স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাষ্কর্য চত্ত্বরে একদিন

গত বছর নভেম্বরের এক সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কিছু অবসর সময় ছিল। হাটতে হাটতে পৌছে ফুলার রোডে সলিমুল্লাহ হল, জগন্নাথ হল ও বুয়েট সংলগ্ন সড়ক দ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশের ইতিহাসের ধারক স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্য চত্ত্বরে।

সাথে সাথে কিছু ছবি তুলে ফেললাম আমার ওয়ান প্লাস মোবাইলের ক্যামেরায় আর নতুন করে আবিষ্কার করলাম পুরো ভাষ্কর্যটিকে। ১৯৯৯ সালের ৭ই মার্চ ততকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ভাষ্কর্যের উদ্বোধন করেন। ভাষ্কর ছিলেন শামীম শিকদার।

"স্বাধীনতা সংগ্রাম" ভাস্কর্যটি বাঙালি জাতির গৌরবজনক স্বাধীনতার ইতিহাসেকে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তুলে ধরে।

এ ভাস্কর্যটি মহান ভাষা অন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৬-র স্বাধিকার আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রামের আহ্বান, ২৫শে মার্চের কালরাত্রি, ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষণা, ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের বিষয়সমূহ তুলে ধরেছে। প্রতিটি আন্দোলনে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করা ১৮ জন শহীদের মুখাবয়ব দিয়ে পুরো ভাস্কর্য নির্মিত। সবার নিচে আমরা দেখতে পাই ভাষা শহীদের ভাস্কর্য এবং সবার উপরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য। আরো আছে আমাদের প্রাণপ্রিয় লাল সবুজ পতাকা।

এছাড়া স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল ভাষ্কর্যের চারিদিকে দেশ-বিদেশের শতাধিক কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, বিপ্লবী, রাজনীতিক, বিজ্ঞানীর আবক্ষ মোট ১১৬টি ভাস্কর্য রয়েছে এখানে। বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ভাষ্কর্য এটি। শ্বেত শুভ্র রঙের এই ভাষ্কর্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট এলাকার শোভা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি মানুষ বিশেষত শিশুরা এই ভাষ্কর্য দেখে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ইতিহাস সম্পর্কে জানার ব্যাপারে আরো আগ্রহী হয়ে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস। আর ভাষ্কর্যের সৌন্দর্য দেখে তো মন জুড়াবেই। তো অপেক্ষা কিসের, ঘুরে আসুন আর নতুন করে আবিস্কার করুন এই অনন্য সুন্দর ভাস্কর্যটিকে

15 Likes

@Wajahat_Anwar ভাই, অনেক যত্ন নিয়ে খুব সুন্দর লিখেছেন। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এই মহান দিনে আমাদেরকে এই লিখাটিিি উপহার দেওয়ারর জন্য এবং সকল শহীদদের প্রতি রইল সমবেদনা।

3 Likes

অনেক ধন্যবাদ ভাই। ভালো থাকবেন সব সময়।

2 Likes

অতি চমৎকার একটা পোস্ট @Wajahat_Anwar

2 Likes

অনেক ধন্যবাদ। :green_heart: :heart:

1 Like