শীতকালীন সময়ে বাংলাদেশে অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষা বেশি চাষ করা হয়। সরিষার ইংরেজি নাম (Mustard) সরিষা বাংলাদেশের প্রধান ভোজ্য তেল ফসল। সরিষার উৎপত্তিস্থল এশিয়া। বাংলাদেশে সাধারণ ৩ প্রজাতির সরিষা চাষ করা হয়ে থাকে। নিচে একটি সরিষা চাষ করা জমির ছবি দেওয়া হলো:
সরিষা গাছ দেখতে সবুজ রঙের হয় এবং এর পাতা এবং গুলো নরম হয়। সরিষা গাছ লম্বায় প্রায় ১ মিটার বা এর চেয়ে বড় ও হয়ে থাকে। সকালের সময় যখন চারিদিকে কুয়াশা থাকে তখন সরিষা ফুল গুলো নেতিয়ে থাকে। যখন সূর্যের আলোর তাপে কুয়াশার পানি চলে যায় তখন সরিষা ফুল গুলো আবার সতেজ হয়ে উঠে। সরিষা ফুল গুলো দেখতে হলুদ রঙের হয়। যা দেখতে অনেক সুন্দর লাগে। নিচে একটি সরিষা ফুলের ছবি দেওয়া হলো:
দোআঁশ মাটিতে সরিষার চাষ অনেক ভালো হয়। সরিষা বীজে সাধারণত ৪০-৪৪% তেল থাকে। সরিষার তেল দেখতে হলুদ রঙের হয়। এই তেল অনেক ঘন এবং পিচ্ছিল হয়। সরিষা বীজ থেকে তেল বের করার পর যে অবশিষ্ট অংশ থাকে তাকে খৈল বলে। এই খৈল এ অনেক আমিষ থাকে। এই খৈল গরু,ছাগল ও মহিষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নিচে সরিষার তেলের ছবি দেওয়া হলো:
সরিষা গাছের পাতা একধরনের সবজি। সরিষার পাতা অনেকেই রান্না করে এবং ভর্তা বানিয়ে খায়। সরিষা বীজ দেখতে লালচে রঙের হয়। সরিষা বীজ অতি ছোট গোল বলের মতো হয়। জাত অনুযায়ী আরো কয়েক রঙের সরিষা বীজ দেখা যায় যেমন: কালো, হলুদ। সরিষা বীজ দিয়ে ভর্তা বানিয়ে খাওয়া হয়। যা অনেকের কাছে প্রিয় একটি খাদ্য। সরিষা যখন পরিপক্ক হয় তখন সরিষা গাছে কোন পাতা থাকে না। সরিষা গাছ থেকে সরিষা বীজ আলাদা করার পর সরিষা গাছ কে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নিচে পরিপক্ক সরিষা বীজের ছবি দেওয়া হলো।
বাংলাদেশে শীতকালে এই ফসল টি প্রচুর পরিমাণে চাষ করা হয়। বাংলাদেশ কৃষকদের কাছে এই ধরনের ফসল গুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই ধরনের ফসল অনেক ভূমিকা রাখে।






