রাস্তায় হাটতে হাটতে এক স্হানে দেখলাম একজন শ্রমিক মাথায় ইটের বোঝা নিয়ে একটি দালানের উপর তলায় উঠে যাচ্ছে। এরা শ্রমিক, নির্মান শ্রমিক। সারাদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, মাথায় ইটের বোঝা নিয়ে রাজ মিশ্ত্রীকে ইটের যোগান দিয়ে যায়। কাজে কোন প্রকার গাফিলতি করা যাবে না, রাজ মিশ্ত্রী হাতের কাছে ইট না পেলেই হজম করতে হবে গালমন্দ।
আর কিছুদুর গিয়ে আর এক স্হানে দেখলাম একজন শ্রমিক কাঁধে ইটের ভার নিয়ে ইঠে যাচ্ছে উপর তলায়। কি পরিশ্রম! সেআ সকাণে বাড়ী থেকে এসেছে, আর কাঁধে ইটের ভার নিঢে চলছে অবিরত। দুপুরের খাওয়ার আগ পর্যন্ত কোন বিশ্রাম নেই। দুপুরে খাওয়ার পর আবার শুরু হবে একই রকম ভার বহন।
হঠাৎই মসে পরে গেল আমার নিজের কথা। ১৯৭১ সাল, ২৬ শে মার্চের পরই স্কুল বন্য়েধ হয়ে গেল। তখন আমি নবম শ্রেনীর ছাত্র। বাড়ীতে বসা, কোন কাজ নেই, লেখা পড়াও নেই। তখন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ব বিদ্যালয়ে কেবল নির্মান কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের গ্রামের অনেকেই সেখানে কাজ করতে যায়। আমাদের তখন খুব টানাটনির সংসার। একমাত্র বাবা সংসারের কার্যক্ষম ব্যক্তি। অনেকের সাথে আমিও যোগ দিলাম সেই কাজে।
ভোর রাতে বাড়ী থেকে বেড়িয়ে যাইতাম আর সারাদিন কাজ শেষে রাতে বাড়ী ফিরতাম। আমাদের বাড়ী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরত্ব চার মাইল, পায়ে হেটেই যাওয়া আসা করতাম। সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করার পর মজুরী দিত ২ (দুই টাকা)। তবে কন্ট্রাকটর সাহেব প্রতিদিন কাজ শেষে সবাইকে পারিশ্রমিক দিয়ে দিতেন।
বহুদিন পর আজ সে কথাটাই বারবার মনে পড়তে লাগল। এই এত পরিশ্রম, এত খাটুনী, মাথার ঘাম পায়ে ফেলা এত শ্রম দিয়েই তৈরী হয় এরকম সুরম্য অট্টালিকা। কিন্তু এইসব অট্টালিকাতে সরইসব শ্রমিকদে ঢুকার অনুমতি থাকে না, তাদেরকে কেই চিনেও না।


