কেমন আছেন সবাই? আশা করি ভালই আছেন সুস্থ আছেন এবং পরিবার-পরিজনদের নিয়ে খুব ভালোভাবে জীবনযাপন করছেন। আজ আমি সিকিম ট্যুর এর তৃতীয় এবং শেষ পর্বটি নিয়ে লিখব। বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে এই পোস্টটি লিখতে একটু বেশি সময় নিয়ে ফেলেছি।
এই পর্বটিতে আমি বলব সিকিমের খুঁটিনাটি সার্বিক বিষয়গুলো, ও লোকাল সিটি ট্যুর আপনি কিভাবে করবেন সেটি সম্পর্কে বলবো। তবে আপনি যদি এই পোস্টটি পুরোপুরি পড়েন আমার বিশ্বাস আপনাকে কোন ট্রাভেল এজেন্ট অথবা দালালের খপ্পরে পড়তে হবে না, এই পোস্টটি আপনাকে একটি পূর্ণাঙ্গ ট্যুর শেষ করে আসতে সার্বিক সহযোগিতা করবে। পোস্টটি একটু বড় হতে পারে তাই একটু ধৈর্য্য সহকারে পড়বেন।
ও হে, জানতে ভুলে গিয়েছিলাম, সাঙ্গুর লেকে একদিন নিশ্চয়ই ঘুরে এসেছেন, কেমন লাগলো ট্যুর আমি কিন্তু এখনো জানতে পারলাম না আশা করছি কমেন্টে জানাবেন।
একটি সময় সিকিম বাংলাদেশীদের জন্য রেস্ট্রিক্টেড এরিয়া হিসেবে গণ্য হতো। তবে ভারত সরকার বাংলাদেশিদের জন্য সেই সুযোগটা তৈরি করে দেওয়াই এখন বাংলাদেশিরা চাইলেই সিকিম যেতে পারে। তবে এখনো রেস্ট্রিক্টেড এরিয়া এবং প্রোটেক্টেড এরিয়া হিসেবে আমরা অনেক জায়গায় যেতে পারি না।
রেস্ট্রিক্টেড ও প্রটেক্টেড এরিয়া সমূহ:
• পুরো গ্যাংটক, ওয়েস্ট সিকিম এর পেলিং, রুমটেক, সাউথ সিকিম, নামছি, চার ধাম এই সকল দর্শনীয় স্থান গুলো রেস্ট্রিক্টেড এরিয়ার মধ্যে পড়ে। তবে আপনি যদি স্টেট এর গাড়ি নিয়ে করতে চান তাইলে ঘুরতে পারবেন।
• ইস্ট সিককিম এর মধ্যে ছাঙ্গু লেক, নাথুলা, হাঙ্গু লেক, নিউ বাবা মন্দির, এলিফ্যান্ট লেক, ওল্ড বাবা মন্দির, ঠানডি ভিউ পয়েন্ট, নাথাং ভ্যালি, জুলুক, এই সকল জায়গাকে প্রটেক্টেড এরিয়া বলে থাকে। তবে নর্থ সিকিমের লাচেন, লাচুং, গুরুদংমার লেক, ইয়ামথাং ভ্যালি, জিরো পয়েন্ট, চোপতা ভ্যালি, কালাপাথর এই সকল জায়গাকে প্রটেক্টেড এরিয়া বলা হয়।
• নাথুলা সবাই যেতে পারে না তবে, আপনি যদি নাথুলা যেতে চান তাহলে আপনাকে গ্যাংটক অথবা রংলি, ও সিল্ক রুটের দুই প্রান্ত থেকে অনুমতি নিতে পারবেন। তবে নাথুলা যেতে চাইলে কিছু ডকুমেন্ট আপনাকে অতিরিক্ত দিতে হবে। সোমবার ও মঙ্গলবার নাথুলা পারমিশন দেয় না।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য জেনে নিন:
• Tour Itinerary for Tourist visiting Sikkim
• Entry Formalities
• Foreigner Registration Offices
• TTourist Information Centers
• গ্যাংটকের সব সার্বজনীন এলাকা ধূমপান মুক্ত এলাকা, আবর্জনা ছড়ানো অথবা থুথু ফেলা আইনত দণ্ডনীয়।
মজার কিছু তথ্য :
• যদি কেউ সিকিমের সৌন্দর্য্যের প্রেমে পড়ে যান, তার জন্য একটা ছোট্ট ট্রিক্স দেই। আমি যেটুকু শুনেছি সিকিমের বেশিরভাগ মানুষ সিকিমে থাকতে চায় না যেহেতু তাদের জীবন নির্বাহ অনেক কষ্টের তাদেরকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। তাই তারা অন্য কোন রাজ্যে চলে যায়। একারণে সিকিম সরকার তার রাজ্যের জনসংখ্যা ঠিক রাখার জন্য একটি প্যাকেজ চালু করেছে।
• যদি কোন ছেলে কোন সিকিম এর মেয়েকে বিয়ে করে এবং নূন্যতম ১০ বছর সিকিমে থাকার নিশ্চয়তা দেয়। তাহলে ঐ ছেলেকে সরকার থেকে একটি সরকারী চাকুরী এবং সাথে ১০ লক্ষ রুপী উপহার হিসেবে দেয়। এছাড়া শ্বশুরের পক্ষ থেকে কিছু না কিছু তো পাবেনই সেটাও সুনিশ্চিত।
• সিকিমের মানুষ অনেক সৎ ও সহজ সরল। আপনার একটা জিনিস রাস্তায় পড়ে থাকলেও তারা সেটা ছুঁয়েও দেখবে না অনেক ক্ষেত্রে সেটার দিকে তাকাবো ও না। তাই বলে সিকিমে যে বাহিরের লোকজন নেই তা কিন্তু নয়। তাই আপনার মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদে রাখবেন।
লোকাল সিটি টুর :
লোকাল সিটি ট্যুর করতে চাইলে আপনি লালবাজারে অজস্র ট্যাক্সি ড্রাইভার পাবেন যারা আপনাকে পনেরশো রুপিতে মোটামুটি সব কয়টি পয়েন্টে নিয়ে যাবে এবং পুরো সিটি টুর করাবে। যেহেতু আমি সিটি ট্যুর করি নাই তাই আপনাকে পর্যাপ্ত তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারছিনা। তবে সচরাচর যে স্পটগুলো তারা ঘুরায় সেই ব্যাপারে আমি কিছু তথ্য নিয়ে এসেছি ড্রাইভার দের থেকে কথা বলে। পনেরশো টাকার এই প্যাকেজে তারা যে এরিয়া গুলো ঘুরিয়ে নিয়ে আসবে তার একটি লিস্ট দিলাম।
• টিবেটলজি
• চর্তেন সৌধ
• কটেজ ইন্ডাস্ট্রি
• ফ্লাওয়ার শো
• নামনাং ভিউ পয়েন্ট
• তাশি ভিউ পয়েন্ট
• হনুমান টক
• গণেশ টক
• জিওলজিক্যাল গার্ডেন
• ইঞ্চে মনাস্ট্রি
• বনঝকরি ওয়াটারফলস
• রোপ ওয়ে
কেনাকাটা:
• কেনাকাটার তালিকায় আপনি সিকিমের হস্তশিল্প সংগ্রহ করে রাখতে পারেন যেমন ফরের টুপি, কার্পেট, থাঙ্ক, চা সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস যা আপনার পছন্দ হয়।
• আর হ্যাঁ এমজি মার্কেট থেকে মিষ্টি খেতে ভুলবেন না।
• এম.জি মার্গ রাত ১০:৩০ থেকে ১১:০০ পর্যন্ত জমজমাট থাকে। যদিও সকল দোকানপাট-খাবার হোটেল রাত ৮টায় বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু লোকজন চলাচল করে।
যে সকল জিনিসপত্র সাথে নিবেন:
• শীত নিবারণ জ্যাকেট, কানটুপি হাতমোজা, সেই সাথে উল জাতীয় কাপড় নিতে পারেন।
• ঠান্ডা, কাশি, মাথাব্যথা, ও বমির পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ সাথে রাখবেন।
• পাওয়ার ব্যাংক, চার্জার, ক্যামেরা, আর সম্ভব হলে অবশ্যই মাল্টিপ্লাগ নিয়ে জার্নি করবেন।
জীপ থেকে যা দেখতে পাবেন:
• পাশ দিয়ে বয়ে চলা নীল রঙের পানির দৃশ্য।
• রাস্তার আশেপাশে অসংখ্য বানর।
• লাচুং যাওয়া আসার সময় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখবেন।
• সেই সাথে তিস্তা নদীর উৎপত্তিস্থল।
• গ্যাংটক থেকে 5 থেকে 7 মিনিট পথ হেঁটে মাত্র 120 রুপিতে রোপওয়ে করতে পারবেন।
আমার পোস্ট সমূহ: Army Helpline Number: 03592-202228
• সিকিম ট্যুর এর প্রথম পর্ব ও সতর্ক বার্তা
• যারা ট্রেনে সরাসরি ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা ননস্টপ যাত্রা করতে চান তাদের


