সেন্ট মার্টিন কিংবা জিঞ্জিরা ভ্রমন

যেভাবে যাত্রা শুরু করিঃ

আমি আর বাকি সবার মতো টেকনাফ কিংবা কক্সবাজার হয়ে যাওয়ার সুযোগ হয় নি। বাংলাদেশ নেভি শিপে করে চট্টগ্রাম থেকেই সরাসরি সেন্ট মার্টিন যাই। প্রথম হিসেবে খুবই উত্তেজনা কাজ করছিল। রোমাঞ্চকর লাগছিল চারপাশের জলরাশিকে।

এক টানা শিপ চলছিল। টানা এক রাত একদিন শিপ চলার পর সেন্ট মার্টিন গিয়ে এংকর করে। দূর থেকে দেখছিলাম সেন্ট মার্টিন দ্বীপ টাকে। অধীর আগ্রহে ছিলাম কখন শিপ থেকে নেমে যাবো ওখানে। সেন্ট মার্টিনের নীলাভ জলরাশি আরো মন মুগ্ধকর করে তোলে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের ছবি আর তার অপরূপ জলরাশি।

সেন্ট মার্টিন এর নাম করনের ইতিহাস জানা যাকঃ

সম্ভবত বাঙালি জেলেরা জলকষ্ট এবং ক্লান্তি দূরীকরণের অবলম্বন হিসাবে প্রচুর পরিমাণ নারকেল গাছ এই দ্বীপে রোপণ করেছিল। কালক্রমে পুরো দ্বীপটি একসময় ‘নারকেল গাছ প্রধান’ দ্বীপে পরিণত হয়। এই সূত্রে স্থানীয় অধিবাসীরা এই দ্বীপের উত্তরাংশকে নারিকেল জিঞ্জিরা নামে অভিহিত করা শুরু করে। ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ব্রিটিশ ভূ-জরীপ দল এই দ্বীপকে ব্রিটিশ ভারতের অংশ হিসাবে গ্রহণ করে। জরীপে এরা স্থানীয় নামের পরিবর্তে খ্রিষ্টান সাধু মার্টিনের নামানুসারে সেন্ট মার্টিন নাম প্রদান করে। এরপর ধীরে ধীরে এই অঞ্চলের বাইরের মানুষের কাছে, দ্বীপটি সেন্ট মার্টিন নামেই পরিচিত লাভ করে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক শেখ বখতিয়ার উদ্দিন এর মতে, ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে দ্বীপটিকে যখন ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তখন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মার্টিনের নাম অনুসারে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়। দ্বীপটিতে খ্রীষ্টান জনবসতি এবং কোন গীর্জা না থাকায় একজন সাধুর নামে দ্বীপটির নামকরণ সঠিক ইতিহাস নয় বলেই মনে হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসকের নামে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়েছিলো।

সেন্ট মার্টিন এর নারকেল গাছের একটি ছবি।

ভৌগলিক অবস্থানঃ

বঙ্গোপসাগর এর ২০ডিগ্রি ৩৬’৪৭" উত্তর এবং ৯২ ডিগ্রি ১৯’৩৬" পূর্বে দ্বীপটির অবস্থান। দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে লম্বা। এ দ্বীপের তিন দিকের ভিত শিলা যা জোয়ারের সময় তলিয়ে যায় এবং ভাটার সময় জেগে ওঠে। এগুলোকে ধরলে এর আয়তন হবে প্রায় ১০-১৫ বর্গ কিলোমিটার। এ দ্বীপটি উত্তর ও দক্ষিণে প্রায় ৫.৬৩ কিলোমিটার লম্বা। দ্বীপের প্রস্থ কোথাও ৭০০ মিটার আবার কোথাও ২০০ মিটার। দ্বীপটির পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে সাগরের অনেক দূর পর্যন্ত অগণিত শিলাস্তূপ আছে।সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপের গড় উচ্চতা ৩.৬ মিটার। সেন্ট মার্টিন্সের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিক জুড়ে রয়েছে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার প্রবাল প্রাচীর।
ভৌগোলিকভাবে এটি তিনটি অংশে বিভক্ত। উত্তর অংশকে বলা হয় নারিকেল জিনজিরা বা উত্তর পাড়া। দক্ষিণাঞ্চলীয় অংশকে বলা হয় দক্ষিণ পাড়া এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে দক্ষিণ-পূর্বদিকে বিস্তৃত একটি সঙ্কীর্ণ লেজের মতো এলাকা। এবং সঙ্কীর্ণতম অংশটি গলাচিপা নামে পরিচিত। দ্বীপের দক্ষিণে ১০০ থেকে ৫০০ বর্গমিটার আয়তনের ছোট দ্বীপ আছে যা স্থানীয়ভাবে ছেড়াদিয়া বা সিরাদিয়া/ ছেড়া দ্বীপ নামে পরিচিত। এটি একটি জনশূন্য দ্বীপ। ভাটার সময় এই দ্বীপে হেটে যাওয়া যায়। তবে জোয়ারের সময় নৌকা প্রয়োজন হয়।

দ্বীপের ভিতর ঘুরে দেখাঃ

শিপ থেকে নৌকায় করে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পৌছাই। ৭ টা ট্যুরিস্ট শিপও ছিল তখন। দুপুর আড়াইটা বাজে। সবাই যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। শত শত মানুষের ভিড় ঠেলে ব্রীজ দিয়ে ভিতরে যেতে শুরু করি। সবাই বের হচ্ছিল আর আমরা ঢুলছিলাম দ্বীপে। ঢুকলেই দুপাশে বিভিন্ন রেস্ট্রুরেন্ট আর শুটকির দোকান সামনে পড়বে।

দুপাশের খাবার এবং শুটকির দোকানের ছবি।

সাইকেলিংঃ

ঘন্টা ৪০-৫০ টাকা করে সাইকেল ভাড়া নেয়া যায়। কম সময়ে ঘুরার জন্য সব চেয়ে ভাল পন্থা এটি। জেটি দিয়ে ঢুকে সোজা গিয়ে বাম পাশে ২ মিনিট হাটলেই সাইকেল ভাড়ার দোকান পেয়ে যাবেন। সেখান থেকেই একটি সাইকেল নিয়ে ঘুরতে শুরু করি। বীচ দিয়ে সাইকেল চালিয়ে সবচেয়ে বেশি মজা পাবেন। পুরো সেন্ট মার্টিনই সাইকে দিয়ে ঘুরে ফেলি। কয়েকটা রিসোর্টেও যাই। রিসোর্ট গুলোয় থাকার ব্যবস্থাও আছে।

সমুদ্র বিলাশ। বিশিষ্ট লেখক হুমায়ুন আহমেদের বাড়ি এটি। বীচের পাশের কর্টেজ গুলো এমনই।

বীচের কয়েকটি স্থির চিত্রঃ

32 Likes

@Mohammad_Ridoy thanks for sharing this kind of informational post. I have to one chance to visited Saint Martin Island. This is horrible experience of my life. Congratulations on your first post. Keep the momentum.

8 Likes

অনেক সুন্দর একটা পোস্ট । কানেক্ট এ বাংলায় পোস্ট করার জন্য ধন্যবাদ ।

7 Likes

@GaziSalauddinbd @thank you brother for encourage.

3 Likes

@ShahriarAzadEvan বাংলাটাকে আমরা এভাবে তুলে ধরতে পারি ভাই। আপনাকেও ধন্যবাদ :slightly_smiling_face:

4 Likes

@Mohammad_Ridoy ভাই, অনেক সুন্দর লিখনী।। অনেক কিছুই তুলে ধরেছেন এর জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ । আশা করি আগামীতেও কানেক্টের সাথে থাকবেন । এবং নিয়মিত পোস্ট করবেন ।

7 Likes

@Mohammad_Ridoy

অনেক সুন্দর হয়েছে। বেশ তথ্যবহুল পোস্ট। কিন্তু তথ্যগুলো কোথায় পেয়েছেন সেটা উল্লেখ করে দিলে ভালো হতো!

4 Likes

@Designer_Biswajit আসলে প্রথম বার লিখা এটা আমার। তাই এত কিছু খেল করিনি। পরের বার থেকে লিখে দিব। ধন্যবাদ আপনাকে ভাই।

2 Likes

লেখা এবং ছবি দুটোই অনেক সুন্দর হয়েছে। পেশাগত কারনে আপনাকে যেহেতু প্রায়ই ওখানে যেতে হবে তাই আমরা আশায় থাকব ওই দ্বীপ নিয়ে অন্যরকম একটা পোষ্ট আপনার কাছ থেকে। আমি একবার গিয়েছিলাম। সেই ভালোলাগাটা এখনো নতুনের মতোই হৃদয়ে গেথে আছে। সুন্দর পোষ্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ @Mohammad_Ridoy ভাই।

3 Likes

@MukulR জি ধন্যবাদ ভাই। জায়গাটা আসলেই অপরূপ

1 Like

nice post and so beautiful photos!!

thanks for sharing to us my dear friend @Mohammad_Ridoy

1 Like