মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মধুপল্লী এবং মধুমেলায় একদিন ।

মধুপল্লীতে “মধু মেলা ২০২০” । শীতের শেষ সময়ে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় যশোর জেলা প্রশাসন এ মেলা আয়োজন করে থাকে।

মেলার ইতিহাস: বাংলা সাহিত্যে সনেটের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার এই কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। কবির জন্মদিন উপলক্ষে প্রতি বছর সপ্তাহব্যাপি সাগরদাঁড়িতে এ মেলার আয়োজন করা হয় । কবির নাম অনুসারে এ মেলার নামকরন করা হয় “মধু মেলা “ । কবির মৃত্যুর পর কবির ভাইয়ের মেয়ে কবি মানকুমারী বসু ১৮৯০সালে কবির প্রথম স্মরণসভার আয়োজন করেন সাগরদাঁড়িতে। সেই আয়োজন থেকে শুরু হয় আজকের এই মধুমেলার।

সোর্স: (www.satkhirajournal.com)

মেলার বিবরণ: প্রতিবছরের মত এবারও কবির স্মরণে তার বসতভিটা সাগরদাঁড়িতে মধুমেলার আয়োজন করা হয়েছে। এবার মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৬তম জন্মজয়ন্তী। মেলা উপলক্ষে দুর-দুরন্ত থেকে অনেক দোকানপাট আসে । এছাড়া নাগর দোলা , চরকা, সার্কাস , পুতুলনাচ সহ অনেক আয়োজন থাকে । প্রচুর খাবারে দোকান, খেলনার দোকান, বেলুন ও মাটির তৈরী জিনিসের দোকান, বেতের তৈরী জিনিসের দোকন আরো অনেক দোন এখানে বসে। মেলা উপলক্ষে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। প্রচুর মানুষের সমাগম হয় । মেলা উপলক্ষে সাত দিন ব্যাপি সাংস্কৃত অনুষ্ঠান , গান-বাজনা, কবিতা আবৃতি ,নাটক , আলোচনা সভা ও অনান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মেলা ও মেলা উপলক্ষে আয়োজিত সমস্ত কার‌্যাবলি পরিচালনা করা হয় সরাসরি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে। এছাড়া মেলা উপলক্ষে কবির বিভিন্ন গ্রন্থ ও স্মৃতি বিশেষ প্রদর্শনের ব্যবস্থা হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসক কতৃক প্রতি বছর কবির স্মৃতিতে বিভিন্ন কবিদের লেখা নিয়ে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়।

কবির স্মৃতি জাদুঘর: কবির শৈশব সাগরদাঁড়ির এই দত্ত বাড়িতে কাটে ।এখানে রয়েছে তার ব্যবহার করা কয়েকটি ভবন, পুকুরঘাট এবং কবির নানা স্মৃতিবিজড়িত জিনিসপত্র যা নিয়ে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এর সাহায্যে কবির স্মৃতি নিদর্শন এবং আলোকচিত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি জাদুঘর । বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংস্কার করা এই দোতলা বাড়িটিতে রয়েছে মোট ছয়টি কক্ষ । এর মধ্যে উপরে রয়েছে তিনটি এবং নিচে রয়েছে তিনটি কক্ষ । এর নিচ তলায় রয়েছে কবি পরিবারের একটি মন্দির আর মধুসূদন জাদুঘর । মধুসূদন জাদুঘরে আছে কবির ব্যবহার করা খাট, চেয়ার ও আলমারি । এর পাশে রয়েছে একটি ছোট পাঠাগার । এই ভবনের একদম উত্তরদিকে আছে ছাদহীন-দেয়াল ঘেরা একটি অসাধারন নির্মাণশৈলীর একটি কক্ষ । এই কক্ষেরই কোণার দিকে রয়েছে তুলসী গাছ । মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাড়ির প্রবেশ পথের সামনে রয়েছে ১৯৮৪ সালের শিল্পী বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাসের নির্মিত কবি মধুসূদন দত্তের একটি ভাস্কর্য । প্রতি বছর বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী সহ দেশী -বিদেশী বহু পর্যটক এই মধুপল্লীতে ভ্রমনে আসে। পাশাপাশি এখানে একট পিকনিক কর্ণার ও ইকো পার্ক গড়ের উঠেছে। যা পর্যটকদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেবে এবং তাদের স্মৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

জাদুঘরের সময়সূচী : এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর— প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা এবং অক্টোবর থেকে মার্চ— প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে মধুপল্লী। শুক্রবার সাড়ে ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বিরতি। মধুপল্লীর সাপ্তাহিক ছুটি রবিবার, এছাড়া অন্যান্য সরকারী ছুটির দিনে বন্ধ থাকে।

জাদুঘরে প্রবেশমূল্য : দেশি পর্যটক ১০ টাকা, বিদেশি ১০০ টাকা।

পার্কিং মূল্য : বাস ১০০ টাকা, মাইক্রেবাস, জীপ, গাড়ি ৫০ টাকা। মোটর সাইকেল ১০ টাকা।

যাতায়াত ব্যবস্থা :

আকাশ পথে: ঢাকা থেকে যশোরঃ আকাশ পথেঃ ঢাকা থেকে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, রিজেন্ট এয়ারলাইন্স ও নভো এয়ারের বিমান নিয়মিত যশোরের পথে চলাচল করে।

সড়ক পথে: ঢাকা থেকে সড়ক, রেল ও আকাশপথে যশোর যাওয়া যায়। ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুর, কলাবাগান থেকে গ্রিন লাইন পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, ঈগল পরিবহন, শ্যামলী পরিবহনের এসি বাস যশোর যায়। ভাড়া ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা। এ ছাড়া হানিফ, শ্যামলী, সোহাগ, ঈগল ইত্যাদি পরিবহনের নন-এসি বাসও যশোর যায়। ভাড়া ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা।

রেলযোগে : ঢাকার কমলাপুর থেকে সপ্তাহের শনিবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৬টা ২০ মিনিটে আন্তঃনগর ট্রেন সুন্দরবন এক্সপ্রেস এবং সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় আন্তঃনগর ট্রেন চিত্রা এক্সপ্রেস যশোরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ভাড়া শোভন ৩৫০ টাকা, শোভন চেয়ার ৪২০ টাকা। প্রথম শ্রেণি চেয়ার ৫৬০ টাকা। প্রথম শ্রেণি বার্থ ৮৪০ টাকা। স্নিগ্ধা শ্রেণি (এসি চেয়ার) ৭০০ টাকা। এসি বার্থ ১,২৬০ টাকা।

যশোর থেকে সাগরদাঁড়ি: যশোর বাস টার্মিনাল থেকে বাসে আসতে হবে কেশবপুর। ভাড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। সেখান থেকে ব্যাটারি চালিত রিকশায় আসতে পারবেন সাগরদাঁড়ি। ভাড়া আনুমানিক ৭০ থেকে ১০০ টাকা। এছাড়া যেকেউ ইচ্ছে করলে বাস বা মাইক্রোবাস ভাড়া করে এখানে আসতে পারেন ।

রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা : মধুপল্লী যশোর শহর থেকে ৪৫ কিলোমিট্র দূরে অবস্থিত। তাই রাত্রিযাপনের জন্যে যশোর শহর উপযুক্ত স্থান। এখানে ব্যাক্তি মালিকানায় অনেক আবাসিক হোটেল আছে। ভাড়া আনুমানিক ২০০০ থেকে ৯০০০ টাকা। এছাড়া সাগরদাঁড়িতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের একটি মোটেল আছে। ভাড়া ৬শ’ থেকে ১২শ’ টাকা।

15 Likes

@Shuvojit323 হ্যালো!

আমি ক্লাস সেভেন পর্যন্ত যশোরে ছিলাম। ছোট বেলায় যে কতবার এই মধু মেলায় গিয়েছি, তা মনে করতে পারছি না। আমি ঐ খানের সংস্কৃতি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও করেছি। আপনার পোস্ট পড়ে কতকিছু মনে পড়ে গেলো। ধন্যবাদ

4 Likes

ধন্যবাদ আপু @Razonno_Mugdha , ছোট বেলা অনেকবার গিয়েছি সে সব অনেক মজার স্মৃতি, দলবেঁধে সাইকেল চালিয়ে মেলায় আসা সারাদিন থাকা আবার মাঝরাতে বাড়ি ফেরা । খুব মিস করি গ্রামে কাটানো সেই ছোট বেলা । অবশ্য আমার গ্রাম সাতক্ষীরাতে।

2 Likes

মধু মেলার নাম শুনছি কিন্তু যাওয়া হয়ে উঠে নাই আজো @Shuvojit323 , ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য

3 Likes

@Shuvojit323 ধন্যবাদ ভাইয়া আমাদের

সাথে এই সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য ।

3 Likes

সময় করে একদিন ঠিক চলে আসবেন @MahabubMunna ভাই । আপনার মূল্যবান কমেন্ট করে উৎসাহ দেওয়ার জন্যে ধন্যবাদ ভাইয়া।

ধন্যবাদ @ShahriarAzadEvan ভাই।