আসসালামু আলাইকুম লোকাল গাইডস,
সবাইকে মহান ভাষার মাসের শুভেচ্ছা । যেহেতু ফেব্রুয়ারি মাস আমাদের জন্য ভাষার মাস তাই আমার এই পোস্টটি
বাংলায় লিখতে বসেছি । কিছুদিন আগে আমি মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানায় অবস্থিত রাজা সীতারাম রায়ের রাজবাড়ি পরিদর্শন করেছি । এখন আমি আমার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি ।
ইছামতি, মধুমতি, গড়াই আর নবগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষা জেলা মাগুরা । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই জেলায় রয়েছে নানা প্রত্নতত্ত্বের নিদর্শন । মাগুরা জেলা শহর থেকে ১৮ মাইল পূর্বে মোহাম্মদপুর থানায় রয়েছে রাজা সীতারামের রাজধানী । রাজা সীতারাম রায় ১৭ শতকে এই অঞ্চলের প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন । তিনি ছিলেন একজন স্বাধীন রাজা । বাংলার নবাব শায়েস্তা খাঁ-র আমলে নবাব নিজে সীতারামের কর্মদক্ষতা দেখে তাকে “রাজা” উপাধি দেন ।
বাড়িতে একটি মাঝারি আকারের দুর্গ । দুর্গের ভেতরে অতীতে বহু স্থাপনা ছিল । বর্তমানে কেবল একটি প্রাসাদ, একটি দোলমঞ্চ, একটি কোষাগার, কয়েকটি মন্দির ও একটি দোতলা আরাম নিবাস ভাঙ্গাচোরা অবস্থায় টিকে আছে । এখানো সীতারামের নির্মিত বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসাবশেষ দেখা যাবে । ভেতরে এখনও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয় । সুন্দর একটু সময় কাটাতে চাইলে হাতে সময় নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন মধুমতি নদীর তীরের ঐতিহাসিক এই রাজ বাড়িটি থেকে । পর্যটকদের জন্য রাজবাড়ীটি একটি দর্শনীয় স্থান ।
আমি যেভাবে রাজা সীতারাম রায়ের রাজবাড়িতে গিয়েছিলামঃ
- ঢাকার আব্দুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে সোহাগ বাসে করে মাগুরা পর্যন্ত (বাস ভাড়াঃ ৪৩০ টাকা)
- কিন্তু আমি মাগুরা না নেমে ফরিদপুরের মধুখালীতে নেমেছিলাম
- তারপর মধুখালী থেকে নওপাড়া বাজার পর্যন্ত অটোরিকশা, ভাড়াঃ ২০ টাকা
- এরপর নওপাড়া বাজারের নৌকা ঘাট থেকে পাল্লা ঘাট পর্যন্ত, নৌকা ভাড়াঃ ১০ টাকা
- সবশেষে পাল্লা ঘাট থেকে মোহাম্মদপুর বাজার (রাজা সীতারাম রায়ের রাজবাড়ি) পর্যন্ত অটোরিকশা, ভাড়াঃ ৩০ টাকা
- সর্বমোটঃ ৪৯০ টাকা
বিঃদ্রঃ রাজা সীতারাম রায়ের রাজবাড়ির কোন প্রবেশ মূল্য নেই । তবে বিকেল চারটার আগে আপনাকে রাজবাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতে হবে, কারণ বিকেল চারটার পর ভিতরে প্রবেশ করতে দেয় না ।
আমার এই পোস্টটি পড়ার জন্য অনুরোধ করছি @Petra_M @KatieMcBroom @MoniDi
#LetsGuide
#LocalGuides


