অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চন্দ্রনাথ পাহাড়

শহর থেকে দূরের কোলাহল মুক্ত নির্জনতা চারদিকে সবুজ গাছ পালা,মাঝে মাঝে পশুপাখির ডাক আর শীতল বাতাস ।এই অনুভূতি এনে দিবে আপনাকে চন্দ্রনাথ পাহাড়।

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চন্দ্রনাথ পাহাড়। সীতাকুণ্ড শহরের পূর্বে অবস্থিতি চন্দ্রনাথ পাহাড়। চন্দ্রনাথ পাহাড় মূলত চন্দ্রনাথ মন্দির থেকে চন্দ্রনাথ নাম করন করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলার এই পাহাড়টি হিমালয় থেকে বিচ্ছিন্ন পূর্বাঞচলীয় অংশ।এই পাহাড়টি হিমালয়ের দক্ষিণ ও দক্ষিন - পূর্ব দিক ঘুরে ভারতের আসাম এবং ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্য দিয়ে ফেনী নদী পার হয়ে চট্টগ্রামের সাথে মিশেছে।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উচ্চতা ১০২০ ফুট।

এখানে রয়েছে সহস্রধারা ও সুপ্তধার নামে দুটি জলপ্রবাদ। আপনি যদি ভ্রমণ পিপাসু পাহাড় ভ্রমণের আকৃষ্ট হয়ে থাকেন তবে চন্দ্রনাথ পাহাড় আপনার জন্য ।ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এটি একটি পরিচিত জায়গা।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় বর্ষার সময়।এছাড়া যেকোন সময় চাইলে আপনি যেতে পারেন।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ে উঠার ভালো সময় হচ্ছে ভোর বেলা,দিনের আলো উঠার আগে যদি যাত্রা শুরু করা যায় তবে আপনি ভালো ভাবে প্রকৃতি উপভোগ করতে পারবেন।

বাংলাদেশের যেকোন প্রান্ত থেকে প্রথমে চলে আসতে হবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায়। সীতাকুণ্ড শহরে প্রবেশের আগেই চোখে পরবে দুর পাহাড়ের চূড়ায় ছোট্ট একটি ঘর আর সেটাই হচ্ছে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়া।সীতাকুণ্ড এসে সিএনজি বা অটোরিক্সা নিয়ে প্রথমে চলে যেতে হবে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের গেইটে।

গেইট থেকে শুরু হবে উপরে উঠা। চন্দ্রনাথে উঠা সহজ করতে আপনি যদি চান তবে একটি বাশ নিয়ে নিতে পারেন,সেখানে অনেক দোকান রয়েছে।সাথে কিছু হালকা খাবার নিয়ে নিয়ে পারেন,কারণ উপরে কোন দোকান নেই আর যেগুলা রয়েছে সেখানে খাবারের অনেক দাম।।

সব কিছু নেওয়া হয়ে গেলে শুরু করুন যাত্রা।

হাটি হাটি পা পা করে উঠতে থাকুন পাহাড়ে,কিছু ক্ষন উঠার পরেই আপনি হারিয়ে যাবেন প্রকৃতির মাঝে।।

যখন চূড়ায় উঠে যাবেন এক নিমিষেই সকল কষ্ট দুর হয়ে যাবে প্রকৃতি দেখে।

জায়গাটা হিন্দু ধর্মালম্বীদের অনেক বড় একটি স্থান,সেখানে অনেক ধরনের মানুষ যায় ,সো আপনি এমন কোন কাজ করবেন না যাতে করে তাদের কোন ক্ষতি হয়।মন্দিরে চিল্লাফাল্লা করে সেখানের পরিবেশের ক্ষতি করবেন না।

সাথে নিয়ে যাওয়া ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলবেন।

16 Likes

@aukanamul11 অনেক ধন্যবাদ সুন্দর করে গুছিয়ে লেখার জন্য। চন্দ্রনাথে আমি একবার উঠেছিলাম। ২০০০ সালের দিকে হবে মনে হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমার এক হিন্দু বন্দুর সাথে ওখানে গিয়েছিলাম। পাহাড়ে উঠতে যদিও অনেক কষ্ট হয়েছিল তবে পাহাড় চূড়ায় উঠার পর সব ভুলে গিয়েছিলাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে। ওখানে দুই দিক থেকে উঠা যায়। তবে হিন্দুরা মনে হয় একদিক দিয়ে উঠে আরেক দিক দিয়ে নামে। লেখাটি পড়ে আমার অতীত মনে পড়ে গেল। ধন্যবাদ।

4 Likes

@aukanamul11 অনেক চমৎকার লিখেছেন ভাই। আসলে আপনারা খুবই ভাগ্যবান যে এমন একটা সৌন্দর্যের কাছাকাছি বসবাস করেন।
শীঘ্রই চট্রগ্রাম ট্যুরের প্ল্যান করছি।

আরো এরকম পোস্ট আশা করছি আপনার কাছ থেকে।

1 Like

হিন্দুরা মূলত বাম দিক থেকে উঠে ডান দিক দিয়ে নামে।

আমি শুনেছিলাম ওখানে নাকি একটা গাছ আছে যেটাতে কোন নিয়ত করে সুতা বাধলে নাকি সেটা পূরণ হয়, এটা ওদের বিশ্বাস।

1 Like

ভাইয়া চট্টগ্রামের যতগুলো পর্যটক স্থান আছে আলহামদুলিল্লাহ সবগুলোতে যাওয়া হয়েছে।

চেষ্টা করব সব জায়গা নিয়ে বিস্তারিত লেখার জন্য

2 Likes