ইট কাঠ পাথরের এই শহরে একটু প্রশান্তি এবং বিনোদনের জন্য হাহাকার করে মাংসের খাচায় বদ্ধ আত্মা গুলো। শহরের একঘেয়ে মানুষজন একটু প্রশান্তির খোঁজে গ্রামীণ এলাকায় যেতে চায় আর তা শহরের খুব কাছে হলে ত কথাই নেই । এই পোস্টে লিখব সারিঘাট আর শরতের কাশবন নিয়ে , এ সময় কাশ বনে যাওয়ার কারণে শেষ নেই আর কাশবনের ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলায় শেষ নেই, সকালে এক রূপ কিংবা সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের সময় আরেক বৃষ্টির সময় তার রূপের যে কত খেলা তা বলে শেষ করা যাবেনা।
চলুন আগে ভিডিও দেখে নেই তার পর ছবি দেখি আর বিস্তারিত জানি
এবার শুরু করা যাক সারিঘাট নিয়ে কিছু কথা
সারিঘাট: সারিঘাট হচ্ছে বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রোজেক্টের পিছনের একটি এরিয়া যা আইন্তা এবং আড়াকুল গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি খালের অংশবিশেষ।
খালের পাশ দিয়ে রয়েছে সার ধরে করেই গাছ যার ফলে এখন এই জায়গাটা সারিঘাট নামে বেশি পরিচিত।
খালের নব্যতা বাড়ানোর জন্য ড্রেজিং করা হয়েছিল এবং রিভার প্রজেক্ট এর বালু আড়াকুল গ্রামের দেখে ফেলার কারণে এখানে শরৎকালের দেখা মিলে বিস্তীর্ণ কাশবন। খাল বিল আর গাছ পালার কারনে অনেকটা গ্রামীণ মনে হয় যা একটু মনে প্রশান্তি এনে দিবে আপনাকে ।
খালের কিনারা জুড়ে দেখা মিল্বে প্রায় কিলো খানেক এমন গাছের সারি আর সাথে রয়েছে কিছু অস্থায়ী খাবারের দোকান
কিভাবে যাবেন:
যেকোনো স্থান থেকে কেরানীগঞ্জ হাসনাবাদ বাস স্ট্যান্ড/পোস্তগোলা ব্রীজের কেরানীগঞ্জ প্রান্ত,ব্রিজের গোড়া থেকেই রিকশাতে সারিঘাট 30 টাকা নিবে ছুটির দিনে 40 টাকা নিতে পারে, মাঝে মাঝে ভাড়া অনেক বেশি নেয় চাপ বারলে ।
শরতকালে কাশবনে যেতে চাইলে সারিঘাটের শেষ দিক দিয়ে হেঁটে যেতে পারেন আর যদি তাড়াহুড়া থাকে তবে নৌকায় পার হতে পারেন।
খালের পরিষ্কার পানিতে গোসল করায় মত্ত কিছু কিশোর
কাশবন ছাড়া আর কি দেখার এবং ঘুরার আছে:
সারিঘাট শুরুতেই পড়বে কায়াকিং দেড়শ টাকা জনপ্রতি নিবে। এখানে মাত্র তিনটি কায়াক বোট আছে তাই বিকেল বেলা একটু চাপ পড়ে কায়াকিং করার জন্য তাই পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে যাবেন। এছাড়া নৌকা ভাড়া করতে পারেন ঘণ্টা প্রতি 100 টাকা থেকে শুরু হয়।
চোখ জুরানো বিস্তীর্ণ কাশবনের মেলা
কাশবন থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য
খাওয়া-দাওয়া: এখানে বেশ অনেকগুলো টং ঘর রয়েছে যেখানে আপনি গোল গোলা ,চাপটি, পিয়াজু আলুর চপ, ঝালমুড়ি ফুচকা খেতে পারেন।
নতুন কিছু রেস্টুরেন্টে হয়েছে সেগুলোতে আপনি বারবিকিউ সহ অন্য খাবারগুলো চেখে দেখতে পারেন।
কখন গেলে ভালো: ছুটির দিন বাদে গেলে সকাল দশটা এগারোটা থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুরে আসলে ভালো কারণ বিকালে প্রচুর মানুষ ঘুরতে যায়






