছোট ছোট গ্রাম, মাছ ধরতে জেলেদের ব্যস্ততা, স্বচ্ছ জলের নাচন, রাতারগুলের মতো ছোট জলাবন ও হাওরের নানান স্বাদের মাছ।
নিকলী ভ্রমণের উপযুক্ত সময়ঃ বছরের যে কোন সময় হাওরের ভিন্ন এক রূপ দেখার জন্য হাওর ভ্রমন করতে পারেন ।পানির রূপ দেখতে চাইলে বর্ষাকাল সবুজ বিস্তীর্ণ মাঠ দেখতে চাইলে হেমন্ত কাল ও অনান্য সময় ঘুরে দেখার জন্য যাওা যাবে। তবে ভ্রমণের উপযুক্ত সময় জুলাই – সেপ্টেম্বর মাস।
যাওয়ার উপায়ঃ ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে যাওয়া যাবে। কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত ট্রেন চলে তার পরে মোটর সাইকেল বা সিএনজি ভাড়া নিয়ে যাওয়া যাবে হাওড়ে । বাস এ যাওয়ার জন্য ‘অনন্যা সুপার’ ও ‘যাতায়াত’ বাসে কটিয়াদি বা কিশোরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে নেমে সিএনজিতে নিকলী হাওর যাওয়া যায়।
ভাড়াঃ ঢাকা থেকে কটিয়াদি, কিশোরগঞ্জ জনপ্রতি ৪০০ টাকা বাস ভাড়া, সিএনজি ভাড়া জন প্রতি ৮০ টাকা ।
নৌকা ভাড়াঃ নিকলি থেকে মিঠামাইন যেতে নৌকা ভাড়া করা লাগবে। ভাড়া দরদাম করে নিতে পারলে ১৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকার মাঝে ভাড়া করতে পারা যাবে। এছাড়া এক ঘণ্টার জন্য ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা নেয়। নৌকাগুলো বেশ বড়সড় হওয়ায় ১৫-২০ জন পর্যন্ত ঘুরতে পারবেন।
নিকলীতে খাবারের ব্যবস্থাঃ নিকলি সিএনজি থেকে নেমে রেস্তোরাঁ পাওয়া যায় । রেস্তোরা গুলোতে নদীর তাজা মাছের সাথে আঞ্চলিক স্বাদের খাবার খেয়ে নিতে পারবেন।
যা যা করবেন নাঃ দাম দর না করে কোন যান-বাহনে উঠবেন না। খাবার খাওয়ার পূর্বে দাম জেনে নিয়ে খাবেন।
যা করবেন নাঃ ১। জিজ্ঞাসা না করে অপরিচত কারো পিকচার উঠাবেন না, ২। ময়লা যেখানে সেখানে ফেলাবেন না, ৩। রাতে হাওরে অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যাকআপ ছাড়া দুই-তিন জন রাত্রিযাপন করবেন না।


