বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে একদিনঃ

বালিয়াটি রাজ বাড়ি

হ্য়ালো, লোকাল গাইড, কেমন আছেন আপনারা? করোনা আপদকালীন সময় ঘরে বসে সময় পার করছি। হঠাৎ মনের ইচ্ছা থেকে লিখা শুরু করলাম।

কয়েক বছর হল মানিকগঞ্জের বালিয়াটি রাজ প্রাসাদ দেখতে গিয়েছিলাম। তার কিছু সৃত্মি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

মানিকগঞ্জ থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে ,সাটুরিয়া উপজেলায় এটি অবস্থিত। আমি আমার আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে পরিবারের অনেক জন মিলে বালিয়াটি জাওয়ার প্লান করি। আমরা দুটি ইজি বাইক ভাড়া করি যেহেতু বালিয়াটির কাছাকাছি ছিলাম। অল্প কয়েক মিনিট বা ১ ঘন্টার মধ্যে সেখানে পৌছিয়েছিলাম।

রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৩৫ মাইল উত্তরপশ্চিমে এবং মানিকগঞ্জ জেলা সদর থেকে ৮ মাইল পূর্বে সাটুরিয়া উপজেলায় বিখ্যাত বালিয়াটি জমিদার বাড়ি অবস্থিত। বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি প্রায় ২০০ বছর পুরাতন। এই জমিদারবাড়িটির উত্তরে একসময় গাজীখালী নদী প্রবাহিত হত। ১৬০০০ বর্গমিটার আয়তনের বিশাল এই জমিদারবাড়িটিতে প্রায় ২০০টি কক্ষ রয়েছে। জমিদারবাড়ির পেছনে অবস্থিত পুকুরের এক প্রান্তে চারটি ঘাট আছে এবং অপর প্রান্তে বেশকিছু শৌচাগার রয়েছে।

জমিদারবাড়ির একটি অংশ রায় চাঁদের কাছ থেকে অন্যান্য জমিদারদের প্রথম স্ত্রীদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্তির কারনে এই প্রাসাদটি ‘দশ-আনি-জমিদারবাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল। জমিদার কিশোরিলাল চৌধুরী এবং রায়বাহাদুর হরেন্দ্র কুমার রায় চৌধুরী এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে জ্ঞান বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন এবং এই কারনে জগন্নাথ কলেজ এবং কে এল জুবিলী হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। মূল জমিদারবাড়িতে পাঁচটি একই রকম কিন্তু ভিন্ন ভাগ ছিল। জমিদারবাড়ির দক্ষিনে বর্তমানে স্থায়ী ৪টি আকর্ষণীয় অংশ অবস্থিত। এগুলোর মধ্যে মাঝের দুটি অংশ হল দোতলা এবং পাশের বাকি তিনটি অংশ তিনতলা।

জমিদারবাড়িকে ঘিরে থাকা সুউচ্চ প্রাচীরে তিনটি চমৎকার স্থাপত্যশৈলীর ফটক রয়েছে। বর্তমানে ‘বালিয়াতি প্রাসাদ’ নামকরণ করে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর এই জমিদারবাড়িটির অধিগ্রহন করে দেখাশোনা করছে।

মূল প্রাসাদসংলগ্ন একই রকম পাঁচটি অংশ আলাদাভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। পূর্ব দিকের একটি অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলেও বাকি চারটি টিকে আছে এখনো। মূল ভবনগুলোর সামনের দেয়ালজুড়ে নানা রকম কারুকাজ আর মূর্তি চোখে পড়ে। বালিয়াটি জমিদারবাড়ির ঘিরে তৈরি করা প্রাচীন আমলের সেই প্রাচীর এখনো টিকে আছে। এ চার দেয়ালের মাঝে এখন রয়েছে চারটি সুদৃশ্য ভবন।

ভবনগুলোর সামনে প্রাচীরের দেয়ালে রয়েছে চারটি প্রবেশ পথ। চারটি প্রবেশ পথের চূড়ায় রয়েছে পাথরের তৈরি চারটি সিংহমূর্তি। বালিয়াটি জমিদারবাড়ি মূলত পাঁচটি মহলে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে টিকে আছে প্রায় একই রকম চারটি মহল। চারটি মহলের মাঝের দুটি দোতলা আর দুই পাশের দুটি তিনতলা ভবন। ভবনগুলোর পেছনের দিকে আছে বড় একটি পুকুর। শানবাঁধানো ছয়টি ঘাট আছে পুকুরের চারপাশে।

বর্তমানে বালিয়াটি জমিদারবাড়ির অবস্থা খুবই করুণ। সংস্কারের অভাবে দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি।

কীভাবে যাবেন
ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে জনসেবা বা এসবি লিংক গেটলক পরিবহনের বাসে করে মাত্র দুই ঘণ্টায় সাটুরিয়া পৌঁছে যাওয়া যায়। বাসভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৭০ টাকা। সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে মাত্র ৩০ টাকা রিকশা ভাড়ায় চলে যেতে পারবেন বালিয়াটি জাদুঘর।

টিকেট
বালিয়াটি জাদুঘরের জনপ্রতি টিকেটের দাম দেশি দর্শনার্থীদের জন্য ২০ টাকা এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ১০০ টাকা। রোববার জাদুঘর পূর্ণদিবস বন্ধ থাকে এবং সোমবার বন্ধ থাকে অর্ধদিবস। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর খোলা থাকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

বালিয়াটিতে ভাল মানের কোন খাবার হোটেল নেই। রাত্রী জাপন করতে হলে মানিকগঞ্জে থাকতে হবে।

ইচ্ছা হলে আপনারাও ঘুরে আসতে পারেন বালিয়াটি রাজ প্রাসাদ থেকে।

গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা আছে তবে আপনাকে পার্কিং খরচ বহন করতে হবে।

40 Likes

Thank You @OmarBD vai for appreciating me.

Thank You for appreciating

অনেক সুন্দর আপনার পোস্টটি।

বিস্তারিতভাবে প্রাসাদটির বর্ণনা দিয়েছেন। সুযোগ হলে একসময় গিয়ে ঘুরে আসব।

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।

1 Like

Thank you @MS_Pathan vai that you are eager to go there. If find any time go to visit there.

2 Likes

Hello @Mak5 ,

The content you’ve posted does not appear to be your own and is in violation of the Local Guides program rules. It would be great if you could provide your own text.

Please make sure you edit it and remove the text that are not yours, or your post will be moved to the off-topic section of the community.

3 Likes

some information is collected but this is my post. @VasT I can not understand how does it appear.?

1 Like

@Mak5 ভাই,অনেক সুন্দর করে বর্ননা করেছেন. আমি অনেকবার গিয়েছি এই জায়গাটাতে. আমার পছন্দের এই জায়গা লেখার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে!!!

3 Likes

ধন্যবাদ ভাই @ShakilAK . জেনে খুশি হলাম। আমিও বাইক চালাতে পছন্দ করি।

1 Like

Lovely photos @Mak5 that show the lavish lifestyle of the zamindars.

~Greetings from New Delhi

2 Likes

Yes. @TusharSuradkar

Thank you for your comment.

1 Like
2 Likes

Thank you @Emmik20

1 Like

Thank you

1 Like

Thank You for appreciating me.

1 Like

অনেক সুন্দর লিখেছেন @Mak5 ভাই। লেখাটা বেশ কয়েকদিন আগের তবে আমি আজকেই দেখলাম। ভালো হয়েছে। ছবিরগুলোও সুন্দর হয়েছে। একটা সেলফি কম থাকলেও চলত :grinning: :grinning: . জায়গাটি ঢাকা থেকে বেশি দূরে নাই., তাই ভাবছি পপরিস্থিত স্বাভাবিক হলে ঘুরতে যাব. আপনার হাতে সময় থাকলে আপনাকেও সাথে নিব। ধন্যবাদ।

1 Like

@Mak5

নিজের জেলার ঐতিহাসিক স্থান নিয়ে লেখা পড়তে কার না ভালো লাগে! বেশ ভালো লিখেছেন।
ইদানিং যাওয়া হয়নি! তবে আগে অনেক যেতাম! এই স্থানটির দুরত্ব আমার গ্রামের বাড়ি থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার। তবে আমার বোনের বাড়ি থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দুরত্বে। এই জমিদার বাড়ির পাশ দিয়েই আমার বোনর বাড়িতে যাতায়াত করতে হতো।

3 Likes

Thank you dada @Designer_Biswajit . I got chance once to go there.

1 Like

Thank you @MukulR vai for your nice comment. Next time I will follow your advice.