আসলে যাওয়ার পথে গল্প থাকার কথা নয়, কিন্তু এয়ার টিকিট গিফট পাওয়ায় এবং অবরোধের কবলে পড়ায় এইখানে ও বিশাল শিক্ষনীয় গল্প তৈরি হয়েছে।
২০ নভেম্বর সকাল ১০ঃ৩০ এ ফ্লাইট ঢাকা থেকে। ফজর পড়ে ৬ঃ৩০ এ বাসা থেকে বের হয়ে মোগরাপাড়া বাস স্ট্যান্ড গিয়ে দেখি অবরোধের জন্য ঢাকার বাস ছাড়ছে না। হতাশ না হয়ে, সময় নষ্ট না করে লোকাল বাসে চিটাগাং রোড যাওয়ার জন্য উঠে পড়ি। চিটাগাং রোডে পৌঁছে দেখি মারামারি অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। রাস্তা পার হয়ে অটো নিয়ে চলে গেলাম স্টাফ কোয়ার্টার সময় সকাল ৮টা।
ওখানে পৌঁছে তখন শুধু বৌ নয় আমি নিজেই চিন্তায় পড়ে গেলাম। রাস্তা ভর্তি মানুষ অথচ কোন বাস চলতে দিচ্ছেনা। কন্ডিশন বুঝে ওকে বললাম ব্যাগ নিয়ে দাড়াও আমি দেখি কী করা যায়।
সিএনজি রিজার্ভ করে নিলাম এয়ারপোর্ট অব্দি। কোনভাবেই ৫০০ এর কমে যাবে না। আলহামদুলিল্লাহ ৯টার মধ্যেই পৌঁছে গেলাম।
সিএনজি থেকে নামার আগে মনে হলো, যেহেতু দেড় ঘন্টা সময় হাতে আছে এক্সট্রা একটা জনপ্রিয় খাবার চেখে দেখলে মন্দ কী…! এর মাঝেই অফিস কলিগ Shawon কে ফোন দিয়ে বললাম রেলস্টেশনে রাজা মামার চা খাবো চলে আসো।
ও আসতে আসতে ফ্রেশ হয়ে অপেক্ষা করলাম আর আসা মাত্রই চা খেয়ে নিলাম। আসলেই ১৫ টাকায় অসাধারণ চা বানায় রাজা মামা। চা শেষ করে কলিগকে বিদায় দিয়ে এয়ারপোর্ট হাটা দিলাম তখন হাতে আছে ১ঘন্টা।
বিমানে চড়ার অভিজ্ঞতা না থাকলে যা হয় আরকি ডোমেস্টিক ফ্লাইট যে আলাদা টার্মিনাল তা জানা ছিলোনা, ভাগ্যিস অল্পের জন্য বিদেশ চলে গিয়েছিলাম। সে যাই হোক আন্তর্জাতিক বহির্গমন টার্মিনালের সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে চিন্তা করছি এত অল্প সময় আছে হাতে কিভাবে কাভার করব। তাই এক আনসারকে জিজ্ঞেস করলাম তার পর উনি বলল এখানে না, ঘুরে নিচের দক্ষিণ পাশের টার্মিনালে যেতে। তখন সময় হাতে আছে 35 মিনিট তাড়াতাড়ি নেমে সিএনজি করে ওই টার্মিনালে গেলাম এরপরে ঢুকে দুই দফা চেক করার পরে টিকিট ইস্যু করে দেখি 10:25 বাজে।
তখন সব চিন্তা ছাপিয়ে দুইজন দুইজনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে মনে হল যেন দৌড় দিয়ে বিমান ধরেছি।
তার উপর প্রথম বিমানে চড়ার একটা এক্সাইটেশন কাজ করছে দুজনেরই।
অবশেষে 10:45 এ যাত্রা শুরু করে 11:30 এ কক্সবাজার পৌছাই। কক্সবাজার ল্যান্ডিং করার আগে পুরো বিচ আর হিমছড়ি পাহাড় দেখতে অসাধারণ লাগে। যদি আপনি ডান পাশের যাত্রী হন শুধু তবেই এই ভিউ দেখতে পাবেন। ডোমেস্টিক ফ্লাইট এর জন্য বাংলাদেশ বিমান আমার কাছে ভালোই মনে হয়েছে। অবশেষে যাত্রা শেষ করে অটো নিয়ে হোটেলে চলে যাই, যেখানে বাবু মামা আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রেখেছিল।
পুরো কক্সবাজার ট্রিপটা উনি সাথে ছিল। আনাচে-কানাচে সবকিছু ঘুরিয়ে দেখিয়েছে, সে বর্ণনা দিয়ে শেষ করা যাবে না তাও যতটুকু পারি লিখব। হোটেলে চেক ইন করে ফ্রেশ হয়ে নিতেই মামা এসে হাজির। এরপর একসাথে দুপুরের লাঞ্চ করি পউষী রেস্টুরেন্ট এ।
এখানকার খাবারের স্বাদ ভুলার মত না।







