যাচ্ছি না, যাবো না, যাবো ভেবে দেখি…
এরকম করতে করতে শেষ পর্যন্ত চলেই গেলাম।
আর পৌঁছেই মনের এরকম দৃশ্য দেখে মনের ভিতর আব্দুল জাব্বার স্যারের সেই বিখ্যাত গানের লাইন উঁকি দিলো ঠিক এভাবে…
- "ওরে নীল দরিয়া,
- আমায় দে রে দে ছাড়িয়া,
- বন্দি হইয়া মনোয়া পাখি হায়রে
- কান্দে রইয়া রইয়া…"
তো ; যখন পৌঁছাই তখন বিকেলের শুরুর ভাগ প্রায়।সূর্য্যি মামার তেজ কমেছে।ততক্ষণে আমরা পৌঁছে গেছি মুসাপুর ক্লোজারে।প্রথমেই দেখা মিলল ফেনী নদীর সংযোগ স্থল থেকে বের হওয়া একটি নদীর মুখ।মূল নদী থেকে শাখা নদীর একটু পর ই বাঁধ দেওয়া।বাঁধের কয়েকটা গেট খোলা ছিলো।আর তা দিয়েই শোঁ শোঁ শব্দে পানি যাচ্ছে। শুনতে বেশ ভালোই লাগছিলো।।
যতই নদীর কাছাকাছি হচ্ছিলাম ততই টের পাচ্ছিলাম নদী তীরের বায়ুর নোনা বাতাসের অনুভব!!!
বাঁধ থেকে সামনে এগুতেই দেখা পেলাম ওখানকার বনবিভাগের রোপনকৃত ঝাউগাছের।গাছগুলো রীতিমত ঝাউবনে পরিণত হয়েছে।
এর একটু পরই যখন ঝাউবন পেরিয়ে প্রবেশ করলাম তখন লোনা পানিতে জন্মে এমন সব গাছ নজরে এলো।মনে হলো সুন্দর বনে পৌঁছে গেছি!!
আরেকটু এগোতেই নদী চোখে পড়ল।এপার থেকে ওপার দেখা যায় না।নদী তীর রক্ষা করতে নদীতে ব্লক দেওয়া শত শত।ব্লক গুলো পরিচ্ছন্ন খুবই।ইচ্ছে করলেই শুয়ে থেকে উপুড় হয়ে নীল আকাশটা কে অবলোকন করা যায় নিজের মত!!
[ছবি:নদী তীর রক্ষায় ব্যবহারকৃত ব্লক]
ও হ্যাঁ-
ওখানকার রাস্তার দুধারের দৃশ্য খুবই চমৎকার।এঁকেবেঁকে চলা আর মাঝে মাঝে সোজা রাস্তার দুধারের পাহাড়ী গাছের সারি যে কাউকেই মুগ্ধ করাতে বাধ্য!!
[ছবি:রাস্তার ধারের পাহাড়ী গাছ ও নদী]
যাইহোক,ওখানে নৌকাতে ছড়ার সুযোগ আছে।আপনি চাইলেই নদীতে ঘুরে আসতে পারবেন।আর বড় বেঁড়ি বাঁধ রয়েছে।যা পুরোটাই ব্লক দিয়ে বানানো।ব্লকের একপাশে বিশাল লেকের মত একটা নদী।আর ওপারে মেঘনা!
মোটামুটি সময় কাটানোর জন্য পার্ফেক্ট-
তো কেনও যাবেন ওখানে?
এক কথায় আমি যদি বলি উত্তর টা হবে এমন—
"বাড়তি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শোভাবর্ধন দেখতে।পাশপাশি চারপাশের মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা বিভিন্ন রকমের বনাজী গাছ দেখতে। এখানে আসলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কোলাহল, বিশাল সমুদ্র সৈকত(নদীর ওপার দেখা যায় না,আর এটি মুসাপুর সি বিচ নামেও পরিচিত), সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তসহ নানান সৌন্দর্যের দৃশ্য উপভোগ করতে। পর্যটক ও প্রকৃতি প্রেমীরা ট্রলারে কিংবা স্পীডবোটে করে এই নদীতে পাবেন অসম্ভব ভালো লাগার অনুভূতি।।
[ছবি:বেড়ি বাঁধের এপারের দৃশ্য]
তো এতক্ষণ যেটার কথা বলেছিলাম ওটা মূলত-
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সীমানায় বঙ্গোপসাগরের একেবারে কোল ঘেঁষে সৃষ্টি এই মুছাপুর ক্লোজার ও ছোট ফেনী নদী। সত্যি বলতে কি, প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি মুছাপুর ক্লোজার।
যাইহোক,ফেরার পথে কয়েকটা ছবি তুলেছিলাম সূর্যাস্তের —
[ছবি:মুসাপুরের সূর্যাস্ত]
[ছবি:সূর্য ডুবে যাচ্ছে আপন মহিমায়]
এভাবেই একটা ছোট্ট ট্যুর শেষ হলো আনন্দের মধ্য দিয়ে।
বোনাস এডভাইস:
প্রিয়জন সাথে থাকলে ওখানে নদী তীরে ব্লকের উপর বসে তার সাথে যদি ঘন্টা দেড়েক সময় কাটান আপনার নিজেকে মনে হবে আপনি ই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।সো,পারলে সুখী মানুষ হয়ে উঠুন!!
স্কিপ করেছি যা—
- ওখানে ভালো খাবার দাবারের ব্যবস্থা নেই।তবে ফুচকা আছে।আর হালকা নাস্তার ব্যবস্থা আছে।
- ইচ্ছে করলে ইলিশ মাছ কিনতে পারবেন।তবে আমার কাছে দাম একটু বেশিই মনে হয়েছে।
- ব্লক তৈরি দেখতে পারবেন।
- ব্লক তৈরি করার নূড়ি পাথরের স্তুপে ছবি তুলতে পারবেন।
- সর্বোপরি, প্রকৃতির মাঝে হারাতে চাইলে আর ভ্রমণ পিয়াসু হলে সময় করে একটা চক্কর লাগিয়ে আসতে পারেন।
[ছবি:স্বর্গীয় দৃশ্য অবলোকন করছিলাম আমি,ঘাসে উপর বসে]
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার—
শাহাদাত হোসেন
০৪.১২.১৯
- (উল্লেখ্য-তখন শরৎ কাল ছিলো)






