আশা করছি সবাই ভালো আছেন। শীতকালে ভ্রমণ প্রেমীরা সবসময়ই ভ্রমণের জন্য দার্জিলিং বেছে নিত যেহেতু, তবে নতুনত্ব সবাই পছন্দ করে তাই, আজ আমি আপনাদের কাছে শেয়ার করব সিকিম ট্যুর সম্পর্কে। বর্তমানে ভারত সরকার সিকিম বাংলাদেশীদের জন্য কিছু জায়গা খুলে দিয়েছে ভ্রমণ করার জন্য।
বর্ডার নির্বাচন :
সিকিম যেতে হলে ফুলবাড়ী বর্ডার থেকে খুব সহজে যাওয়া যায়। ফুলবাড়ি বর্ডার হচ্ছে পঞ্চগড় থেকে 40 মিনিটের ব্যবধানে। যেটা বাংলাদেশের পোর্ট হিসাবে বাংলাবান্ধা এবং ভারতের পোর্ট ফুলবাড়িয়া বলে পরিচিত।
ফুলবাড়িয়া থেকে শিলিগুড়ি যেভাবে যাবেন :
ইমিগ্রেশন পার করে সেখান থেকেই অটো নিয়ে 10 রুপি দিয়ে বাসস্ট্যান্ড যাবেন। তারপর যেকোনো বাসে 10 রুপি দিয়ে শিলিগুড়ি 15 থেকে 20 মিনিট সময় লাগবে।
দালালদের দৌরাত্ম্য :
বাস থেকে নামতেই প্রচুর পরিমাণে দালালের সম্মুখীন হতে হবে। আমি আপনাদেরকে বলবো কোন দালালের কথায় কান দিবেন না। একবারে দালালদের মিষ্টি কথায় কান দিবেন তো ধরে নেন আপনি অলরেডি 10000 টাকা শিলিগুড়িতে রেখে যাচ্ছেন।
শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক যেভাবে যাবেন
আপনি শেয়ারে শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক 250 রুপি জনপ্রতি করে গ্যাংটক যেতে পারবেন।আর যদি আপনারা গ্রুপে থাকেন আট থেকে দশজন তাইলে 2500 রুপি দিয়ে আপনি সরাসরি রিজার্ভ এ যেতে পারছেন।
সিকিম এ আপনাকে স্বাগতম :
সিকিম প্রবেশের সাথে সাথেই আপনাকে এন্ট্রি করতে হবে এবং সেখানে এন্ট্রি করতে সর্বোচ্চ 10 থেকে 15 মিনিট সময় লাগবে সেই সাথে আপনাকে তারা একটা কাগজ দিবে এবং পাসপোর্টে সিল দিবে এতে কোন টাকা লাগবে না। তবে অবশ্যই সেই কাগজটি সাথে রাখতে হবে যা ফেরার সময় আবার আপনাকে ওই কাগজটা জমা দিতে হবে। আবারো এক্সিট ছিল আপনার পাসপোর্ট দেয়া হবে।আপনি যদি গ্রুপে যান জিপ এ করে তাহলে তো সমস্যা নেই, আপনি যদি শেয়ার এ যান তাহলে ড্রাইভার এর সাথে আগে কথা বলে নিতে হবে যে আপনি রেজিস্ট্রেশন অফিসে থামবেন।শিলিগুড়ি থেকে সিকিম যেতে সাড়ে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা সময় লাগে যেটা 5 হাজার ফিট উপরে।
হোটেল নির্বাচন :
আপনি হোটেল থেকেই ট্যুর প্যাকেজ নিতে পারবেন অথবা হোটেলে এক রাতের জন্য স্টে করে পরবর্তী দিনে আপনি প্যাকেজ নিতে পারবেন।সবচেয়ে বড় পরামর্শ হচ্ছে আপনি সেখান থেকে লোকাল ট্যুর প্যাকেজ নিবেন এতে আপনি অনেক টাকা সেভ করতে পারবেন।
ইয়াংথাম ও জিরো পয়েন্ট ট্যুর :
শুরুতেই বলে রাখি সিকিমের দুইটা পার্ট। একটি হচ্ছে সাউথ সিকিম যেখানে আপনি বর্তমানে আছেন যা গ্যাংটক নামে পরিচিত। আর অপরটি হচ্ছে নর্থ সিকিম যেখানে আপনি যেতে চাচ্ছেন। আপনি যদি প্যাকেজ ছাড়া জান তাহলে ইয়াংথাম এর জীপ যেখান থেকে যায় 7000 রুপিতে আপনি জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত যেতে পারবেন। তবে বলে রাখি জিরো পয়েন্ট যেতে হলে জনপ্রতি কে 350 রুপি আরও অতিরিক্ত পে করতে হয়। সব ঠিক থাকলে রাত আটটা থেকে নটার মধ্যে আপনি ইয়াংথাম এর হোটেলে পৌঁছে যাবেন। গ্যাংটক থেকে ইয়াঙ্থাং আসতে ছয় ঘন্টার একটু বেশি সময় লাগে। যা গ্যাংটক থেকে 12 হাজার ফিট উপরে। সেখানে আপনি মেঘ দেখতে পাবেন, বরফের কিছু অংশ দেখতে পাবেন, পানির স্রোত দেখতে পাবেন, সম্পূর্ণ ঠান্ডা একটা শীতল পরিবেশ অনুভব করবেন। রাতে টেম্পারেচার 1 থেকে 2 ডিগ্রী অথবা মাইনাসে চলে যায়।
ভোর সাড়ে পাঁচটার মধ্যেই আপনাকে আবার হোটেল ছাড়তে হবে জিরো পয়েন্টের জন্য। আড়াই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে আপনি জিরো পয়েন্টে থাকবেন। জিরো পয়েন্টে বরফ দেখতে পাবেন বরফের উপর হাঁটাচলা করতে পারবেন পাহাড়ে উঠতে পারে উঠে বরফের সাথে খেলতে পারবেন।
সতর্কবার্তা :
জিরো পয়েন্টে প্রতিনিয়ত মানুষ মারা যাচ্ছে। যাদের শ্বাসকষ্ট অথবা নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা তাদের জিরো পয়েন্টে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। আমি নিজেই স্বচক্ষে দুইজনকে অজ্ঞান হতে দেখেছি এবং নিজেও কিছুটা নিঃশ্বাসের সমস্যা অনুভব করেছি। তবে 30 মিনিট থেকে 40 মিনিটের বেশি থাকবেন না।
জিরো পয়েন্ট ভ্রমণের জন্য কিছু পরামর্শ :
১. ফুলবাড়িয়া বর্ডার ভিসা তে যুক্ত করবেন। (যারা বাজেট ট্যুর করতে চাচ্ছে তাদের জন্য)
২. শিলিগুড়ি থেকে কোন প্যাকেজ না নেয়া।
৩. শেয়ারে অথবা রিজার্ভে গ্যাংটক যাওয়া।
৪. গ্যাংটক থেকে ট্যুর প্যাকেজ নেয়া।
৫. কমপক্ষে 10 কপি পাসপোর্ট এর, ভিসার ফটোকপি, 10 কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি অবশ্যই নিয়ে যাবেন।
৬. পর্যাপ্ত পরিমাণে শীতের কাপড় নিয়ে যাবেন। যদিও শীতের কাপড় এবং পায়ের জুতা আপনি 100 রুপিতে ভারাতে পাবেন।
৭. সিকিম ট্যুরিস্টদের জন্য একটু ব্যয়বহুল শহর বিশেষ করে জিরো পয়েন্ট অথবা ইয়াঙ্থাং যাওয়ার ক্ষেত্রে।
৮. প্রয়োজনে ব্যাংক থেকেই নাস্তা খাবার আইটেম নিয়ে গাড়িতে উঠবেন।
৯. বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সমস্যা হতে পারে যেহেতু পাহাড়ি রাস্তা, যাদের বমির সমস্যা আছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে যাবেন।
১০. প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে ভ্রমণ করবেন।
১১. ইয়াঙ্থাং যাওয়ার পরে আপনার ফোনে নেটওয়ার্ক থাকবে না, তার মানে বুঝতেই পারছেন যে কারো সাথে যোগাযোগের কোন সুব্যবস্থা নাই সেখানে শুধু বিএসএনএলের মোবাইলের কাজ করে।
১২. ভারতের বর্ডারে আপনাকে অতিরিক্ত 200 রুপি যাওয়ার সময়, এবং আসার সময় অতিরিক্ত 200 রুপি ঘুষ বাবদ দিতে হবে এটা বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়েছে।
১৩. জনপ্রতি 6 থেকে 7 হাজার টাকা বাজেট রাখবেন তিন দিনের প্যাকেজ এর জন্য।
১৪. গ্যাংটকে (এম.জি মার্গেই) মেডিসিনের দোকানে অক্সিজেন জার কিনতে পাওয়া যায়। দাম নেয় ৪৮০ রূপী। এই জার একটি নিবেন সঙ্গে। একটি হলেই ৩~৪ জনের জন্য হয়ে যাবে।
আমি জানি এখানে আরও অনেক তথ্য দেয়া হয়নি। আপনারা যদি কেউ যেতে চান কমেন্ট করবেন। আমি অবশ্যই আপনাকে আরও তথ্য দিব।
সিকিম ট্যুর সম্পর্কে আমি তিনটি পর্বে তিনটি পোস্ট দিব।পরবর্তী পোস্ট আমি গ্যাংটক থেকে সাঙ্গু লেক এর উপরে দিব।
ধন্যবাদ সবাইকে আমি আশা করছি আপনার খুব মনোযোগ সহকারে আমার পোস্টটি পড়েছেন। একটা লাভ রিয়েক্ট দিয়ে পরবর্তী পোষ্ট করার উৎসাহ দিন। ধন্যবাদ সবাইকে।

