ভারতের রাজস্থান রাজ্যের একটি জেলা শহর উদয়পুর। শহরের আশেপাশে প্রচুর পরিমানে লেক থাকায় উদয়পুরকে বলা হয় “সিটি অব লেকস্” অথবা “লেকের শহর”।
রাজধানী দিল্লী থেকে বাই রোড, বাই রেল এবং বাই এয়ারে উদয়পুর যাওয়া যায়। যদিও এর মাঝে বাই এয়ার ই অপেক্ষাকৃত সহজতর, কারন বাসে করে গেলে প্রায় ১২ থেকে ১৩ ঘন্টা এবং ট্রেনে করে গেলে লাগবে ১০ ঘন্টার মতো। আমরা ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ডমেস্টিক ফ্লাইটে করে গিয়েছিলাম, সময় লেগেছে মাত্র এক ঘন্টা। ফ্লাইটে উঠার পর আকাশের সারি সারি মেঘমালা, নিচের কৃষিজমি আর লেক দেখতে দেখতে কখন যে এক ঘন্টা শেষ হয়ে গিয়েছিল তার ঘোর কাটাতে অনেকটা সময় লেগে যায়।
দিল্লি থেকে রাজস্থান পর্যন্ত বিস্তৃত পাহাড়ি বেল্টের একটি অংশ উদয়পুরেও পড়েছে তাই এখানেও ছোট বড় অসংখ্য পাহাড় দেখা যায় আর পাহাড়ের ঢালে ছোট বড় লেক। লেক গুলোর মাঝে “লেক পিছুলা” ও “ফতেহ সাগর লেক” উদয়পুর শহরের মাঝে অবস্থিত হওয়ায় লেক দুটো বিখ্যাত হয়ে আছে অন্যগুলোর চেয়ে এবং শহরের বেশীরভাগ বিখ্যাত স্থাপনা, হাভেলী আর বিভিন্ন মন্দিরও এই দুটো লেকের পাশেই অবস্থিত।
স্বাক্ষরতার হার পুরো ভারতের চেয়ে ঢের বেশী উদয়পুরের।
সমুদ্র সমতল থেকে মাত্র উনিশশো (১৯০০) ফিট উপরে অবস্থিত হওয়ায় শ্বাস-প্রশ্বাসে খুব বেশী সমস্যা হয় না।
এখানকার অফিসিয়াল ভাষা হিন্দি যদিও হোটেল, শপিংমলে কিছু কিছু লোকজন ইংরেজিতেও কথা বলতে পারে।
ইংল্যান্ড, গ্রীস ছাড়াও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ট্যুরিস্টে উদয়পুর শহরের রাস্তা গমগম করে সবসময়। স্থানীয়দের মতে এখন ট্যুরিস্ট সিজন না কিন্তু তারপরও বেশীরভাগ হোটেল, হাভেলী ট্যুরিস্ট দিয়ে ভর্তি হয়ে আছে। ইউরোপিয়ানদের এরকম সহজসরল চলাফেরা দেখে সহজেই নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করা যায়। আমার দেখা নিরাপদ শহরগুলোর মধ্যে একটি উদয়পুর।
গত সপ্তাহে একটা অফিসিয়াল মিটিংয়ের জন্য ওখানে গিয়েছিলাম, ছিলাম লেক পিছুলার পাশেই অবস্থিত “জগত নিবাস প্যালেস হোটেলে”। এই হোটেলটি থ্রী স্টার হলেও এর মান খুব ভালো ছিল, আমরা ৩০% ছাড় পেয়েছিলাম এবং তারপরও প্রতি রাতে আমাদের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে। এছাড়াও অনেক অল্প খরচে থাকার মতো অনেক হোটেল আছে, কিন্তু পিছুলা লেকের পাড়ে অবস্থিত যে কোন হোটেল কিংবা হাভেলীতে থাকতে হলে খরচ ঐরকমই পড়বে। খরচ বেশী পড়লেও ভোরের লেকের সৌন্দ্যর্য, রাতে লেকের পাশে আলো ঝলমলে হোটেল এবং মাঝ রাতের লেক পাড়ের নিস্তব্ধতা, এগুলোর চিন্তা করলে তখন আর টাকার কথা কারো মনে থাকার কথা না।
সময় স্বল্পতার জন্য পুরো শহরটা ঘুরে দেখতে পারিনি, ভবিষ্যতে সময় পেলে অবশ্য গন্তব্য হিসেবে প্রথমদিকেই থাকবে এটি…।।









