বাংলাদেশ লোকাল গাইডস গুগল ম্যাপ্স ডেভেলপমেন্ট এর কমিউনিটির মধ্যে এমন একটি কমিউনিটি যারা কিনা সকল দেশের লোকাল গাইডস কমিউনিটিকে পেছনে ফেলে দুইটি শীর্ষ মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
১. গুগল ম্যাপ্সকে সমৃদ্ধ করতে সবচেয়ে বেশি মিটআপ এর আয়োজন করে
২. সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকাল গাইডস একটি মিটআপ এ অংশ নেয়
এই দুইটিই ঘটেছে গুগল লোকাল গাইডস কমিউনিটির ইতিহাসে প্রথম এবং এটি অনুষ্ঠিত হয় বন্দর নগরী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত বিলাসবহুল SiLVER SPOON রেস্টুরেন্টে।
আমি গর্বিত এই মিটআপ এ কোর টিম মেম্বার এবং সোশ্যাল মিডিয়া মডারেটর হয়ে অংশ নিতে পারায়। অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে আজকে আমার এই জায়গায় আসা।
সারা দেশ থেকে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সর্বনিম্ন লেভেল ফাইভ কোয়ালিফিকেশন ধরে ১২০ জনকে সিলেক্ট করেছে বাংলাদেশ লোকাল গাইডস। এর মধ্যে আমার সহ-ধর্মিনি PRIYASAMINA লেভেল ফাইভের একজন লোকাল গাইড হিসেবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। তাই আমার মেয়ে Ameera Yousuf Nuha সর্ব কনিষ্ট সদস্য হিসেবে এই মিটআপ এ উপস্থিত থাকে।
এই প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকার জন্য বেশীরভাগ লোকাল গাইডসকে ঢাকা থেকে আসতে হচ্ছে। তাই চট্টগ্রামের লোকাল গাইড Hasnat ভাইয়ের সহযোগিতায় আমরা ৭ তারিখ রাতে ঢাকা থেকে চট্রগ্রামগামি মহানগর এক্সপ্রেসের ৭২২ নাম্বার ট্রেনের একটি বগি রিজার্ভ নিতে সক্ষম হই। যার নাম ছিলো এক্সট্রা-১।
আমরা ভোর সাড়ে ৫ টায় চিটাগাং পৌঁছাই।
প্রথমেই সবাই রিজার্ভ বাসে জামান রেস্টুরেন্টে যেয়ে সকালের নাস্তা সেরে নিই প্রথমবারের মত। তারপর বেশীরভাগ লোকাল গাইডস চওচালা বিচে যায়। সেখান থেকে ফিরে ১২০+ লোকাল গাইড সিলভার স্পুনে এসে মিলিত হলে সকাল ১০ টায় গেট ওপেন করে দেওয়া হয় রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে প্রবেশের জন্য। প্রথমেই বাংলাদেশ লোকাল গাইডস এর এই মিটআপ এ আগত সকল লোকাল গাইডস এর পরিচয় বিনিময় হয়।
এর পর শুরু হয় বাংলাদেশ লোকাল গাইডস এর পথচলার গল্প। তারপর আবার ব্রেকফাস্টের ব্রেক ছিলো ৩০ মিনিট। দুপুরে জুম্মার নামাজের বিরতি ছিল ১ ঘন্টা।
আমি আগ্রাবাদ মসজিদের সামনের রাস্তায় কড়া রোদে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করি।
এই দিন আমি দেখেছি আমার মেয়েটা কত টা আনন্দে একটা দিন পার করেছে। এখানে আগত মেক্সিমাম লোকাল গাইডস আমাকে চেনেন এবং জানেন। সবাই আমার মেয়েটাকে খুব আদর আর খেলায় মেতে রেখেছিলো। ও ট্রেনে গতরাত দেড়টায় ঘুমিয়েছে আর এইদিন সারাদিনে মাত্র ২ ঘন্টা ঘুমিয়েছিল।
দুপুরে মেজবানি আয়োজন ছিলো উপভোগ করার মত। কিন্তু ছোট পেটে বেশি খাবার নিতে না পারায় আফসোস থেকেই গেলো। দুপুরের পরে আমার নিজের একটি সেশন ছিলো যেখানে আমার সাইক্লিং এর লম্বা সময়ের গল্প শেয়ার করি সকল লোকাল গাইডস এর সামনে। আমি এতো মানুষের সামনে কথা বলিনি কখনো। তাই এতোই ঘাবড়ে গিয়েছিলাম যে গলা শুকিয়ে আসছিলো এবং কথার স্পীড অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছিলো। যাইহোক শেষমেশ আমি বিদায় নিতে পেরেছিলাম এটাই সুখের ছিলো। ?
বিকেলে বাংলাদেশ লোকাল গাইডস এর ৫ম জন্মদিনের কেক কাটা হয়। এই সময় লক্ষ্মীপুর থেকে আগত লোকাল গাইডদের বানিয়ে আনা পিঠা ও কুমিল্লা থেকে আগত লোকাল গাইডস এর পক্ষ থেকে রসমালাই পরিবেশন করা হয়। সাথে স্ন্যাক্স ও দুই পর্বের চা ছিল বেশ মজাদার।
এই মিটআপ এ গুগল থেকে দুইজন অফিশিয়াল আসার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণবশত তারা আসতে পারে নাই যার কারণে তারা একটি শুভেচ্ছা বার্তা মেসেজ আমাদেরকে দিয়েছে। তবে আমরা খুব খুশি হতাম যদি তারা উপস্থিত থাকতো। কিন্তু আমাদের এই কষ্টটা লাঘব করতে তারা একজন আন্তর্জাতিক মানের ফটোগ্রাফার পাঠিয়েছিল আমাদের অনুষ্ঠান কভার করার জন্য।
পুরো আয়োজনে শেয়ার করা হয় গুগল ম্যাপ্স কে আরো ভালোভাবে সমৃদ্ধ করার নানা কৌশল ও স্ট্রীট ভিউ ট্রিক্স।
সন্ধায় অনেক আনন্দঘন আয়োজন শেষে শুরু হয় উথাল-পাতাল নাচের পর্ব। এখানে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও(আমার মত) অংশ নেয়।
মিটআপ এর সমাপ্তি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ লোকাল গাইডস এর মোডারেটর Mahabub ভাই।
এই মিটআপ এ গিফট স্পন্সর ছিলো Mens World সর্বোচ্চ কন্ট্রিবিউশনকারী ৫ জনকে দেওয়া হয় পুরস্কার। এবং ঈদুল ফিতর পর্যন্ত সকল অংশগ্রহণকারীর জন্য থাকছে ১০% ডিস্কাউন্ট মেন্স ওয়ার্ল্ড এর সকল শাখা থেকে।
রাত ৯ টায় ডিনারের আয়োজন ছিলো মজাদার। কিন্তু আগের খাবারগুলোই তো হজম হয়নি। তাই পেট পুরে খেতে না পারার আফসোস বরাবরই থেকে গেলো।
বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন, গুগল লোকাল গাইডসের ইতিহাসে কোন ১ দিনের মিটআপএ ৫ বার খাবার খাওয়ানাই। তাও আবার দুইবার ছিলো মেজবানী আয়োজন। অসংখ্য ধন্যবাদ চট্রগ্রামের লোকাল গাইডসদের যারা এই আয়োজনের পেছনে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন রাত-দিন।
দারুন একটা দিন ও রাত কাটালাম লোকাল গাইডস এর সাথে। যেটা নিজের নয় বরং সকল বাংলাদেশ লোকাল গাইডসদের মনে থাকবে আজীবন।
নোটঃ এই এলবামের বেশিরভাগ ছবি লোকাল গাইডস গ্রুপ থেকে কালেক্ট করা। আর কিছু আছে আমার তোলা।
#bdlg #LocalGuides #100thMeetUp




















